মিডিয়া ব্লাকআউট : মানবিক বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ

truthভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। বাকস্বাধীনতা আর মানবাধিকার নামক শব্দদুটিকে মুছে ফেলা হয়েছে বাংলাদেশের অভিধান থেকে। এখানে এখন কেবলই হায়েনার হুংকার, শ্বশ্বানের থমথমে ভীতিকর গুমোট হাওয়ায় বাংলাদেশের দমবন্ধ হওয়ার জোগার। দেশের গ্রাম-গঞ্জ, শহর-নগর-বন্দর, রাজধানীর অলি গলি রাজপথে চলছে ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতাকে দমনের নামে রক্তের হোলি খেলা। ১৪ বছরের ফুটফুটে গোলাপের কোন মূল্য নেই আফিমচাষীদের, পৌশাচিক নির্যাতনে, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে চোখ উপড়ে ফেলে পুলিশ হত্যা করেছে নবম শ্রেণীর ছাত্রকে, নির্বিচারের হত্যাযজ্ঞ চলছে প্রকাশ্য রাজপথে। কেবলমাত্র শিবির করার অপরাধে স্কুল-কলেজের ছাত্রদের ধরে ধরে হাত-পা-মাথায় পিস্তল-শর্টগান ঠেকিয়ে ঠেকিয়ে তাড়িয়ে তাড়িয়ে মৃত্যুযন্ত্রণা উপভোজ করছে পুলিশ নামের আওয়ামী হায়েনারা। এর পাশাপাশি পুশাসনের ছত্রছায়ায় পুলিশের কাধে কাধ মিলিয়ে পুলিশের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সাথে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলে পড়ছে পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়। আক্রমন করছে সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায়, আক্রমণ করছে গভীর রাতে। নির্যাতন চালাচ্ছে নিরস্ত্র নিরপরাধ নারী-পুরুষকে। বাড়ী-বাড়ী তল্লাশী করে দাড়ি-টুপিওয়ালা পুরুষদের, বোরকাওয়ালী পর্দানশীল নারীদের হয়রানি করছে, গ্রেফতার করছে, নির্যাতন করছে, হাত পায়ের নখ উপড়ে ফেলছে, চোখে সুঁচ ফুঁটিয়ে অন্ধ করে দিচ্ছে, লজ্জাস্থানে ইলেক্ট্রিক শক দিচ্ছে, নির্বিজকরণ ইনজেকশন পুশ করে তরুণ যুবসমাজকে বন্ধ্যা করে দিচ্ছে। আর এ সবকিছুই ঘটছে সমাজের বিবেক নামে খ্যাত মিডিয়াগুলোর সামনে। একই দিনে বগুড়ায় ৪ জনকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো, চট্টগ্রামে নির্মমভাবে যখম করে বিনা চিকিতসায় রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে হত্যা করা হলো আরো ৪ জনকে, মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হাটু মুড়িয়ে রাস্তায় বসিয়ে ক্যামেরার সামনেই হত্যা করলো এক তরুনকে। অথচ বাংলাদেশের মিডিয়া মুখে শক্ত করে খিড়কি এটে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এ ঘটনাগুলো যাতে বহিঃবিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য শাহবাগ মোড়ে রঙ্গীন সিনেমার শুটিং শুরু করে দিল মিডিয়াগুলো। Continue reading “মিডিয়া ব্লাকআউট : মানবিক বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ”

যুদ্ধকালীন সালাতের পদ্ধতি

প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বিদ্যা অর্জন করা ফরজ এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এর মানে এই নয় দূনিয়ার যাবতীয় জ্ঞানের ভান্ডার হতে হবে একজন মুসলমানকে। তবে জ্ঞানার্জনের মধ্যে একজন মুসলমান হিসেবে আল্লাহ নির্দেশিত যে সকল হুকুম আহকাম মেনে চলতে হয় তা সঠিকভাবে রাসূল (সাঃ) এর দেখানো পদ্ধতিতে পালন করার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগ্রহণ করা সর্বাগ্রে ফরজ। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ মুসলমানই সালাতের প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন জানেন না এমনটি কখনো কখনো যে নামাজের আরকান পর্যন্ত সংক্ষেপ করার সুযোগ আছে সে সম্পর্কে অনেকরই ধারণা নেই এবং এসব মৌলিক বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেয়া হয় না। আসুন আজ আমরা আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম রচিত ‘যাদুল মা’আদ’ গ্রন্থের ইবাদত অধ্যায়ের সালাত সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ থেকে জেনে নেই যুদ্ধকালীন তথা শত্রুভীতিকালীণ নামাজের পদ্ধতিসমূহঃ

Continue reading “যুদ্ধকালীন সালাতের পদ্ধতি”

সৌদি আরবের সময়ের সাথে মিলিয়ে ঈদ ও শবে ক্বদর পালন কতটা যৌক্তিক?

ঈদ মোবারক! পূর্ণ একটি মাস সিয়াম সাধনার পরে আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণের সেই অপার আনন্দময় পবিত্র সময় আমাদের সামনে।  আল্লাহ আমাদের ৩০ দিনের সিয়াম সাধনা কবুল করুন, আমাদেরকে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত দান করুন এবং পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনা যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ আমাদের উপর ফরজ করেছেন সেই তাক্বওয়া অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমীন।

এবার সৌদি আরবেও রমজান ৩০ দিনে পূর্ণ হয়েছে। ১৮ তারিখ পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের উপজাতি এলাকায় ঈদ উদযাপিত হয়েছে, ১৯ তারিখে সৌদি আরবসহ বেশ কিছু দেশে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে, বাংলাদেশসহ বাকী দেশগুলোতে ২০ আগস্ট ২০১২ রোজ সোমবার ঈদ উদযাপিত হবে।  ফলে এবারও বিশ্বে ৩ দিনব্যাপী ঈদ পালিত হচ্ছে।

সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে রমযানের রোজা রাখা, শবে ক্বদর পালন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উদযাপন নিয়ে ইদানিং বেশ আলোচনা চলছে, বিশেষ করে মিডিয়ায় ৩ দিনব্যাপী বাংলাদেশে ঈদ উদযাপনের খবর সচিত্র সম্প্রচারিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সৌদি আরবের সময়ের সাথে মিলিয়ে ইসলামী অনুষ্ঠানাদি পালনে যুক্তি দিচ্ছেন, আবার অনেকেই পাল্টা যুক্তি দিয়ে তা খন্ডন করছেন। উভয় পক্ষই যুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কোরআন-হাদীসকেই সাক্ষী মানছেন। তবে আমার কাছে ঈদ যেমন আনন্দের, ঈদ উদযাপন নিয়ে ভিন্ন মতের কারনে দেশে ৩ দিনব্যাপী ঈদ উদযাপিত হওয়াও কম আনন্দের নয়। আর আনন্দের বিষয় নিয়ে আলোচনা করাটাও আনন্দের, তাই স্বাভাবিকভাবে আমিও এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরছি। Continue reading “সৌদি আরবের সময়ের সাথে মিলিয়ে ঈদ ও শবে ক্বদর পালন কতটা যৌক্তিক?”

শবে ক্বদর

 শবে ক্বদর কি?

আমি এই (কুরআনকে) ক্বাদ্‌রের রাত্রিতে নাযিল করিয়াছি। তুমি কি জান, ক্বাদ্‌রের রাত্রি কি? ক্বাদ্‌রের রাত্রি হাজার মাসের চেয়েও অধিক উত্তম। ফেরেশতা ও রূহ এই (রাত্রিতে) তাহাদের রব্ব-এর অনুমতিক্রমে সব হুকুম হইয়া অবতীর্ণ হয়। এই রাত্রটি পুরাপুরি শান্তি ও নিরাপত্তাময় ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। (সূরা আল-ক্বাদ্‌র, আয়াত ১-৫)

শবে ক্বদর কেন?

শপথ এই সুস্পষ্ট প্রকাশকারী কিতাবের; আমরা ইহাকে এক বড় কল্যাণময় ও বরকতপূর্ণ রাতে নাযিল করিয়াছি। কেননা আমরা লোকদিগকে সাবধান করিতে চাহিয়াছিলাম। ইহা ছিল সেই রাত যে রাতে আমাদের নির্দেশে প্রতিটি ব্যাপারের বিজ্ঞোচিত ফায়সালা প্রকাশ করা হইয়া থাকে। আমরা একজন রাসূল পাঠাইতে যাইতে ছিলাম, তোমার রব্ব-এর রহমত স্বরূপ। নিঃসন্দেহে তিনিই সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু জানেন। (সূরা আদ্‌-দুখান, আয়াত ২-৬)

শবে ক্বদর কোন মাসে?

রমযানের মাস, ইহাতেই কুরআন মজীদ নাযিল হইয়াছে, যাহা গোটা মানব জাতির জন্য জীবন যাপনের বিধান আর ইহা এমন সুস্পষ্ট উপদেশাবলীতে পরিপূর্ণ, যাহা সঠিক ও সত্য পথ প্রদর্শন করে এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য পরিষ্কাররূপে তুলিয়া ধরে। কাজেই আজ হইতে যে ব্যক্তি এই মাসের সম্মুখীন হইবে, তাহার পক্ষে এই পূর্ণ মাসের রোযা আদায় করা একান্ত কর্তব্য।…. (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৫)

শবে ক্বদর কোন তারিখে?

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে বলেনঃ তোমরা তাকে (শবে কদর) রমযানের ১৭, ২১ ও তেইশের রাতে অন্বেষণ কর। অতপর তিনি (সাঃ) চুপ থাকেন। (আবু দাঊদ ১৩৮৪)

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) রমযানের শেষ দশকে ই’তিকাফ করতেন এবং বলতেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কাদর তালাশ  কর। (বুখারী ১৮৯৩)

আবু সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রমযান মাসের মাঝের দশকে ই’তিকাফ করেন। বিশ তারিখ অতীত হওয়ার সন্ধ্যায় এবং একুশ তারিখের শুরুতে তিনি এবং তাঁর সংগে যারা ই’তিকাফ করেছিলেন সকলেই নিজ নিজ বাড়ীতে প্রস্থান করেন এবং তিনি যে মাসে ই’তিকাফ করেন ঐ মাসের যে রাথে ফিরে যান সে রাতে লোকদের সামনে ভাষণ দেণ। আর তাতে মাশাআল্লাহ, তাদেরকে বহু নির্দেশ দান করেন, তারপর বলেন যে, আমি এই দশকে ই’তিকাফ করেছিলাম। এরপর আমি সিদ্ধান্ত করেছি যে, শেষ দশকে ই’তিকাফ করব। যে আমার সংগে ই’তিকাফ করেছিল সে যেন তার ই’তিকাফস্থলে থেকে যায়। আমাকে সে রাত দেখানো হয়েছিল, পরে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। (রাসূলুল্লাহ সঃ বললেন)ঃ শেষ দশকে ঐ রাতের তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তা তালাশ কর। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, ঐ রাতে আমি কাদা-পানিতে সিজদা করছি। ঐ রাতে আকাশে প্রচুর মেঘের সঞ্চার হয় এবং বৃষ্টি হয়। মসজিদে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সালাতের স্থানেও বৃষ্টির পানি পড়তে থাকে। এটা ছিল একুশ তারিখের রাত। যখন তিনি ফজরের সালাত শেষে ফিরে বসেন তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই যে, তাঁর মুখমন্ডল কাদা-পানি মাখা। (বুখারী ১৮৯১)

শবে ক্বদরের আলামত কি?

ক্বদরের রাতের আলামত বা লক্ষণ হলোঃ সেই রাত শেষে সকালের সূর্য উদিত হবে তা উজ্জল হবে কিন্তু সেই সময় তার কোন আলোকরশ্মি থাকবে না। (মুসলিম ১৬৬২)

শবে ক্বদরে করণীয়?

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রমযানের শেষ দশক আসত তখন নবী (করীম (সাঃ) তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন এবং রাতে জেগে থাকতেন ও পরিবার পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। (বুখারী ১৮৯২)

শবে ক্বদরের ফজিলত?

 আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লাইলাতুল কাদরে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করবে, তার পিছনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমতা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে। বুখারী-১৭৮০

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে রমযান সম্পর্কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় কিয়ামে রমযান অর্থাৎ তারাবীহর সালাত আদায় করবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূজ মাফ করে দেয়া হবে। (বোখারী ১৮৮২)

রমযানের রাত্রে যা করণীয়ঃ

হে চাদর মুড়ি দিয়া শয়নকারী! রাত্রিকালে নামাযে দন্ডায়মান হইয়া থাকে; তবে কিছু কম, অর্ধেক রাত্র কিংবা উহা হইতেও কিছুটা করিয়া লও। অথবা উহাপেক্ষা কিছু বেশী বৃদ্ধি কর। আর কুরআন থামিয়া থামিয়া পড়। আমরা তোমার উপর একটা দুর্বহ কালাম নাযিল করিব। প্রকৃতপক্ষে রাত্রিকালে শয্যা ত্যাগ করিয়া উঠা আত্মসংযমের জন্য খুব বেশী কার্যকর এবং কুরআন যথাযথভাবে পড়ার জন্য যথার্থ। দিনের বেলায় তো তোমার খুব বেশী ব্যস্ততা থাকে। তোমার রব্ব-এর নামের যিকির করিতে থাক আর সব কিছু হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া তাহারই জন্য হইয়া যাও। (সূরা আল-মুয্‌যাম্মিল, আয়াত ১-৮)

 হে নবী! তোমাদের রব্ব জানেন যে, তুমি কখনো রাত্রির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সময় আর কখনও অর্ধেক রাত্র এবং কখনো এক-তৃতীয়াংশ রাত্র ইবাদাতে দাঁড়াইয়া থাক। আর তোমার সঙ্গী-সাথীদের মধ্য হইতেও কিছু সংখ্যক লোক এই কাজ করে। রাত্র ও দিনের হিসাব আল্লাহই রাখিতেছেন। তিনি জানেন যে, তোমরা সময়ের গণনা যথাযথভাবে রাখিতে পার না। এই কারণে তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিলেন। এক্ষণে যতটা কুরআন তুমি সহজে পাঠ করিতে পার ততটাই পড়িতে থাক। তিনি জানেন, তোমাদের মধ্যে কিছু লোক অসুস্থ হইতে পারে আর কিছু লোক আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে বিদেশ সফর করে। আর কিছু লোক আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে। কাজেই যতটা কুরআন খুব সহজেই পড়া যায় তাহাই পড়িয়া নাও। নামায কায়েম কর। যাকাত দাও আর আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিতে থাক। যাহা কিছু ভালো ও কল্যাণ তোমরা নিজেদের জন্য অগ্রিম পাঠাইয়া দিবে, উহাকে আল্লাহর নিকট সঞ্চিত ও মওজুদ রূপে পাইবে। উহাই অতীব উত্তম আর উহার শুভ প্রতিফলও খুব বড়। আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাহিতে থাক। নিঃসন্দেহে আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়াবান। (সূরা আল-মুয্‌যাম্মিল, আয়াত ২০)

অবশ্য মুত্তাকী লোকেরা সেই দিন বাগ-বাগিচায় ও ঝর্ণাধারাসমূহের পরিবেষ্টনে অবস্থান করিবে। তাহাদের রব্ব তাহাদিগকে যাহা কিছুই দিবেন, তাহা সানন্দে তাহারা গ্রহণ করিতে থাকিবে। নিশ্চয়ই তাহারা সেই দিনটির আগমনের পূর্বে সদাচারী ও ন্যায়নিষ্ঠ ছিল। তাহারা রাত্রিকালে খুব কম সময়ই শয়ন করিত। এবং তাহারাই রাত্রের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করিত। আর তাহাদের ধন-মালে প্রার্থনাকারী ও বঞ্চিতদের জন্য স্বত্ব ও অধিকার ছিল। (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ১৫-১৯)

রহমানের বান্দাহ তাহারা যাহারা জমিনের বুকে নম্রতার সহিত চলাফিরা করে আর জাহিল লোকেরা তাহাদের সহিত কথা বলিতে আসিলে বলিয়া দেয় যে তোমাদের প্রতি সালাম; যাহারা নিজেদের রব্ব-এর সমীপে সিজদা নত হইয়া বো দাড়াঁইয়া থাকিয়া রাত অতিবাহিত করে। (সূরা আল ফুরকান, আয়াত ৬৩-৬৪)

হে নবী! আমরাই তোমার প্রতি এই কুরআন অল্প অল্প করিয়া নাযিল করিয়াছি। অতএব, তুমি তোমার আল্লাহর আদেশ-নির্দেশ পালনে ধৈর্য ধারণ কর। আর ইহাদের মধ্য হইতে কোন দুষ্কৃতিকারী কিংবা সত্য অমান্যকারীর কথা মানিও না। তোমার রব্ব-এর নাম সকাল সন্ধ্যা স্মরণ কর। রাত্রি বেলায় তাঁহার হুযুরে সিজদায় অবনত হও আর রাত্রির দীর্ঘ সময়ে তাঁহার তসবীহ করিতে থাক। (সূরা আদ-দাহার, আয়াত ২৩-২৬)

নামায কায়েম কর সূর্য পশ্চিমে ঢলিয়া পড়ার সময় হইতে রাত্রির অন্ধকার আসন্ন হওয়ার সময় পর্যন্ত। আর ফজরে কুরআন পাঠের স্থায়ী নীতি অবলম্বন কর; কেননা ফজরের কুরআন পাঠে উপস্থিত থাকা হয়। আর রাত্রিবেলা তাহাজ্জুদ পড়। ইহা তোমার জন্য নফল। সেদিন দূরে নয়, তোমার রব্ব তোমাকে মাকামে মাহমুদে সুপ্রতিষ্ঠিত করিয়া দিবেন। (সূরা বনী-ইসরাইল, আয়াত ৭৯)

প্রতিটি রাতের শেষ সময়ই মাগফেরাতের সময়ঃ

রাসূল (সাঃ) বলেনঃ রাতের শেষ সময়ে আল্লাহ্ দূনিয়ার দিকে নাযিল হন এবং বলেন, “ডাকার জন্য কেউ আছে কি যার ডা আমি শুনব, চাওয়ার জন্যে কেউ আছে কি যাকে আমি দেব, গুনাহ মাফ চাওয়ার কেউ আছে কি যার গুনাহ আমি মাফ করব?” (বুখারী)

 শবে ক্বদরের দোয়াঃ

হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে পছন্দ কর। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করো।

লিবাসুত তাক্বওয়া : অবশেষে শার্ট ছেড়ে পাঞ্জাবী গায়ে জড়ালাম

ইভটিজিং-এর কারন ও প্রতিকার প্রসঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে “নারীর কোন অঙ্গ সবচেয়ে আকর্ষণীয়?” শিরোনামে একটি ব্লগ লিখেছিলাম, বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছিলাম নারীর কোন কোন অঙ্গ পুরুষদেরকে আকৃষ্ট করে, কোন কোন অঙ্গের প্রদর্শনীতে বখাটেরা ইভটিজিংএ অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। কারন আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম যে নারী শরীরের কিছু স্পর্শকাতর  অঙ্গ প্রদর্শনই ইভটিজিং এর প্রধান কারণ, যা সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক সময়ের তুখোড় অভিনেতা ও বর্তমান তৃণমূল সরকারের বিধায়ক চিরঞ্জিত প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তার ভাষায় “মেয়েদের পোশাকের ধরন বদলাচ্ছে। সেটা পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য। তা নিয়ে কটূক্তি করলেই তাকে ‘স্ল্যাং’ বা ‘টন্ট’ বলা হয়”। তার এমন উক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে সমালোচনার ঝড় উঠলেও অভিনেত্রী  স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় প্রায় একই সুরে মন্তব্য করেন, “উটকো ঝামেলার হাত থেকে বাঁচতে বেশি খোলামেলা পোশাক রাস্তায় না পরাই ভাল”। না, আজ আমি নারীদের পোশাক পরিচ্ছদ নিয়ে আলোচনা করবো না, বরং আজ আমি পুরুষদের কিছু সমস্যা নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। আমার ধারণা বখাটে পুরুষরাই শুধু নারীদের আকর্ষণীয়ভাবে প্রদর্শিত স্পর্শকাতর অঙ্গ সমূহের পানে তাকিয়ে থাকতে পছন্দ করে, নারীরা পছন্দ করে তাদের দৃষ্টিকে নিম্নগামী রাখতে, সংযত আচরণ করতে অভ্যস্ত তারা। আমার ধারণার প্রথম অংশ তথা বখাটে পুরুষদের ক্ষেত্রে ঠিক থাকলেও নারীদের আচরণের ক্ষেত্রে আমি যে অনেকটা অন্ধকারে ছিলাম তা কিছু কিছু ঘটনায় আমার কাছে স্পষ্ট হতে থাকে। আমি পুরুষদের মাঝেই বখাটে খোঁজার চেষ্টা করেছি, যদিও নারী-পুরুষ উভয়ের মাঝেই বখাটে বিরাজমান। সুযোগ পেলে নারীরাও যে কম যায় না তা এখন বেশ বুঝতে পারছি। বছর খানেক ধরে বিভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে লক্ষ্য করেছি মেয়েরাও পুরুষের স্পর্শকাতর অঙ্গের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে পুরুষের চেয়েও আগ্রাসী মনে হয়েছে আমার কাছে। বিশেষ করে পুরুষরা নারীদের স্পর্শকাতর অঙ্গের দিকে তাকালেও চোখে চোখ পড়লে অনেকেই দৃষ্টি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়, তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে তার ভিন্নতা দেখেছি, যতক্ষণ না শিকার দৃষ্টির আড়াল হয় ততক্ষণ শকুনের দৃষ্টি আটকে থাকে প্যান্টের জিপারে। বিষয়টি প্রথমবার নজরে আসার পর থেকে বার বার পর্যবেক্ষণ করেছি এবং ফলাফল একই, জিপারে আটকে আছে দৃষ্টি, ঠিক যেমন মাঝে মাঝে আটকে যায় শিশুদের “ইয়ে”। বিষয়টি নিয়ে নিজের স্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি, ‘ফ্যাশন শো’র মডেলদের মতো প্যান্ট পড়ে ক্যাটওয়াক করে দেখিয়েছি এবং তার সহায়তায় সত্যটি আবিস্কারে সফল হয়েছি যে আসলে যতটা যত্নসহকারে সতর্কতার সাথেই শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো প্যান্টের আড়ালে লুকোনোর চেষ্টা করি না কেন তা বিপরীত লিঙ্গের দৃষ্টিতে ঠিকই ধরা পরে যায়। ছোটবেলা থেকেই প্যান্ট-শার্ট পড়ায় অভ্যস্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কখনোই ভেবে দেখার সুযোগ হয়নি, বিশেষ করে কেউ কখনো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় নি যে, প্যান্ট-শার্ট শরীরের আকর্ষণীয় অঙ্গগুলোকে শতভাগ ঢেকে রাখতে মোটেই সক্ষম নয়। এখন প্যান্ট-শার্ট গলে যদি স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো নারীদের সামনে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং তারা যদি বখাটে পুরুষদের মতো অনৈতিক কাজে আমন্ত্রণ জানায়, তবে বর্তমান সময়ে সমাজের খুব কম পুরুষের পক্ষেই আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে ইউসুফের (আঃ) মতো নারীদের আমন্ত্রণ উপেক্ষা করা সম্ভব হবে। Continue reading “লিবাসুত তাক্বওয়া : অবশেষে শার্ট ছেড়ে পাঞ্জাবী গায়ে জড়ালাম”

শাহাদাতের সাক্ষী হয়ে রইল ফেসবুক

৭ ফেব্রুয়ারী ২০১১, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে শিবিরের একজন সদস্য শিবিরসঙ্গীতের প্রথম দুই লাইন লিখে স্ট্যাটাস দিলেন,

“পদ্মা মেঘনা যমুনার তীরে আমরা শিবির গড়েছি
শপথের সঙ্গীন হাতে নিয়ে সকলে নবীজীর রাস্তা ধরেছি”
শিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুভ হোক।

প্রতিক্রিয়ায় একজন জবাব দিলেন, মাত্র ১৩১ জন (প্রকৃত সংখ্যা ১৩৬) শহীদ দিয়ে ইসলামী বিপ্লব সম্ভব নয়। শহীদের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। কতজন শহীদ দিয়ে বিপ্লব সম্ভব তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য হলো, কারো মতে বিপ্লবের সফলতার জন্য শহীদের সংখ্যা মূখ্য কোন বিষয় নয়।

অতপর, সেই সদস্য জবাব দিলেন,

“আল্লাহর কাছে দোয়া করি পরবর্তী জন বা ১৩৭তম শহীদ হিসেবে তিনি যেন আমাকে পছন্দ করেন, আমীন।” Continue reading “শাহাদাতের সাক্ষী হয়ে রইল ফেসবুক”

যুদ্ধাপরাধের বিচার : জাতিকে বিভক্তির মাধ্যমে হিংসাত্মক যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার করা হলো ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা ও ঢাকসুর সাবেক জিএস, ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আজমকে। তাকে গ্রেফতার করা হবে, এটি বছর খানেক আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দ যেমন জানতেন, জানতেন রাজনীতি সচেতন মহল, ঠিক তেমনি ভাবে অধ্যাপক গোলাম আযমও তার গ্রেফতারের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন, এবং বলা যায় এ কারনে নিশ্চিন্তও ছিলেন তিনি। গ্রেফতার যখন হতেই হবে, তখন শুধু শুধু চিন্তা করে সময় নষ্ট করার মানে হয় না। তাইতো তিনি কিছুদিন আগে একুশে টিভির নাছোরবান্দা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, “জুলুম করলে জুলুম সহ্য করতে হবে“। তিনি যেমন জানতেন প্রহসনের বিচারের নামে তার উপর জুলুম করা হবে, ঠিক তেমনি তিনি এটিও জানতেন যে আল্লাহই সর্বক্ষমতাবান, তাঁর কাছেই সবাইকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তাই তিনি ছিলেন নির্ভিক, তাইতো তিনি দৃপ্তকন্ঠে ঘোষণা করেন, “যদি অন্যায়ভাবে মৃত্যু দেয়া হয়, তাহলে শহীদ হওয়ার গৌরব পাওয়া যায়। সে হিসাবে, ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসাবে, শাহাদাতের কামনা করি” । তবে আদালতে যে ফাঁদে ফেলে তাকে গ্রেফতার করা হবে এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চমহল ছাড়া আর কারোই জানা ছিলনা বলেই মনে হয়। কেননা আদালত অধ্যাপক গোলাম আযমকে ১১ তারিখ হাজিরা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়, অন্যথায় গ্রেফতারী পরোয়ানার কথা জানানো হয়। নির্দিষ্ট তারিখে সকালেই আদালতে হাজিরা দিতে এসে সরকারের প্রতারণার ফাঁদে আটক হন বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত নব্বই বছর বয়সী মজলুম জননেতা অধ্যাপক গোলাম আযম। Continue reading “যুদ্ধাপরাধের বিচার : জাতিকে বিভক্তির মাধ্যমে হিংসাত্মক যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা”

গোলাম আযমের গ্রেফতারে বিজয়ের পথে আরেক ধাপ এগোল জামায়াত

জামাত-শিবির সম্পর্কে এক ধরণের অস্বস্তিকর ভীতির সঞ্চার করা হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। ভীতি সঞ্চার করা হয়েছে নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে, অতি যত্নের সাথে, দীর্ঘ দিনের অক্লান্ত সাধণার মাধ্যমে। এরই ফলশ্রুতিতে যারা জামাত-শিবিরের কোন কর্মীকে সরাসরি দেখার সুযোগ পায়নি তারা যখন এদের নাম শুনতে পায়, তাদের দূর্বল মনের পর্দায় ভেসে ওঠে দন্ত-নখর ছড়িয়ে হামলে পড়া ভয়ংকর রাক্ষসের বিভৎস চেহারা। “রগ কাটা” গালি শুনতে শুনতে অভ্যস্ত সাধারণ মানুষে ভাবতেই পারে, জামাত-শিবিরের কর্মীরা ক্ষুর নিয়ে নরসুন্দরের মতো পথে প্রান্তরে, হাটে-বাজারে ঘুরে বেড়ায় কঁচি কঁচি ছাত্রদের তরতাজা রগের সন্ধানে, যেন প্রথম সুযোগেই কসাইয়ের নিঁপুন হাতে হাত পায়ের রগ কেটে ম্যাগি নুডুলস বানিয়ে খাবে। কেউ কেউ আরো একধাপ এগিয়ে মগবাজার, পল্টন, কাটাবন কিংবা জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোয় পথ চলতে চলতে শুনতে পান ভূগর্ভস্থ সারি সারি ট্যাংক, সাজোয়াযানের কুচকাওয়াজ।

কিন্তু জামায়াত-শিবিরের যেকোন নেতা-কর্মীর সাথে সেই ভীতসন্ত্রস্ত নাগরিক প্রথম দর্শনেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান। কল্পণার আর্টগ্যালারিতে সজ্জিত ভয়ালদর্শন রাক্ষসের সাথে নীরিহ অতি সাধারণ মানুষটিকে মেলাতে একেবারেই অপরাগ হন। আরো আশ্চর্য, প্রতি নিয়ত রাস্তাঘাটে, হাটে বাজারে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত শিবিরের এই কল্পিত দানবেরাই প্রতিপক্ষের হাতে নির্যাতিত হয়, হাত-পায়ের রগ খুইয়ে বিছানায় কাতরায়, প্রকাশ্যে লগি-বৈঠার আঘাতে আঘাতে কুকুরের মতো নিহত হয়। সুদীর্ঘ সময় ধরে অঙ্কিত এই কল্পিত রাক্ষস-খোক্ষসেরা নিয়মিত মিছিলে নির্যাতিত হয়, মিটিংয়ে নিপীড়নের শিকার হয়, মানববন্ধনে রক্তাক্ত হয়, প্রতি মুহুর্তে এদের মৃত্যুর দুয়ার থেকে পালিয়ে বেড়াতে হয়। Continue reading “গোলাম আযমের গ্রেফতারে বিজয়ের পথে আরেক ধাপ এগোল জামায়াত”

নির্ভিক গোলাম আযম : শক্তির উৎস কি?

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম-বরিশাল, ঘাতক দালাল নিমূল কমিটি এবং আরো আধডজন কমিটির আয়োজনে শহীদ মিনারে বিজয়ের ৪০ বছর উৎযাপন উৎসবে যোগ দিলাম। চারশ’ এর মতো আসন দিয়ে সাজানো শহীদ মিনার চত্তরের পুরোটাই প্রায় ফাঁকা। প্রথম সারিতে পাঁচ-ছ জন দর্শক, ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আরো কিছু দর্শক এবং শেষ সাড়িতে বেশ কিছু দর্শক নিজেদের মতো করে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করছে। সব মিলে অনুষ্ঠানে পয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ জন দর্শক। মাঝের সারিগুলো প্রায় ফাঁকা রেখে শেষের সারিতে বসা দর্শকদের দেখে সহজেই অনুমান করা যায় পড়ন্ত বিকেলে আমার মতো ক্লান্ত শ্রান্ত পথচারী আর রিক্সাওয়ালারা দখল করেছে আসনগুলো। শহীদ মিনারে কে বক্তৃতা দিল, কি নিয়ে আলোচনা করলো তাতে তাদের কিই বা আসে যায়, কাজের ফাঁকে একটু বসার সুযোগ মিলেছে, এতেই খুশী সবাই। দর্শকদের মাঝে মেয়েদের সংখ্যাই বেশী, পুরুষের মাঝে দাড়ি-টুপীওয়ালা দেখলাম কয়েকজন। বুঝতে পারলাম, এরাই প্রকৃত শ্রোতা, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আগড়ম বাগড়মের জোর কতো তা-ই পরখ করতে এসেছে হয়তো। Continue reading “নির্ভিক গোলাম আযম : শক্তির উৎস কি?”