আল্লাহর কসম! জামাত শিবির সফল হয়েছে

মানুষেরা কি মনে করেছে যে, আমরা ঈমান এনেছি এ কথা বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে এবং কোন পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরকে পরীক্ষা করেছি। ঈমানের দাবীতে কারা সত্যবাদী আর কারা মিথ্যেবাদী আল্লাহ অবশ্যই তা জেনে নেবেন। (আনকাবুত-২,৩)

কোন বিপদ কখনো আসে না আল্লাহর অনুমতি ছাড়া, যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক অবগত। (তাগাবুন-১১)

ভালো ছাত্র কি কখনো পরীক্ষা পিছানোর দাবী তোলো? মোটেই না বরং ভালো ছাত্ররা প্রতিক্ষায় থাকে অমন মাহেন্দ্রক্ষণের, নিজের যোগ্যতাকে মেলে ধরার, নিজের মেধাকে শ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণের অমন সুযোগের হাতছাড়া করে না কিছুতেই। পরীক্ষা দেখে ভয়ে কাঁপে নপুংশকের দল, নকলবাজের দল, কুলাঙ্গার ছাত্রের দল। জামাত-শিবিরের সামনে আজ এসেছে সেই দিন, এখনই সময় ঈমানের পরীক্ষায় সফল হওয়ার, এখনই সময় ইসলামী আন্দোলনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের।

মায়ের কাছে কে সবচেয়ে আপন? কার দুঃখে হৃদয় কাঁচের মতো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে ঝরে যায়? কার মুখের দিকে চেয়ে চেয়ে পৃথিবীর সব দুঃখ কষ্ট, মৃত্যু যন্ত্রণা ভুলে থাকা যায়? অথচ সেই সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে কি পাশবিক কষ্ট সইতে হয় দিনের পর দিন মাসের পর মাস মাকে। দশ মাস দশদিন শেষে যে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফটিয়ে সন্তানকে বুকে টেনে নেন মা, প্রসব বেদনার ভয়ে মা হওয়ার স্বপ্ন কি বিসর্জন দেয় কোন মা? পৃথিবীর কোন মা কি চান বঞ্চিত হতে মাতৃত্বের স্বাদ থেকে? বরং সন্তান প্রসবে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসার গান গেয়ে যান তারা। সে মায়ের কসম, ঈমানের দৃপ্ত শপথে এগিয়ে চলো পরীক্ষার দিকে, সাফল্য তোমাদেরই।

যে ইসলামী আন্দোলনকে ভালোবেসে ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ে শহীদ হলেন আবদুল মালেক, যে পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাব্বির, হামিদ, আউয়ুব, জব্বার, শহীদ হয়েছেন শরীফুজ্জামান নোমানী, হাফিজুল ইসলাম শাহীনের মতো সূর্যসেনার* দল, সে পথে চলতে তবে কিসের ভয়?  জেল-জুলুম হুলিয়া হৃদয় কাঁপিয়ে দিতে পারে চোর-ছ্যাচোর আর সন্ত্রাসী জানোয়ারদের, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীকে দমাতে পারে এমন নির্যাতনের কৌশল রেখে যেতে পারে নি হিটলার, চেঙ্গিস, ফেরাওন নমরুদের মতো পিশাচের দল। চেয়ে দেখ শহীদ হাফিজুল ইসলাম শাহীনের গর্বিত বাবার দিকে, ঈমানে ঈমানে ফুলে উঠেছে তার বুক। তাহলে কিসের ভয় আল্লাহর সৈনিকের, কিসের ভয় তবে জান্নাতের উত্তরাধিকারীদের। তোমাদের অপরাধ তো এ ছাড়া আর কিছু নয় যে, “তোমরা বল, আল্লাহ আমার প্রভূ, রাসূল (সাঃ) আমাদের নেতা, কুরআন আমাদের সংবিধান”।

আল্লাহর কসম! জামাত শিবির সফল হয়ে গেছে। সফলই যদি না হবে তবে কেন এত যুলুম, শোষণ, নির্যাতন। নির্যাতন ছাড়া জান্নাতের সুবাতাস পেয়েছে কবে কোন কালে, কতজন সৌভাগ্যবান? ভয় কি তবে তোমার, দৃঢ় শপথে এগিয়ে চল, মাথা উঁচু করে ঢুকে পড়ো জেলখানা নামের পরীক্ষার হলে, বুক ফুলিয়ে বরণ করে নাও সকল নির্যাতন। তোমরাই প্রথম নও, তোমাদের আগে আগে চলেছেন লাখো শহীদী মিছিল। জেনে রাখ, তোমাদের বরণ করার অপেক্ষায় পৃথিবীর সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ মানবেরা, যাদের হৃদয় কানায় কানায় পূর্ণ ভালোবাসায়।

*(সূর্যসেনা বলতে সূর্যের মতো তেজষ্মী বোঝানো হয়েছে)

19 Replies to “আল্লাহর কসম! জামাত শিবির সফল হয়েছে”

  1. “তারা আল্লাহর নুরকে ফুতকার দিয়ে নিভিয়ে দিতে চায়; কিন্তু আল্লাহ তার নুরকে প্রজ্বলিত রাখবেন-” সুরা আস-সফ।

    সুতরাং সকল সাথীদের সবর, সাহস ও আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রেখে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন- আমীন।

    [উত্তর দিন]

  2. সফলতার মাপকাঠিতে উর্ত্তীণ হতে ঈমানের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবার বিকল্প ছিলনা কোন কালেই । শোষণ, যুলুম, নির্যাতনের রক্তস্নাত সিড়ি বেয়ে অাসে মহা বিপ্লবের সোনালী সূর্য । ইতিহাসের এই অমোঘ নিয়মের ধারায় এক অাকাশ স্বপ্ন অার ধৈর্য্য নিয়ে এগিয়ে যাবে জামাত ।
    এ অাশায় বুক বাধলাম ।
    ধন্যবাদ শাহরিয়ার ভাই । অামাদের চেতনার গরম লেপে পানি ঢেলে দেয়ার জন্য ।

    [উত্তর দিন]

  3. টিকে থাকুক সব ভাল চেতনা, জমিনে-আসমানে পতপত করে উঠুক কালেমার পতাকা। অন্ধকার রাতের শেষে সোনালী সূর্য উঠবেই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবার কোরবানীগুলোকে কবুল করে নেন- আমীন।

    ধন্যবাদ ভাই আপনাকে,
    -সামু ব্লগার

    [উত্তর দিন]

  4. Son of Rajakar

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ভুল বললেন, আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার বাবা এখনো আওয়ামী লীগের সক্রিয় বুদ্ধিজীবী। আমার চৌদ্দপুরুষ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের লোকজনকে রাজাকার বলাটা কি ঠিক হলো? বরং ভারতের দালাল বলা যেতে পারে।

    [উত্তর দিন]

    Lutfur Rahman উত্তর দিয়েছেন:

    Yes.It is true because they are criminal.

    [উত্তর দিন]

  5. আমি বলব না, জামাত শিবির সফল হয়েছে। কেননা আল্লাহর কাছে কোন সংগঠনের মূল্য নেই যতক্ষন না, সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে ইসলাম না থাকে। আলহামদুলিল্লাহ, জামাত শিবির বাংলাদেশের মেইনস্ট্রীম রাজনীতিতে নিজেদেরকে সবচে বেশি গনতান্ত্রিক হিসেবে যোগ্য প্রমান করেছে। সেইসাথে এ সংগঠনের কর্মীরা নিজেদেরকে সত্যিকারের মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলছেন। সবচে বড় কথা তাঁরা জাহেলিয়াতের বিরুদ্ধে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করে এক নতুন সমাজ বিনির্মানের স্বপ্ন দেখছে। ঈমানের পরীক্ষায় তাঁরা তাঁদের অগ্রজদের মত যদি সফল হন তবে, আল্লাহ অবশ্যই তাঁদেরকে সফলতা দান করবেন।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.