নব্য রাজাকারদের রুখো

কোটা মুক্ত বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে এমন উদ্বেগ ছিল উদ্যোক্তামহলে।
আন্তর্জাতিক শিশেষজ্ঞরাও বলেছেন একই কথা।
সরকার কোটামুক্ত বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের সমস্যা ও সম্ভাবা যাচাইয়ের জন্য শতকোটি টাকা খরচ করে কনসালট্যান্ট নিয়োগ করেছিলো ফলাফল একই অথাৎ তারাও রিপোর্ট দিয়েছেন বাংলাদেশে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। Continue reading “নব্য রাজাকারদের রুখো”

শ্রমিক নেতা শ্রমিকের পেটে লাথি দিতে পারে না

মামা বাড়িতে এলেন।
চৈত্রের কাঠ ফাটা রোদ্দুরকে মাথায় নিতে ঠিক দুপুর বেলা রিক্সায় করে থামলেন আমাদের বাসার সামনে।
বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা আমার এই মামা। শ্রমিক নেতা না হয়ে ফিল্মের নায়ক হলে বেশি মানাতো। দুধে আলতা দিলে কেমন হয় জানি না তবে এত সুন্দর গায়ের রঙ আশে পাশের দু’চার দশ গ্রামে কেউ দেখেছে কিনা আমার জানা নেই। সবার কাছে রাঙা ভাই নামে তিনি পরিচিত। Continue reading “শ্রমিক নেতা শ্রমিকের পেটে লাথি দিতে পারে না”

পিশাচের রাজা পুলিশ

পুলিশের বর্বরতার শিকার হয়নি এমন পরিবার বাংলাদেশে বিরল।
বাঘে ছুলে আঠার ঘা, আর পুলিশে ছুলে কত ঘা তা বোধহয় বাবরেরও ধারণা নেই।
জনসাধারণকে হেনস্তা করতে কিংবা রুটি বানানো ময়দার মতো দলাই মলাই করতে এদের কোন জুড়ি নেই।
তবে ইদানিং এদের রুটিতে বোধহয় অরুচি হয়েছে, তাই পাখি শিকারের নেশায় ধরেছে। তাই কানসাট, শাবি কিংবা শ্রীপুর, যেদিকেই তাকাই পুলিশকে আমরা পাকা শিকারীর বেশে দেখতে পাই। Continue reading “পিশাচের রাজা পুলিশ”

হরতাল প্রতিরোধে গণভোট চাই

লজ্জা শব্দের সাথে পরিচয় নেই এমন বেহায়া পৃথিবীতে আজো পয়দা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। কারো লজ্জা কম, কেউ হয়তো লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে রাস্তাঘাটে নেংটো হয়ে হাটে, সবাই তাকে পাগল বলে ক্ষেপায়। আবার কেউ হয়তো লজ্জার সীমা ছাড়িয়ে পেঁচার মতো মুখ লুকিয়ে অন্ধকারে জীবন কাটিয়ে দেয়। আবার কেউ কেউ লজ্জার অর্থই বুঝে না, কখন লজ্জা পেতে হয় আর কখন লজ্জাকে ঝেড়ে ফেলতে হয় সে হিসেব কষতে জানে না। অনেক লাজুক মেয়ে আছে কোন পুরুষ হাত ধরলে লজ্জায় আর না বলতে পারে না, ধর্ষিতা হয়েও লজ্জায় কারো কাছে মুখফুটে বলতে পারে না, পরবর্তী লজ্জা যে আরো ভয়ংকর তা বুঝতে পারে না। Continue reading “হরতাল প্রতিরোধে গণভোট চাই”

মাগো! আমি রাজনীতিবিদ হতে চাই

আবারো গার্মেন্টস অগি্নকান্ডে পুড়ে পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন আমার মা, মায়ের উষ্ণ ভালোবাসায় মোড়ানো পবিত্র শরীর, ঝলসে গেছে কাজলা দিদির মেহেদী রাঙ্গানো হাত, স্বপ্ন মাখানো নিষ্পাপ মুখখানি, হারিয়ে গেছে বিপদে আপদে ছায়াদানকারী বাবা নামের বটবৃক্ষটা। ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে ঘরে ফিরে কারো কোলে আর ঝাপিয়ে পরা হবে না, কেউ আর দুধমাখা ভাত মুখে তুলে দেবে না। অভিমান করে বাবাকে আর বলা হবে না, “টুকটুকে লাল জামা না হলে এবার আর ঈদই করবো না বাবা”। কাজলা দিদির গলা জড়িয়ে শুয়ে শুয়ে সুয়োরানী-দুয়োরানীর গল্প শোনা হবে না আর। জ্বরতপ্ত কপালে শীতল হাত রেখে কেউ আর শুষে নেবে না আমার সকল দুঃখ, কষ্ট, বেদনা।
আমি যে দিকে তাকাই, আমার মায়ের ঝলসানো বিভৎস্য মুখখানি দেখতে পাই। বহুদূর থেকে মা যেন বলেন, খোকা, “সোনা মানিক আমার, আয় দু’টো দুধ মাখা ভাত খেয়ে যা”। Continue reading “মাগো! আমি রাজনীতিবিদ হতে চাই”

মুক্তিযুদ্ধ ও আমার ভাবনা

আমার জন্ম স্বাধীনতার অনেক পরে। স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদানের কোন সুযোগ হয়নি, দেখার সুযোগ হয়নি, তাই এ যুদ্ধ নিয়ে বড় বড় মন্তব্য করার ধৃষ্টতাও আমার নেই। আসলে সময়ই সব কিছুর প্রকৃত সাক্ষী। কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কে রাজাকার, কে সত্যের সৈনিক, কে অসুরের দোসর তা সঠিক ভাবে নিরুপনের সময় আমার মনে হয় আমরা পার করে এসেছি। এখন আমরা এ নিয়ে যতই গবেষণা করিনা কেন সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। একজন মানুষ কেবল মাত্র মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেই সকল সুযোগ -সুবিধা পাবে, ধরাছোঁয়ার উর্ধে থাকবে, আর একজন মানুষ রাজাকারের সন্তান হওয়ার পরও সে যদি এদেশের প্রতি অনুগত হয়, এদেশকে তার নিজের দেশ মনে করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করে তবুও তাকে দূরে ঠেলে দেব, তা আমার কাছে সামপ্রদায়িকতা বলেই মনে হয়। আমরা যারা স্বাধীনতার পরে জন্ম নিয়েছি, আমাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নেই। আমাদের কাছে যে ইতিহাস রয়েছে তা পারস্পরিক সাংঘর্ষিক। তাই আমি এ টুকুই বুঝি যে, এদেশে স্বাধীনতার জন্য, বৈদেশিকে শোষনের হাত থেকে মুক্তির জন্য, একটি মহান যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৭১ সালে। সে যুদ্ধে আমরা শত্রুদের পরাজিত করে স্বাধীনতা সোনালী সূর্য ছিনিয়ে এনেছি। আমাদের দায়িত্ব এখন এ দেশকে গড়া ও এদেশের স্বাধীনতাকে সম্মানের সাথে রক্ষা করা। ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। আমাদের ইতিহাস হচ্ছে আমরা অতীন নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমাদের পান্ডিত্য জাহির করতে ভালোবাসি। কিন্তু আমার মনে হয় আমরা যারা তরুন তাদের বর্তমান নিয়ে বেশি ভাবা উচিত। বর্তমানে কারা দেশের উন্নয়নে অন্তরায়, কারা অশান্তি সৃষ্টিকারী তাদেরকে চিহ্নিত করা। অতীতের রাজাকারদের আমরা স্পষ্ট করে, সঠিকভাবে নাও চিনতে পারি কিন্তু বর্তমানে যে বা যারা দেশের বিরুদ্ধে কাজ করবে তাদেরকে তো আমরা ইচ্ছে করলেই চিনতে পারবো। আর সর্বোপরি , “কেউ না করুক, আমি করবো কাজ” এই থিউরিতে বিশ্বাসী হয়ে আসুন আমরা আমাদের স্ব স্ব অবস্থানে থেকে দেশের জন্য কাজ করি, না পারলে অন্তত এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকি যা দেশের জন্য ক্ষতিকর, সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

হুমকির মুখে বাংলাদেশ

“তেত্রিশ বছর কেটে গেল, কেউ কথা রাখেনি”। কেউ কথা রাখে না। স্বাধীনতার তেত্রিশ বছরে ক্ষমতার পালা বদল হয়েছে বারে বার। এসেছে বাকশাল, এসেছে স্বৈরাচার, ’৯০-এর গণঅদ্ভুত্থানের পর এসেছে অস্থিতিশীল গণতন্ত্র।  কথার ফুলঝুরিতে সুখী-সমৃদ্ধশালী শান্তির নীড় রচনার স্বপ্নে বিভোর হয়েছে বাংলাদেশের হৃদয়। প্রতিবারই প্রতারিত হয়েছে এদেশের সাধারণ মানুষ, সোনালী স্বপ্নগুলো দুঃস্বপ্ন হয়ে বিষাক্ত ছোবল হেনেছে হৃদয়ের গভীরে। এখন দেশের মানুষ ভুলে গেছে স্বপ্ন দেখতে। এখন প্রভাতে সূর্য ওঠে অনিশ্চিত জীবনের বিভীষিকা নিয়ে। Continue reading “হুমকির মুখে বাংলাদেশ”