জিহাদ ও জিহাদী বই আতংক

জিহাদ। ভয়ংকর শব্দ। ভয়ংকর তাদের জন্য যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কাউকে রব মনে করে। জেহাদ শব্দে ভয়ে কাঁপে মোনাফেক বাকশেয়ালী দল। মুসলিম জিহাদ শব্দে আতঙ্কি হয় না, বিচলিত হয় না বরং মুমিনরা আমৃত্যু স্বপ্ন দেখে জিহাদের, স্বপ্ন দেখে অন্যায়, অনাচার, সন্ত্রাস, যত অনিয়মের বিরুদ্ধে টর্নেডোর তেঁজে আঘাত হেনে তাগুতি প্রাসাদের ধ্বংসস্তুপে ইসলামী শান্তির পতাকা উড্ডয়নের। স্বপ্ন দেখে শোষণমুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সমৃদ্ধ সোনালী সমাজের। আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান, সেই তো মুসলমান

মুসলমানদের মাঝে এমনও অনেকে আছেন যারা ইসলামকে ভালোবাসেন কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাবে এমন সব কাজ করে বসেন যা তার ইহকালীন ও পরকালীণ মুক্তির বদলে লাঞ্ছনার কারণ হয়ে দাড়ায়। সমাজে অনেকেই আল্লাহকে ভালোবেসে সন্তানের নাম রাখেন তুকাজ্জিবান কিংবা রিবা কিংবা মনি ইত্যাদি। তেমনি অনেকে আছেন কোন শব্দের মানে কি তা না বুঝে ভয়ে চিৎকার চেমামেচি জুড়ে দেয়।

কিছু লোক এতটাই বিভ্রান্ত যে তারা কে বন্ধু আর কে শত্রু তা বুঝতে অপারগ, তারা শিক্ষা গ্রহণ করে শত্রুর হাতে, শত্রুর দেয়া রঙ্গীন চশমায় বিশ্ব দেখার চেষ্টা করে। তারা যখন বলে ইসলাম একটি সন্ত্রাসী ধর্ম, তখন নিজেদেরকে মুসলিম বলে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে, ওদের যখন বলা হয় জিহাদ শব্দ সন্ত্রাসের সমার্থক তখন ওরা জেহাদের বিরুদ্ধে war on terrorism এ ঝাপিয়ে পড়ে। অথচ জিহাদের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা।

“তাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর যতদিন না ফেৎনা নির্মূল হয়ে যায় এবং ‘দ্বীন’ সামগ্রীকভাবে আল্লাহ তা’আলারই স্থাপিত হয়৷” [সূরা আল-আনফালঃ ৩৯]

মুসলমানদের মাঝে এ হীনমন্যতা কেন কাজ করে যে ইসলাম অন্যান্য জীবনপদ্ধতির চেয়ে হীন কোন জীবনদর্শন, কেন তারা আল্লাহর বাণীতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপনে কুন্ঠিত হয়। “আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম”-একথা আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষিত হলেও তারা কেন তা মেনে নিতে অক্ষম? আল্লাহতো সত্যকে মিথ্যের উপর বিজয়দানের ঘোষণা দিয়েছেন বারেবারে কোরআনে, আহ্বান করেছেন সত্যের পক্ষে অসত্যের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার আন্দোলনে।

“তিনি তাঁর রাসূলকে জীবন ব্যবস্থা ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন এ জন্য যে, একে সমগ্র দ্বীনের উপর জয়ী করে দেবেন; যদিও শির্কবাদীগণ এটা মোটেই বরদাশত করে না ৷” [সূরা আত্-তাওবাঃ ৩৩]

তবে কেন তারা জিহাদ শব্দে আঁৎকে ওঠে, কেন তারা জিহাদকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধের সত্যাভিযান না ভেবে উল্টো সন্ত্রাস বলেই নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে? তবে কি ওরা ওরা লোক দেখানো এবাদত করে, নামাজ পরে কপালে দাগ ফেলতে, রোজা রাখে পেটের চর্বি কমাতে, হজ্জ করে নামের সাথে হাজী শব্দ জুড়ে দিতে? তবে কি ওরা আল্লাহর কিছু আয়াতকে মানে আর কিছু আয়াতকে অস্বীকার করে? এদের সম্পর্কেই তো আল্লাহ হুশিয়ার করেছেন,

“… তাহলে তোমরা কি ধর্মগ্রন্থের অংশ বিশেষে বিশ্বাস করো ও অন্য অংশে অবিশ্বাস পোষণ কর? অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এমন করে তাদের ইহ জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কি পুরস্কার আছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদের ফেরত পাঠানো হবে কঠোরতম শাস্তিতে। আর তোমরা যা করছো আল্লাহ সে বিষয়ে অজ্ঞাত নন।

ওরা কি ভুলে গেছে আল্লাহর রাসূলের সেই শতর্কবানী, তিনি তো বলেছেন মুনাফিকের স্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে।

জিহাদ মানেই এ নয় যে ঢাল-তলোয়ার নিয়ে শত্রুর সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করা বরং আল্লাহর দ্বীনকে আল্লাহর জমিনে প্রতিষ্ঠিত করার সব ধরণের প্রচেষ্টার নামই জিহাদ। জিহাদের কোন কোন পর্বে শত্রুর সাথে প্রত্যক্ষ সমরে জড়িয়ে পড়ে, সে জেহাদকে সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,

“তোমাদের যুদ্ধ করার হুকুম দেয়া হয়েছে এবং তা তোমাদের কাছে অপ্রীতিকর । হতে পারে কোন জিনিস তোমরা পছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য খারাপ । আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না । সূরা বাকারা

এতকিছুর পরও যদি কোন মুসলমান জিহাদী বই, জিহাদী বই বলে ইসলামী বই-পুস্তকের বিরুদ্ধে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ভয়ের সঞ্চার করে, ঘৃণার সৃষ্টি করে তবে তাদের মুনাফেক না ভেবে মুসলমান মনে করার আদৌ কোন যুক্তি আমি খুঁজে পাই না। জিহাদী বই বলে যে ইসলামী সাহিত্যের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয় তা তো কোরআনে বর্ণিত জিহাদী আয়াতের ভরপুর সমৃদ্ধ সাহিত্য। ইসলামী সাহিত্যগুলোর বিরুদ্ধ যারা মিথ্যাচার করে তারা কি জানে না ইসলামী সাহিত্যের উৎস পবিত্র আল কোরআন ও আল হাদিস। তবে কি তারা ব্রাহ্মণ্যবাদের চ্যালা, যারা কোরআনকে সন্ত্রাসী পুস্তক হিসেবে আখ্যা দিয়ে কোলকাতা আদালতে মামলা ঠুকে দিয়েছিল। তারা কি ভুলে গেছে কোরআনের অবমাননা প্রতিরোধে সেদিন চাপাইনবাবগঞ্জে শহীদ হয়েছিল শীষ মোহাম্মদের মতো স্কুল পড়ুয়া ছাত্রশিবিরের আটটি তাঁজা প্রাণ। যাদের ন্যূনতম আল্লাহর ভয় লালন করেছে প্রাণে তাদের কি উচিত নয় ইসলামের বিরুদ্ধে মুসলিম নামধারী মুনাফেকদের সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ইসলামের পতাকা তলে শামীল হওয়ার?

এত কেন দ্বিধা তোমার, এত কেন ভয় মুমিনের? ঝেড়ে ফেল সব ভয়, ভেঙ্গে ফেল শেরকের সকল শৃংখল, ইসলামের বিরুদ্ধে যারা সন্ত্রাস করে, আল্লাহর রাহে তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়। “জালিমের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলা উত্তম জেহাদ” বলেছেন আল্লাহর রাসূল (সাঃ)। তাহলে কেন আর জেগে জেগে ঘুমের ভান কর, আওয়ামী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জেগে ওঠো, সতর্ক করো, আর সর্বক্ষমতাময় বরেব মাহাত্ম ঘোষনা কর।

যারা জিহাদী বই জিহাদী বই শুনে বিভ্রান্ত তাদের সুবিধার্থ কিছু জিহাদী বইয়ের লিংক দেয়া হলো:

আল কুরআনুল কারীম

হাদীসে রাসূল (সাঃ)

জিহাদের হাকীকত

ইসলাম ও জিহাদ

আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি

ইসলামী আন্দোলনঃ সাফল্যের শর্তাবলী

ইসলামী বিপ্লবের পথ

ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা

ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলন

রাসূলুল্লাহর বিপ্লবী জীবন

আরো কিছু জেহাদী বই-১

আরো কিছু জেহাদী বই-২

4 Replies to “জিহাদ ও জিহাদী বই আতংক”

  1. নামে মুসলমান হলেই কি আসলে সত্যিকার মুসলমান হওয়া যায়? যারা ইসলাম নিয়ে এমন বিভ্রন্তি ছড়ায় তারা বাস্তবে মুসলিম মুখোশধারী নমরুদ, ফিরাউন, আবু জেহেল, আবু লাহাবের বংশধর ও ইহুদী-খ্রীস্টানদের দালাল।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.