পূজো

“শক্তিমানেরা যা কিছু করেন তাই সঠিক, সবার উচিত শক্তিমানের পূজো করা”। জানি এ কথায় সবাই অবাক হবে, কিন্তু বাস্তবে আমরা সবাই শক্তিমানের পূজো করি, শক্তিমানদের যে কোন কথাকে ইশ্বরের বাণী বলে মনে করি। শক্তিমানেরা কেউ যখন কারো পক্ষে কথা বলেন, আমরা সেই বরপুত্রের পদচুম্বর করি, আবার কারো দিকে তর্জনি উঠালে অভিষপ্ত ব্যক্তিটিকে পায়ের তলে পিশে ফেলে উল্লাসে মেতে উঠি।

আসলে কে ভালো কে মন্দো তা মূখ্য বিষয় নয় বরং শক্তিই আসল। একটি কথা ভালো কি মন্দ, সত্য কি মিথ্যা তা বিবেচ্য বিষয় নয় বরং কথাটি কার মুখ থেকে এসেছে, তিনি শক্তিমান না মেরুদন্ডহীন, তা আসল বিবেচ্য বিষয়। তাই একই কথার জন্য কাউকে সম্মানিত হতে হয় যদি তার ক্ষমতা থাকে, আর ক্ষমতাহীন অবস্থায় ঐ একই কথা পদদলিত হয়ে তাকে মরতে বাধ্য করে।

হয়তো কেউ খুব বড় একটা কাজ করলেন, হাজার বছরের চেষ্টায়ও কোটি কোটি মানুষ যা করতে পারলো না, তা করে দেখালেন, তার শক্তিমত্তা দেখে সবাই বিস্মিত হল, শ্রদ্ধা ভালোবাসায় পুজোর বেদিকে তার ছবি টাংগিয়ে সকাল সন্ধ্যা তার নাম জপ করা শুরু করল। কিন্তু সময় ও সুযোগের কল্যাণে কেউ যখন সেই পূজনীয় ব্যক্তিটিকে বলির পাঠা বানিয়ে শক্তির পরীক্ষায় পাশ করে যায় তখন এই নতুন শক্তিটিকে ঘিরেই আবার সবাই তওয়াফ করতে শুরু করে। কিছুদিন আগেও যার নামে সকাল হতো, তার নাম শুনে মন-প্রাণ বিষিয়ে ওঠে পূজারীর, অন্তত চেহারা দেখে যে কেউ তাই ভাবতে বাধ্য হবে।

কিন্তু আবার দাবার গুটি যদি উল্টে যায়, তবে পূজারীর কিছুই যায় আসে না, কারণ আমরা পূজারীরা কোন ব্যক্তি বিশেষের পূজো করি না, করি শক্তির আরাধনা। তাই যখন যে পুজোর বেদী অলংকৃত করবেন, তার পুজোই প্রধান কর্ম, তার সকল আদেশ নিষেধ, সকল বিচার আচার, সকল রীতি-নীতি সকলই নমস্য। তিনি যাকে শত্রু বলে গণ্য করেন, তার প্রতি আমাদের ঘৃণা, তার প্রতি জুতো-ঝাটা, তার রক্তে রঞ্জিত হবে আমাদের হাত। আর যার প্রতি তিনি সদয় হবেন তাকে কোলে তুলে চুম্বনে চুম্বনে রাঙ্গিয়ে দেব এ আমাদের দৃপ্ত অঙ্গীকার।

এ মানষিকতা থেকে কি কোনদিনই আমাদের মুক্তি নেই?

4 Replies to “পূজো”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.