শান্তি! শান্তি!! শান্তি!!!

মৃত্য কি? মৃত্যু নিয়ে আমি যত ভাবি ততই গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাই। কখনো মনে হয় মৃত্যু যাবতীয় দুঃখ, কষ্ট, বেদনা থেকে মুক্তি, আবার কখনো মনে হয় মৃত্যু মানেই নরক নামক সীমাহীন যন্ত্রনার হাতছানি।

অত্যাধুনিক বিভিন্ন সংজ্ঞার চাপে মৃত্যুর জান ওষ্ঠাগত। তবু মৃত্যুর এ সব সংজ্ঞা আমাকে কিছুতেই মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র দেখাতে পারে না। বরং এসব রংচঙা সংজ্ঞাগুলোকে সর্বোচ্চ মৃত্যুর আলামত হিসেবে মেনে নেয়া যেতে পারে। মৃত্যু সম্পর্কে প্রাচীন সংজ্ঞাই তাই আমার কাছে গ্রহণীয় মনে হয়, “শরীর ও আত্মার বিচ্ছেদ ই মরণ”।

শরীর ও আত্মার বিচ্ছেদের সঠিক কোন আলামত আছে কি না জানা নেই। হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়া মানেই যে মৃত্যু নয় তা আজ বিজ্ঞান প্রমাণ করেছেন। তাহলে কখন একটি প্রাণী মৃত তা সঠিকভাবে বলা যাবে? আমার শরীরে যে কোটি কোটি কোষ রয়েছে আত্মা কি তাদের সবার ওপরই জালের মতো বিস্তার করে আছে? যখন মৃত্যু হয় তখন কি প্রতিটি কোষ থেকেই একে একে আত্মাকে বের করে ফেলা হয়, নাকি আত্মা নির্দিষ্ট কোন অংশে অবস্থান করে? Continue reading “শান্তি! শান্তি!! শান্তি!!!”

কে যাবে জান্নাতে?

মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন জাগে, কে যাবে বেহেস্তে? মুসলিমদের ধারণা কেবল মুসলমানরাই বেহেস্তে যাবে, খৃষ্টানদের ধারণা, তারা ছাড়া আর কেউ যাবেন না বেহেস্তে, ইহুদীর বেলায়ও একই কথা। পবিত্র কোরআনে সূরা বাকারা ৬২ নম্বর আয়াতে এ প্রশ্নের মীমাংসায় ইংগিত আছে। তবে  আয়াতটার সঠিক অর্থ পাওয়া যায় না। একেকটি তাফসিরে একেক অর্থ। আয়াতে তিনটি শর্তের বিনিময়ে জান্নাতে স্থান দেয়ার ঘোষণা আছে, এক) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, দুই) আখেরাতের প্রতি ইমান আনা তিন) আমলে সলেহ করা, ইহুদী, খৃস্টান, সাবেয়ি কিংবা মুসলমান যেই হোক না কেন এ তিনটি শর্ত পালন করলে জান্নাতে স্থান পাবে। জানিনা আমি ভুল কিছু বলে ফেলছি কি না। Continue reading “কে যাবে জান্নাতে?”

বিশ্বাস

আল্লাহ। খুব ছোট একটি শব্দ। অথচ এই শব্দটি মানুষের জীবনে এনে দেয় বৈপ্লবিক পরির্বতন। কেউ আল্লাহকে বিশ্বাসী করেন, কেউ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চান স্রষ্ঠার অস্তিত্ব। আল্লাহকে বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস শক্তিশালী দুই মেরু। আল্লাহ আছেন, সারা বিশ্বকে তিনি সৃষ্টি করেছেন, সকল জীবের জীবন মরণ সবকিছুই তার আয়ত্বাধীন। কিন্তু সুস্পষ্ট কোন নিদর্শন দিয়ে এ বিশ্বাসকে প্রমাণ করা যায় না। আবার আল্লাহ বলতে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই এ কথা বলা সহজ হলেও অকাট্য যুক্তি দিয়ে একে প্রমাণ করা অসম্ভব। অথচ আল্লাহকে বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস মানুষের জীবনে শক্তভাবে প্রভাব বিস্তার করে। Continue reading “বিশ্বাস”

ঘোড়া দাবড়ানোর দিন এলো আবার

রমজানে খতম তারাবী কোন হাফেজ সাহেব কত দ্রুত পড়াতে পারেন, সাধারণত তার উপর হাফেজ সাহেবদের সম্মান ও সম্মানী নিভর্র করে। এ ক্ষেত্রে রমজান শুরু হতেই শোনা যায় যে এপাড়ার মসজিদের হুজুর চল্লিশ মিনিটে খতম তারাবী পড়ান তো ওপাড়ার মসজিদে আধা ঘন্টায় খতম তারাবী পড়ানো হয়। ফলে রিক্সা ভাড়া দিয়ে হলেও সবাই দৌড়ায় এসব মহান মহান ব্যক্তিদের মসজিদে, যারা কোরআন তেলাওয়াতকে নামিয়ে এনেছেন পুরোহিতদের মন্ত্রপাঠের স্তরে। তারা যা পড়েন তা তারা নিজেরাও বোঝেন কিনা সন্দেহ, তবে আমরা আম জনতা যে দুয়েকটি সূরা ছাড়া বাকি তেলাওয়তের বিন্দু বিসর্গও বুঝি না তা তারা বোঝেন না কিংবা বলা যায় তারা বোঝার চেষ্টাও করেন না। Continue reading “ঘোড়া দাবড়ানোর দিন এলো আবার”

রমজান নিয়ে ভাবনা

বছর ঘুরে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বারতা নিয়ে পশ্চিমাকাশে উদিত হয়েছে একফালি বাঁকা চাঁদ। তাই
রমজানকে ঘিরে মুসলিম আম-জনতার মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনার শেষ নেই। রমজানকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য সকলের মাঝেই এক ধরণের ব্যাকুলতা, অনাবিল আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে সবার মনে, যার কোন শেষ নেই, পরিসীমা নেই।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজান। মানবজাতির হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী
সম্বলিত কিতাব আল-কুরআন নাজিলের মাস মাহে রমজান। রমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস, আত্মশুদ্ধির মাস,
ধৈর্যের মাস, সহিষ্ণুতার মাস, অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার মাস, ইসলামী ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের মাস। এ মাসের মধ্যেই রয়েছে এমন একটি রাত যে রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। আর এ মাসের ১৭ তারিখেই বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধ, যে যুদ্ধে মাত্র ৩১৩ জন জানবাজ আল্লাহর অকুতোভয় মুজাহিদ বদর প্রান্তরে গোটা পৃথিবীর বাতিল মতাদর্শী শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, ছিনিয়ে এনেছিল ইসলামের প্রথম বিজয়।
এ মাসের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মহান রাব্বুল আ’লামীন পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের
উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে যেভাবে করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া
(পরহেজগারী) অর্জন করতে পার।” Continue reading “রমজান নিয়ে ভাবনা”

ইসলাম আমার বিশ্বাসঃ বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলা আমার অধিকার

প্রথম মানব হয়রত আদম (আঃ) কত যুগ আগে পৃথিবীতে মানবজাতির সূচনা করেছিলেন তা আমার জানা নেই, ইতিহাস গবেষকরা হয়তো এ ব্যাপারে ভালো যুক্তি দিতে পারবেন। মানবজাতির শুরু থেকে সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন দর্শন মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। শুরুতে মানুষের জীবনটা একেবারেই সাদামাটা বা সহজ-সরল হলেও সময়ের তালে তাল মিলিয়ে জীবন ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে। এক সময় মানুষ সমাজ তৈরী করে, সমাজ পরিচালনার জন্য সামাজিক নিয়ম-কানুন তৈরী করে, সল্প পরিসরে হলেও সামাজিক জীবনে রাজনীতি এসে যায়। মানুষ চলার পথে বিভিন্ন আচার-আচরণে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, সাদামাটা মানব জীবনকে বর্ণিল করার জন্য সৃষ্টি করে কৃষ্টি, সংস্কৃতি। মানুষ প্রয়োজনে পণ্য বিনিময় শেখে, ক্রয়-বিক্রয় শেখে, আস্তে আস্তে তাদের সামনে অর্থনীতি ফুলে ফলে পল্লবে সুশোভিত হয়ে ধরা দেয়। প্রতিটি পদেেপ মানুষ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হয়ে খোঁজে এর যথোপযুক্ত উত্তর, সহজ-সরল মানুষের জীবনে ধীরে ধীরে বিজ্ঞান স্থান করে নেয়। এভাবে মানব জাতি পূর্ণতার দিকে এগিয়ে চলে, সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে চলে, উন্নতির দিকে অগ্রসর হয়। Continue reading “ইসলাম আমার বিশ্বাসঃ বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলা আমার অধিকার”

ইসরায়েলী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চাই ইসলামী ঐক্য

যদি প্রশ্ন করা হয় পাষাণ প্রাচীর পেরিয়ে মানবাধিকারের অমিয় বাণী পৃথিবীর কোন প্রান্তে পৌঁছেনা, পৃথিবীর কোন অঞ্চলের মায়েরা সন্তান প্রসব করেন সন্তান হারিয়ে বিলাপ করার জন্য, কোন দেশের শিশুদের রক্তে প্রতিনিয়ত রঞ্জিত হয় উষ্ণ ধূসর মরুভূমি, আধিপত্যবাদী অস্পৃশ্য শকুনেরা দন্ত নখর বিছিয়ে কোন দেশের স্বাধীনতা, বেঁচে থাকার অধিকার খুবলে খুবলে খায়? জবাব একটাই সে অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্য, সেদেশের নাম ফিলিস্তিন।

১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব আর্থার জে. ব্যালফোর ফিলিস্তিনে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নরক নামিয়ে আনে। অথচ এ ঘোষণার পরও ১৯১৮ সালে আরবীয় মুসলিম গাদ্দারেরা ব্রিটেনের কাধে কাধ মিলিয়ে তুর্কি অটোম্যান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করে তোলে। Continue reading “ইসরায়েলী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চাই ইসলামী ঐক্য”

বহু বিবাহ ও ইসলাম

প্রকৃতিগতভাবে মানুষের ভেতর পরস্পর বিপরীত দ’ুটি স্রোত প্রবহমান৷ একটি স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিতে চায় অন্যায়ের দিকে আবার বিপরীত স্রোতটি তাকে সতর্ক করে, অন্যায় থেকে ফিরিয়ে রাখতে চেষ্টা চালায়৷ সত্যের স্রোতটা যখন অন্যায় সম্পর্কে বিভিন্ন যুক্তি দেখায় তখনই অসত্যের স্রোতটা মানুষকে আস্বস্ত করে যে তার কাজটি মোটেও অন্যায় হবে না৷ অন্যায় স্রোতের যুক্তি যখন ন্যায় স্রোতকে পরাস্ত করে তখনই মানুষ অন্যায়ে গা ভাসায়৷ Continue reading “বহু বিবাহ ও ইসলাম”

ইসলামী গুলবাগে ফুটেছে দূর্গন্ধময় tiffy ফুল

প্রকৃতিগতভাবে মানুষের ভেতর পরস্পর বিপরীত দ’ুটি স্রোত প্রবহমান। একটি স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিতে চায় অন্যায়ের দিকে আবার বিপরীত স্রোতটি তাকে সতর্ক করে, অন্যায় থেকে ফিরিয়ে রাখতে চেষ্টা চালায়। সত্যের স্রোতটা যখন অন্যায় সম্পর্কে বিভিন্ন যুক্তি দেখায় তখনই অসত্যের স্রোতটা মানুষকে আস্বস্ত করে যে তার কাজটি মোটেও অন্যায় হবে না। অন্যায় স্রোতের যুক্তি যখন ন্যায় স্রোতকে পরাস্ত করে তখনই মানুষ অন্যায়ে গা ভাসায়। Continue reading “ইসলামী গুলবাগে ফুটেছে দূর্গন্ধময় tiffy ফুল”

আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে???

মানুষ কে সৃষ্টি করেছেন?
ঃ আল্লাহ। গাছপালা, পশুপাখি চাঁদ সুরুজ এসব কার সৃষ্টি?
ঃ আল্লাহর সৃষ্টি?
আচ্ছা আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?
শিশুদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে লাজওয়ার হন নি এমন জ্ঞানী বিরল। এটা কি ওটা কি, ওদের জানার কৌতুহল বড়দেরকে মাঝে মাঝে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেয়।
আমি একজন ঘোর আস্তিক। আল্লাহর আমার রব, তিনিই বিশ্ব সংসার সৃষ্টি করেছেন, নিয়ন্ত্রণ করছেন এ বিশ্বাসে আমার বিন্দুমাত্র সংসদ নেই। তার পরও মাঝে মাঝে মনের অজান্তেই প্রশ্ন জাগে সৃষ্টির শুরুতে কি ছিল। বাচ্চাদের প্রশ্নের জবাবে আমরা বলি, আল্লাহকে কেউ সৃষ্টি করেনি, আল্লাহ সব সময়ই ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তবু মন আরো কিছু যেন জানতে চায়। মুসা (আঃ) আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বিশ্বাসীদের একজন হয়েও যেমন চাক্ষুস আল্লাহকে দেখার লোভ সামলাতে পারেন নি, তেমনি আমাদের যুক্তিবাদী মনও মাঝে মাঝে জানতে চায় সৃষ্টির শুরুর কথা। আল্লাহ সংক্রান্ত প্রশ্নে আমরা বলি, যে সকল প্রশ্নের উত্তরের সাথে ইহলৌকিক বা পারলৌকিক কোন কল্যাণ নেই সে প্রশ্ন না করাই উত্তম, এতে বিশৃংখলা দেখা দেয়, অকল্যাণ হয়।
অনেকদিন ধরেই আমার মাথায়ও প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে যে, আল্লাহকে কি কেউ সৃষ্টি করেছেন? আচ্ছা, ১০ কে যদি ৩ দিয়ে ভাগ দেই তবে তার সঠিক উত্তর দিতে পারবে এমন জ্ঞানী কেউ কি আছেন বা যন্ত্র কি পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়েছে? না হয় নি। ঠিক তেমনি আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন তারও কোন উত্তর হতে পারে না কেননা যদি মেনে নেয়া হয় আল্লাহকে কেউ সৃষ্টি করেছে তবে একই প্রশ্ন আবারো তো আসবে যা ওই অংকের মতোই অমীমাংসিত থেকে যাবে।
হঠাৎ করেই আমার মনে প্রশ্ন জাগল, সৃষ্টির শুরুর ক্ষণটিতে বা সৃষ্টি শুরুর পূর্বক্ষণে কি কিছু ছিল? আমার প্রশ্নে আমিই চমকে উঠলাম, কারণ আমার প্রশ্নের মধ্যেই তো এর জবাব রয়েছে। আমি যখনই বললাম, পূর্বক্ষণ, তখনই তো আমি ‘ক্ষণ’ বা একটি সময়ের উপস্থিতি মেনে নিচ্ছি। হ্যা সৃষ্টির শুরুতে বা সৃষ্টিও পূর্বক্ষণে একটি জিনিসই ছিল, তা হলো “সময়”। আর সময় কি? হাদীসের জবাব শুনুন।
“লা তুছাবি্ববুদ্দাহার, আনাদ্দাহার, উকালি্লবুল লাইলা ওয়ান নাহার”। অর্থাৎ তোমরা সময়কে গালি দিওনা, আমি নিজেই সময়, আমি দিন ও রাত্রি পরিবর্তন করি। আল্লাহ তুমি আমাকে মা করো, আমার এ প্রশ্নে যদি তোমার প্রতি কোন সংশয় জেগে থাকে, তবে তা তুমি ক্ষমা করো। আর আমিতো এখন সকল সংশয় থেকে মুক্ত।