হুমকির মুখে দেশ, দেশবাসী হুশিয়ার !!!

বাংলাদেশ শিক্ষাক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, ইতিহাসের শিক্ষা সককিছুই অপূর্ণাঙ্গ। এখনো নাম দস্তখত করাকেই শিক্ষিত হওয়ার মাপকাঠি ধরা হয়। আর সেই শিক্ষিতের হারও ৬৫% এর নীচে । শিক্ষা বিস্তারে, শিক্ষার উন্নয়নে তাই সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। আর এ কথা কে না জানে যে জাতীয় বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশটিই বরাদ্দ করা হয় শিক্ষা খাতে।

বর্তমান আওয়ামী সরকার শিক্ষাকে যে কতটুকু গুরুত্ব দেয় তার প্রমাণ ইতোমধ্যেই দেশবাসী চাক্ষুষ করেছেন। বিশেষ করে ইতিহাস শিক্ষার ব্যাপারে তাদের যে প্রয়াস-প্রচেষ্টা তা বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধাপরাধী ইস্যু নিয়ে ইতোমধ্যে দেশকে সুস্পষ্ট দু’টি শিবিরে বিভক্ত করেছে, যার একটি অংশ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে ইতোমধ্যেই বিপর্যস্ত। জামাত শিবিরকে সমূলে নির্মূলের জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মিটিং ডেকে নির্দেশনা দিয়েছেন, স্বরাষ্টমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশব্যাপী শিবির নিধনে চিরুনী অভিযানের নিদের্শ দিয়েছেন। এ দ্বারা তারা জাতিকে ইতিহাস শেখানোর মহতি আয়োজন করেছেন, আর সে ইতিহাস বাকশালী ত্রাসের ইতিহাস, সে ইতিহাস একদলীয় স্বৈরতন্ত্রের ইতিহাস। তবে সমস্যা একটাই, তারা নিজেরাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে নি, একদলীয় ফ্যাসিস্ট বাকশালী স্বৈরতন্ত্রের অবসান যে কত নির্মমতায় হয়েছিল তা তারা বেমালুম ভুলে গেছে। এ প্রজন্ম বাকশালের বিভৎস চেহারা দেখেনি, তাই বাকশালী বায়োস্কোপের রমরমা সরকারী আয়োজন। আমরা পঁচাত্তর পরবর্তী প্রজন্ম ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার অপেক্ষায় রইলাম।

জামাত শিবির নিধনই যদি সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য হতো তবে বিএনপিকে রাজপথে নামতে উস্কে দেয়ার কথা নয়। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরাও বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধের দায় না নেওয়ার জন্য প্রেশক্রিপশন দিচ্ছেন বিভিন্ন টকশোতে, যাতে কোনঠাসা জামাত শিবিরকে সমূলে নিমূল করা যায়। হঠাৎ করেই জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার জন্য সরকার নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে, বদলিয়েছে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নাম, রাজপথে নেমেছে বিএনপি। শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপিকে শিক্ষা দিতেই জিয়ার নাম বদল করেছেন তিনি।  শিক্ষা দানের ব্যাপারে তার এমন উৎসাহ সত্যিই চমকপ্রদ। শুধুমাত্র জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জিয়া নাম মুছে ফেলতেই প্রয়োজন হবে ১২০০ কোটি টাকার যে টাকায় বিনামূল্যে মাধ্যমিক ছাত্রদের হাতে তুলে দেয়া যেত চারটি বছরের বই। তাহলে দেশের যে সকল প্রতিষ্ঠানে জিয়ার নাম জড়িয়ে আছে তা মুছে ফেলতে কত হাজার কোটি টাকার শিক্ষা বাজেট প্রয়োজন হবে তা বোধ করি শেখ হাসিনারও অজানা। এ ছাড়া পাঠ্যপুস্তক থেকে জিয়ার নাম মুছতে হলে, যে সব জিয়াভক্ত জিয়ার নাম লালন করেন হৃদয়ে তাদের হৃদয়কে রক্তাক্ত করতে পুলিশ বাহিনীর পেছনে খরচ করতে হবে, হয়তো বা প্রয়োজন হবে বিশাল বাজেটের নতুন আরেক রক্ষিবাহিনীর। জিয়ার নাম মুছতে রক্ষীবাহিনী দিয়ে পিষে পিষে মারা হবে ইসলাম ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের অনুসারীদের। অবশ্য ছাত্রলীগ ইতোমধ্যে ছাত্র হত্যা-নির্যাতনে যে পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছে তাতে নতুন করে রক্ষিবাহিনী প্রয়োজন নাও হতে পারে। তাই তো আশংকা, আওয়ামী পুলিশ আর ছাত্রলীগের হাতে দেশটা মরকের ভাগাড়ে পরিণত হতে খুব বেশী দেরী হয়তো নেই।

ইতোমধ্যেই দাদাদের আশীর্বাদ নিয়ে এসেছেন শেখ হাসিনা, আড়াইশ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মুলো ঝুলিয়ে দিয়েছেন আমাদের, ২০১২ সালে শেষ হবে গ্রীড লাইন তৈরীর কাজ, প্রতিক্ষার অবসান হবে ভারত-বাংলাদেশ মহামিলনের। ইতোমধ্যেই কি তার সাজসাজ রব পরে যায় নি? গতরাত থেকে শুরু হয়েছে পাহাড়ী সেনাবাহিনীর যুদ্ধ, আহত হয়েছেন সেনা, উত্তপ্ত পাহাড়ী জনপদ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই সন্ত্রাসের জনপদ পার্বত্যাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে শান্তিপ্রিয় বাঙ্গালীদের হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। টিপাইমুখ বাধ নিয়ে ভারত চালাচ্ছে নানাবিধ ষড়যন্ত্র, সমুদ্রে আনাগোনা ভয়ংকর সব হাঙ্গরের। নাসাকা বাহিনী, বিএসএফের হাতে বিপন্নপ্রায় বাংলাদেশ। এতসব কিছু কিসের ইংগিত? তাহলে আওয়ামী লীগ কি শেখাতে চায় জাতিকে?

জামাত শিবির নিধনের নামে একদিকে দু’শিবিরে বিভক্ত দেশ, নাম পরিবর্তনের নামে চলছে বিএনপিকে রাজপথে ব্যস্ত রাখার আয়োজন, আয়োজন দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার। অপরদিকে ভারতের সাথে চলছে গোপন চুক্তি, চলছে পার্বত্যাঞ্চল বিকিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র। জনগনকে বিভ্রান্ত করে, ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের অশুভ ফন্দি এটেছে সরকার। হুমকির মুখে বাংলাদেশ।

দেশবাসী হুশিয়ার।

4 Replies to “হুমকির মুখে দেশ, দেশবাসী হুশিয়ার !!!”

  1. বিএনপি কে শিক্ষা দিতে শেখ হাসিনা যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, আওয়ামীলীগকে শিক্ষা দেবার জন্য বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই ধরনের পদক্ষেন নেবে…. মাঝখানে দেশের বারোটা বাজবে…. ওই প্যারোডি গানটি মনে পড়ছে অনেক দিন পর….

    “নেতানেতৃর গুতা গুতি জনতার দফা শেষ
    আহারে দেশের রাজনীতি—
    নেতানেতৃর গুতা গুতি জনতার দফা শেষ ।।”

    [উত্তর দিন]

  2. আওয়ামী লীগ বারবার একই ভুল করছে আর একই ট্রাজিক পরিণতি লাভ করছে- এ ই যেন আওয়ামী লীগের নিয়তি। আওয়ামী লীগ আবার স্বজন হারানো এবং মহান নেতার মৃতু্র মধ্য দিয়ে বাকশাল কায়েমের স্বপ্নভঙ্গের মাধ্যমে বাস্তবের জমিনে জেগে উঠে কি-না তা-ই এখন দেখার বিষয়। এদের কোনো আদর্শ নেই নেই কোনো পরমার্থিক ভাবানার যোগ্যতা। এরা নিদারুণভাবে স্বার্থপর, বস্তবাদী আর ভারতের পা চাটা দালাল। এরা একটা স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে বলে মনে করে। তারা মনে করে একটি প্রতিষ্ঠিত রাস্ট্র ব্যবস্থাকে তারা গুড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশ বানাতে যখন তারা পেরেছে তখন সব ধরনের দাঙ্গাবাজী কর্মকান্ড ও যাচ্ছেতাই কাজ করার অধিকার তাদের রয়েছে। তাদের মানসগঠনে দাঙ্গাবাজীর প্রভাব তুমুলভাবেই বহাল আছে। তারা এটা ভাবতে পারে না যে, পাকিস্তান উল্টিয়ে বাংলাদশে কায়েমের পথে আপামর জনগণের সর্মথন ছিল তাই বলে যে আওয়ামী লীগের বর্তমান দালালী নির্ভর, মেধাশূন্য, স্বার্থবাদী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পিছনে জনগণের সমর্থন থাকতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। এই সহজ জ্ঞানটুকু যেন আওয়ামী লীগকে আবার কোনো বড় হত্যাযজ্ঞের মূল্যে গ্রহণ করতে হয় এটাই প্রার্থনা। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি যেন না হয় এটাই কামনা। …

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.