মত প্রকাশে শালীনতা

কেউ যখন কোন ভালো কাজের সংকল্প করে তবে তার নামে একটি নেকি লেখা হয়, খারাপ কোন চিন্তা করলে কোন পাপ লেখা হয় না। বায়তুল্লাহর বিষয়টি অবশ্য ভিন্ন, সেখানে খারাপ চিন্তার জন্যও মাশুল গুণতে হয়। আল্লাহ মানুষকে পাপের শাস্তি দিয়ে জাহান্নামী করতে চান না বরং তিনি মানুষকে জান্নাত দেয়ার ওয়াসিলা খোঁজেন। তাই তিনি মানুষের অন্তরের খারাপ দিক গুলোর জন্য কোন শাস্তির বিধান রাখেন নি, রেখেছেন নেক নিয়তের জন্য সওয়াবের বিধান।

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত, সৃষ্টির সেরা। মানুষের রয়েছে ভালো মন্দ যাচাই বাছাইয়ের জ্ঞান, রয়েছে ভালো কিংবা মন্দ পথ বেঁছে নেয়ার স্বাধীনতা, রয়েছে জান্নাত বা জাহান্নামে তার যায়গা করে নেয়ার অধিকার। মানুষের আছে মন, আর মনের কারনেই সে মানুষ, পশু নয়। তবু মানুষ মনের মাঝে বয়ে বেড়ায় হিংস্র পাশবিকতা। মাঝে মাঝে পাশবিকতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, মানবতাকে পদদলিত করে, মনের মাঝে ঘাপটি মারা পশুটা  পিশাচের রূপ ধরে হামলে পরে।

অথচ এ পশুটা যতক্ষণ পর্যন্ত মনের মাঝে শেকলবন্দী থাকে ততক্ষণ মানুষের কোন দোষ নেই, জবাবদিহি করতে হয় না দূনিয়ার কারো কাছে, আখেরাতেও নয়। মনের পশুকে যে যতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম সে ততটা সফল মানব। যার মনের পশু বণ্য আক্রোশে যখন তখন বেড়িয়ে পরে, হায়েনার মতো লকলকে জিহ্বা নিয়ে ছুটে বেড়ায় সমাজের আনাচে কানাচে, মনের পশুটার অত্যাচারে যখন বিপন্ন হয়ে পড়ে মানবতা, তখন সে মানুষকে কিছুতেই আর মানুষ বলা যায় না, সে তো পশুরও অধম।

তবু সব সময় শিকার মেলেনা পশুদের। দিনের পর দিন ওঁত পেতে থাকতে হয় মোক্ষম সুযোগের। এক সময় যদিও বা মেলে নাদুস নুদুস লোভনীয় শিকার, তবু হামলে পড়ার সুযোগ মেলে না। মাঝ খানে দাড়িয়ে যায় কাঁচের দেয়াল, দেখা যায় তবু ছোঁয়া যায় না। অক্ষম আক্রোশে গজরায় কুকুরের দল, বিষাক্ত লালায় ভিজিয়ে দেয় কাঁচের দেয়াল তবু শেকারের নাগাল মেলে না। দেয়ালের ওপারে শুধু পৌছায় অশ্লীল শীৎকার আর পঁচা দূর্গন্ধ।

আসুন সবাই আমরা মনের পশুটার শেকলে তালা লাগাই, মন্তব্য প্রকাশে শালীনতা বজায় রাখি। মিছে মিছে কারো বাপ-মা তুলে গালি দেয়ার আগে দয়া করে একবার নিজের মা-বাবাকে স্মরণ করি।

One Reply to “মত প্রকাশে শালীনতা”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.