টিকা আতংক

টীকা আতংকে ভোগেনি আমাদের আমলের এমন শিশুর হদিস পাওয়া যাবে না। কাউকে ভয় দেখাতে হলে টিকার কথা বললেই হতো, মুহুর্তে অনেকে প্যান্টই ভিজিয়ে ফেলত। শিশুদের রাক্ষস খোক্ষসের চেয়ে টিকার কথা বললেই বেশী চাপে রাখা যেত। রোগ প্রতিরোধে যেমন টীকা কার্যকর, তার চেয়ে বেশী কার্যকর শিশুদের ঘুম পাড়ানো ওষুধ হিসেবে। আমার দেখার সুযোগ হয়েছে টীকা দেয়ার আজব যন্ত্রগুলো, এক কথায় ভয়ংকর। পশ্চিমা দেশে যেমন কাউ বয়রা যেমন নতুন গরুর শরীরে গণগণে লোহা দিয়ে ব্রান্ডিং করে, এদেশৈও টীকা দিয়ে তেমনি শরীরে টীকার সার্টিফিকেট সেটে দেয়া হতো। আজো আমাদের মুরুব্বীরা বাহুতে বাহুতে টীকার কুৎসিত দাগ আর ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন নিয়ে ঘুরে বেড়ান। তবে টীকা দেয়ার পদ্ধতিটি যতটা কুৎসিতই হোক না কেন টীকা নিতে গিয়ে সে আমলে কেউ মারা যেত এমন সংবাদ শোনা যায় নি। Continue reading “টিকা আতংক”

মৃত্যু উপত্যকার নাম বাংলাদেশ

লাশের মিছিল বেড়েই চলেছে। বেগুনবাড়ী, নীমতলী, কল্যাণপাড়া, নাইক্ষ্যংছড়ি, প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নিত্য নতুন নাম। শোকের মিছিলের যেন শেষ নেই, যেন পুরো দেশটাই বিভীষিকাময় মৃত্যু উপত্যকা।

আজ ভোররাতে আবার পাহাড়  ধ্বসে ঝরে গেল ৬ সেনাসহ ৫১টি তরতাজা প্রাণ। পুরো জুন মাসটাই যেন মাতমের মাস। ১২১ জন পুড়ে পুড়ে অঙ্গার করে পুরো দেশ কাঁদিয়েছে নিমতলী, বড় লোকের পাপের পাহাড়ে পিষ্ট করে ২৫টি অসহায় খেটেখাওয়া মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল বেগুনবাড়ী। অথচ এর প্রতিটি দূর্ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবী আমরাই দায়ী। আমরাই প্রতিনিয়ত খুঁড়ে চলেছি নিজের হাতে নিজেদেরই গোর। Continue reading “মৃত্যু উপত্যকার নাম বাংলাদেশ”

অনিবার্য সংঘাতের দিকে ধেয়ে চলেছে দেশ

কয়েকদিন আগে বিরোধী দলীয় নেত্রীর দেশব্যাপী হরতাল আহ্বানে ক্ষুদ্ধ হয়ে “দেশনেত্রী! আরেকবার ভাবুন” শিরোনামে  ব্লগ লিখেছিলাম। আমার পরিচিত অনেক বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে এজন্য বেশ বাঁকা কথাও শুনতে হয়েছে। তবুও আমি অনঢ় ছিলাম, কিছুতেই আমি হরতালকে সমর্থন করার কারণ খুঁজে পাই না। একদিনের হরতালে দেশে ক্ষতি হয় ৫০০ কোটি টাকা, অবরোধে আরো বেশী। হরতালকে এতটাই ঘৃণ্য মনে হয় যে হরতাল প্রতিরোধে গণভোটের আব্দার করে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ব্লগে গলা ফাটিয়েছি। কিন্তু আজ বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে যখন হরতালের বিকল্প খুঁজে চলেছি, তখন চারিদিকে শুধুই দূর্ভেদ্য পাষাণ প্রাচীরের মাথা ঠুকে যায়।

আজ কাকডাকা ভোরে বন্ধু ফোনে টিপ্পনী কাটে, “কি হে গান্ধী, এবার কি বলবে? হরতাল ভালো নাকি বাকশাল?” আমি মৃত্যুকূপে বাকশালী দৈত্য বধে অন্ধকারে আলাদিনের প্রদীপ হাতরে মরি, তবু স্যাঁতসেতে পাথুরে দেয়াল ছাড়া কিছুরই নাগাল মেলে না।  বাকশালী বন্দীশালায় হরতাল-অবরোধ নামের ঘৃণ্য নদর্মা ছাড়া পালানোর বিকল্প পথ খুঁজে পাই না। Continue reading “অনিবার্য সংঘাতের দিকে ধেয়ে চলেছে দেশ”