কালো বেড়াল এর খোঁজ মিলল সুধাসদনে

অবশেষে জানা গেল কালো বেড়ালটি লুকিয়ে আছে সুধা সদনে। কালো বেড়ালটির অপকর্মের সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত খোদ আর্মি চীফ অব স্টাফ!

অবাক হলেন? হওয়ারই কথা। প্রথমে সংবাদটি যখন দেখলাম তখন কিছু সময়ের জন্য আমিও স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিলাম। ৭০ লাখ টাকা সহ রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন উন্মুক্ত  চোরের (ঘুষ কেলেংকারী জনসম্মুখে আসার পরে তার অপকর্ম আর গুপ্ত রইল কই!) এপিএস এবং রেলের পূর্বাঞ্চলীয় জিএম বিজিবির হাতে ধরা পরার পর কারো যেমন বুঝতে অসুবিধা হয় নি যে পূর্বাঞ্চল রেলে সাড়ে ৩ হাজার লোক নিয়োগে ৪’শ কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের  হিস্যা কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দেয়ার জন্য মন্ত্রীমহোদয়ের বাড়ী পানে গাড়ীটি ছুটে চলছিল। বাস্তবে ঘটনা যদি তাই হতো তবে সুরঞ্জিত বাবুকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে মন্ত্রীসভা থেকে বের করে দিয়ে শেখ হাসিনা হাত ধুয়ে ফেলতে পারতেন। কিন্তু বিষয়টি এখানেই থেমে থাকে নি। কেঁচো খুড়তে গিয়ে শুধু বিষধর সাপই নয় বরং সাপের খামার আবিস্কার হতে শুরু হয়েছে।  শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ানে  সংবাদদাতা উইলিয়াম নিকোলাস গোমেজ ঘুষের টাকার আসল গন্তব্যস্থলের ঠিকানা প্রকাশ করে বিশ্বরাজনীতিতে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। রিপোর্ট মতে পূর্বাঞ্চলীয় রেলে নিয়োগবাণিজ্যের ৪’শ কোটি টাকার মধ্যে যে চালানটি বিজিবি কর্তৃক আটক হয় তা সরাসরি সুধাসদনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আর সুধাসদনে কোন কালো বেড়ালটি ঘাপটি মেরে থাকে? হ্যা, বুঝতে একটু কষ্ট হওয়ারই কথা, কারণ কালো বেড়ালটি সাহারা-মার্কা ফিয়ার এন্ড আগলি ক্রীম মেখে ধবধবে চেহায়া নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। চেহারা দেখে যদিও কালো বেড়ালটি খুঁজে পাওয়া দুরূহ তবু  মিটিংএ জনসভায়, সংসদে, সংসারে যে অশ্রাব্য গালাগাল-প্রতিহিংসার শ্লোগান গেয়ে বেড়ান তাতে চোখ থাকলে ধবধবে ফিয়ার এ্ন্ড আগলির আড়ালে কুৎসিত কালো বেড়ালটি অনেকেরই চোখে পড়ে যায়।

কি ঘটেছিল সেদিন আসুন নিকোলাসের রিপোর্টে চোখ বুলাই। Continue reading “কালো বেড়াল এর খোঁজ মিলল সুধাসদনে”

হুমকির মুখে গণমাধ্যম, চারিদিকে বইছে তবু বাংলা বসন্তের হাওয়া

অত্যন্ত উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে জানানো যাচ্ছে যে ১২ মার্চ ঢাকা চলো কর্মসূচী সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ নেয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে গণমাধ্যম। ইতোমধ্যেই বেশকিছু চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছে; শাহরিয়ারের স্বপ্নবিলাস, বিএনপি লাইভ ডট কম, ঢাকা চলো ডট কমসহ অসংখ্য ওয়েবসাইট বাংলাদেশ থেকে ভিজিট করা যাচ্ছে না। কিছু কিছু সাইট পুরো দেশব্যাপী নিষিদ্ধ রয়েছে, কিছু ওয়েবসাইট নির্দিষ্ট আইএসপি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আরো উদ্দেগ্যের ব্যাপার হলো খালেদা জিয়ার ভাষণ সম্প্রচারের সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের ফ্রিকোয়েন্সিতে গান ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে ফলে সরাসরি সম্প্রচারে খালেদা জিয়ার ভিডিও দেখা গেলেও দর্শকরা বেশ কিছু সময় খালেদা জিয়ার ভাষণের পরিবর্তে গান শুনতে বাধ্য হয়েছেন। Continue reading “হুমকির মুখে গণমাধ্যম, চারিদিকে বইছে তবু বাংলা বসন্তের হাওয়া”

যুদ্ধাপরাধের বিচার : জাতিকে বিভক্তির মাধ্যমে হিংসাত্মক যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার করা হলো ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা ও ঢাকসুর সাবেক জিএস, ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আজমকে। তাকে গ্রেফতার করা হবে, এটি বছর খানেক আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দ যেমন জানতেন, জানতেন রাজনীতি সচেতন মহল, ঠিক তেমনি ভাবে অধ্যাপক গোলাম আযমও তার গ্রেফতারের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন, এবং বলা যায় এ কারনে নিশ্চিন্তও ছিলেন তিনি। গ্রেফতার যখন হতেই হবে, তখন শুধু শুধু চিন্তা করে সময় নষ্ট করার মানে হয় না। তাইতো তিনি কিছুদিন আগে একুশে টিভির নাছোরবান্দা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, “জুলুম করলে জুলুম সহ্য করতে হবে“। তিনি যেমন জানতেন প্রহসনের বিচারের নামে তার উপর জুলুম করা হবে, ঠিক তেমনি তিনি এটিও জানতেন যে আল্লাহই সর্বক্ষমতাবান, তাঁর কাছেই সবাইকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তাই তিনি ছিলেন নির্ভিক, তাইতো তিনি দৃপ্তকন্ঠে ঘোষণা করেন, “যদি অন্যায়ভাবে মৃত্যু দেয়া হয়, তাহলে শহীদ হওয়ার গৌরব পাওয়া যায়। সে হিসাবে, ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসাবে, শাহাদাতের কামনা করি” । তবে আদালতে যে ফাঁদে ফেলে তাকে গ্রেফতার করা হবে এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চমহল ছাড়া আর কারোই জানা ছিলনা বলেই মনে হয়। কেননা আদালত অধ্যাপক গোলাম আযমকে ১১ তারিখ হাজিরা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়, অন্যথায় গ্রেফতারী পরোয়ানার কথা জানানো হয়। নির্দিষ্ট তারিখে সকালেই আদালতে হাজিরা দিতে এসে সরকারের প্রতারণার ফাঁদে আটক হন বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত নব্বই বছর বয়সী মজলুম জননেতা অধ্যাপক গোলাম আযম। Continue reading “যুদ্ধাপরাধের বিচার : জাতিকে বিভক্তির মাধ্যমে হিংসাত্মক যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা”

গোলাম আযমের বিচার : কারাগারে খুন হওয়ার আশঙ্কা!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তীব্র ঘৃণার সাথে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গোলাম আযমকে প্রিজনসেলে জামাই আদর করা  হচ্ছে না। নব্বই বছরের বৃদ্ধ এই মজলুম জননেতার প্রতি মানবিক দূর্বলতার কারনে কোন ধরণের সহানুভূতি কেউ না দেখিয়ে ফেলে, সে ব্যাপারেও তিনি সতর্ক করেন। স্পষ্ট বললেন, গোলাম আযমকে বেশী সুযোগ সুবিধা দিলে দোষীদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। এর মাধ্যমে মূলত সাহারা খাতুন গোলাম আযমকে যাবতীয় সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত করার নির্দেশই দিলেন প্রিজনসেলের কর্মকর্তাদের। ইতোমধ্যে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের থাকা, খাওয়াসহ বেশ কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে প্রিজন সেলে যেহেতু গোলাম আযমকে পুরোপুরি হেনস্তা করা যাচ্ছে না তাই যে করেই হোক তাকে দ্রুত জেল খানায় ঠেলে দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। গোলাম আযম সুস্থ্য আছেন, তার আর প্রিজন সেলে থাকার প্রয়োজন নেই ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্ন বক্তব্য দেয়ানো হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসকদের মাধ্যমে। অথচ প্রিজন সেলের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার কারা কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, নিয়মানুযায়ী এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনরূপ মন্তব্য করতে পারেন না। তারপরও হাসপাতালের ডাক্তারদেরকে বলির পাঠা বানিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করা হচ্ছে। কিন্তু কেন? সন্দেহ জাগে, কারাভ্যন্তরে অশুভ কোন ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতেছে সরকার যার দায় নিজেরা নিতে প্রস্তুত নয় সরকার দায় চাপাতে চায় ডাক্তারদের ওপর। অনেকেই ইতোমধ্যে আশংকা করছেন, হয়তো কারাভ্যন্তরেই হত্যা করা হবে তাকে, “তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও বার্ধক্যজনিত কারণে গোলাম আযম কারাগারে ইন্তেকাল করেছেন” এমন সংবাদ আওয়ামী মূখপাত্র পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রচার করলেই হলো। কারন, গোলাম আযমকে বিচারে দোষী সাব্যস্ত করার মতো প্রমাণ ট্রাইব্যুনালের হাতে নেই, বিচারে তাকে ফাঁসির দন্ড দেয়া অসম্ভব। তাই হত্যাই হতে পারে ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ নেয়ার আওয়ামী সরকারের বিকল্প হাতিয়ার। Continue reading “গোলাম আযমের বিচার : কারাগারে খুন হওয়ার আশঙ্কা!”

ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মসজিদে পুজা! হাসিনার বাংলাদেশে ব্যালে ড্যান্স!!

মসজিদে পুজো! মুসলমানতো দূরের কথা, অমুসলিম হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, ইহুদী, শিখ, বাহাই ইত্যাদি ইত্যাদি ধর্মের কোন অনুসারীর পক্ষেও এটা কল্পনা করা অসম্ভব যে মসজিদে হিন্দু ধর্মীয় পুজো সম্ভব। তবে এই অকল্পনীয় কাজটি ইতোমধ্যেই বাস্তবে সম্পন্ন করে ভারত সরকার দেখিয়ে দিয়েছে ধর্ম নিরপেক্ষতা বলতে যার যার ধর্ম পালন নয়, বরং সকল ধর্মের মাঝেই হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতির অনুপ্রবেশ, অনুকরণ, অনুসরণই শেষ কথা। গত ৬ অক্টোবর হিন্দুধর্মীয় দূর্গাপুজার বিজয়া দশমীতে ভারতের শিলচরে মসজিদকে পুজোমন্ডপ বানিয়ে রীতিমতো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ধর্মনিরপেক্ষ ভারত ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছে বিভৎস্য ব্রাহ্মণ্যবাদ। Continue reading “ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মসজিদে পুজা! হাসিনার বাংলাদেশে ব্যালে ড্যান্স!!”

মানুষ না আওয়ামী লীগ?

কতটা নির্মম হলে মানুষ পশুকেও হার মানায়? কতটা নির্দয় হলে শয়তানও লজ্জায় মুখ লুকায়? কুকুরেরও ধর্ম আছে, প্রতিপক্ষ আত্মসমর্পন করলে নির্যাতন বন্ধ করে ওরা। অথচ কি আশ্চর্য, মানুষের মুখোশ এঁটে পাশবিক উল্লাসে মাতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-পুলিশলীগ নামের হিংস্র হায়েনার দল। না, হায়েনা নয় ওরা, হায়েনার পাশবিকতারও সীমা আছে, আওয়ামী রক্ষীবাহিনীর বিভৎসতার কোন সীমা নেই, শেষ নেই। ১২ টি ইসলামী দল আহুত ও প্রধান বিরোধী দল গুলোর সমর্থনে “আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস” রক্ষার দাবীতে ডাকা দেশব্যাপী হরতালে পুলিশ নামের আওয়ামী জানোয়ার আর রক্ষীবাহিনীর সশস্ত্র তান্ডবে স্তম্ভিত বিশ্ববিবেক। বিশ্বজুড়ে আজ একটাই প্রশ্ন, কি হচ্ছে বাংলাদেশে?

Continue reading “মানুষ না আওয়ামী লীগ?”

ইসলাম বিরোধী আ’লীগ সরকারের বর্বরতা থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই

أعوذ بالله من الشيطان الرجيم Continue reading “ইসলাম বিরোধী আ’লীগ সরকারের বর্বরতা থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই”

ধর্ষিত গণতন্ত্রের ঘায়ে প্রথম আলোর নুণের ছিঁটা

সুসময়ে বন্ধু বটে অনেকেই হয়, অসময়ে হায় হায় কেউ কারো নয়। দু:সময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু। আর এ বন্ধুত্বের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা। প্রথম আলো পত্রিকাটি প্রথম থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। তবে অন্য সব দলীয় পত্রিকা থেকে এ পত্রিকাটির ভিন্নতা এখানেই যে এটি সার্বক্ষণিক দলীয় প্রচার প্রচারণা চালানোর পক্ষপাতি নয় বরং মোক্ষম সময়ে আঘাত করার পক্ষপাতি। কারো পক্ষে সার্বক্ষণিক বকবক করে গেলে সবাই তাকে চাটুকার কিংবা দালাল ভাবে, আবার সার্বক্ষণিক একটা নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ ভাব নিয়ে কারো পক্ষে কথা বললে সবাই তাকে সত্যিজ্ঞান করে। প্রথম আলো পত্রিকাটি বিজ্ঞতার সাথে সে দায়িত্বটিই যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। তারা জানে কি করে পাঠক ধরে রাখতে হয় এবং কিভাবে পাঠককে বিভ্রান্ত করতে হয়। Continue reading “ধর্ষিত গণতন্ত্রের ঘায়ে প্রথম আলোর নুণের ছিঁটা”