তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু : বিকল্প প্রস্তাব

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বাংলাদেশ আবার নিশ্চিত অনিশ্চিয়তার মাঝে ডুবতে বসেছে। হরতালের সংস্কৃতি থেকে প্রায় বেরিয়ে আসা বাংলাদেশের গণতন্ত্র আবারো সহিংস রূপ ধারণ করছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে যে সমুদ্রসম অবিশ্বাস আর হিংসার বিচরণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুকে ঘিরে তা আজ পরিণত হয়ে অতলান্ত মহাসাগরে। যে অবিশ্বাস আর অনিশ্চয়তার হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে রাজনৈতিক দলগুলো ১৭৩ দিনের হরতাল আর অসংখ্য মায়ের বুক খালি করে অর্জন করেছিল নির্দলীয় নিরপেক্ষ (?) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, আদালতের অনাকাঙ্খিত রায়ে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া পুরণো সেই দগদগে ঘায়ে আজ প্রবল রক্তক্ষরণ। ২০০৬ সালে সংসদে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেয়েছিল যে ব্যবস্থাটি, ২০০৪ সালে হাইকোর্টের রায়ে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আজ তা কোন অশুভ ইশারায় উচ্চ আদালত বাতিল করে দেশকে আজ নরকের ওমে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দিতে উঠে পড়ে লাগল তা ভেবে ভেবে পুরো জাতি ক্লান্ত। Continue reading “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু : বিকল্প প্রস্তাব”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু : সুখে থাকলে হাইকোর্ট কিলায়

সুখে থাকলে ভুতে কিলায় বলে একটা কথা চালু আছে সমাজে। এখন তো দেখি সুখে থাকলে হাইকোর্ট কিলায়। না, দেশ ঠিক সুখে ছিল বলা যাবে না বরং তীব্র অ্যাসিডিটিতে আক্রান্ত উচ্চপদস্ত কর্মকর্তার মতো একবুক জ্বালা নিয়ে থমকে ছিল। তবে আদালতের অযাচিত হস্তক্ষেপে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ উত্তপ্ত কড়াই থেকে সরাসরি দোযখে পতিত হলো। আদালতের রায় শিরোধার্য, আর তাই আদালতের রায় মেনে বাংলাদেশের শিরচ্ছেদ করার মহাযজ্ঞ শুরু হলো। যেন মানুষ নয়, পৃথিবীতে টিকে থাকার একমাত্র অধিকার আইন-আদালতের। হাতুড়ে ডাক্তারের মতো যে কোন সমস্যার এক দাওয়াই, আদালত নামের মহাতীৎকুটে কুইনাইন। আরোগ্য হলে তো ভালো, না হলে মরুক গিয়ে, জনসংখ্যার ভারে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশ জঞ্জাল মুক্ত হলো, এটাই যেন বড় পাওয়া। অথচ “প্রয়োজনের কারণে আইনসম্মত এবং জনগণের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন”, সুপ্রাচীনকাল ধরে চলে আসা নীতিমালা ভুলতে বসেছে আদালত। একবারও ওরা ভেবে দেখে না, আইন-কানুন মানুষের কল্যাণেই। যে আইনে মানুষের অকল্যাণ সে তো আইন নয়, অভিশাপ; অবশ্যই তা পরিত্যাজ্য। Continue reading “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু : সুখে থাকলে হাইকোর্ট কিলায়”

মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস

এক সাগর রক্তের বিনিময়ের অর্জিত স্বাধীনতা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সমরে আমাদের প্রত্যাশা ছিল শোষণ মুক্ত, দারিদ্রমুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ। যুদ্ধ শেষ হয়েছে প্রায় চল্লিশটি বছর আগে, অথচ স্বাধীনতা নামের সুখপাখিটা আজো আমাদের কাছে অধরাই থেকে গেছে। যে পাকিস্তানী শোষকদের অত্যাচার, নিপীড়ন, বঞ্চনা আর গোলামী থেকে মুক্তি পেতে লড়েছি আমরা, সে দেশের সাধারণ মানুষ আজো গোলামীর জিঞ্জিরে বন্দী। দারিদ্রের ভয়াবহতা বেড়েছে, নির্যাতনের তীব্রতা বেড়েছে, মানবতা বিরোধী অপরাধের মাত্রা বেড়েছে। বেড়েছে বর্ণবাদ, বিভাজন আর হিংসার রাজনীতি। রাজা যায় রাজা আসে, সাধারণ মানুষের তাতে কিই বা যায় আসে। পাকিস্তানী নরপিশাচেরা বিতাড়িত হয়েছে, শাসনের ছড়ি আজ ভাইয়ের হাতে। অথচ সে ভাই ভাতৃত্বের ধার ধারে না, ভাইয়ে ভাইয়ে বিভাজনের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই ব্যস্ত। শত্রুর হাতের চাবুকের আঘাত সওয়া যায়, ভাইয়ের হাতে ফুলের আঘাত যে সয় না। অথচ ভাইয়েরা ফুল নয়, চাবুক নয় বরং ময়না কাটায় ক্ষতবিক্ষত করেছে আপন ভাইয়ের শরীর। Continue reading “মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস”

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বীয় দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করায় দেশের আপামর জনতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে, দেশ পেয়েছে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ খুশী হলেও জনবিচ্ছিন্ন কিছু অসাধারণ মানুষেরা, মগজের ভারে যারা চলৎশক্তি হারিয়ে ফেলেছে তারা রাষ্ট্রপতির এ মহতি উদ্যোগকে অসাংবিধানিক ও অনৈতিক বলে অভিহিত করেছেন। Continue reading “নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার”