সেনা অভ্যুত্থান : ব্যর্থ নাকি সফল!

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা সদরের পরিচালক (পিএস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, সেনাবাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কতিপয় ‘ধর্মান্ধ কর্মকর্তার’ সরকার উত্খাতের একটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে। টেলিভিশনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের লিখিত বক্তব্য শোনার সময় মনে হলো আমার কান আস্তে আস্তে দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে, মুখমন্ডল চোঙার মতো সুচালো হয়ে যাচ্ছে, মোটকথা আমি নিজেকে আস্ত গাধা বলে অনুভব করলাম। বাকরুদ্ধ এই আমি কয়েকট মিনিট কোন কথা বলতে সাহসী হলাম না, ভয় হলো কথা বললেই হয়তো মুখ থেকে কথার বদলে গাধার চিৎকার বেরিয়ে পড়বে। হয়তো সচেতন দেশবাসীরও আমার মতো একই অনুভূতি হয়ে থাকবে। স্পষ্ট মনে হলো, সামরিক বাহিনীর এই মুখপাত্র গণমাধ্যমকে ব্যবহারের সময় পুরো দেশবাসীকে গাধা সাব্যস্ত করেছেন। অনেক পুরনো একটা কথা সাধারণের মাঝে চালু আছে, “প্যারেড করতে করতে নাকি অনেকের বুদ্ধিশুদ্ধি হাটুতে নেমে যায়” কথাটি এতদিন বিশ্বাস করিনি, তবে আজ বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় অন্তত দু’এক জন সেনা কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এ প্রবাদটি হয়তো আদৌ মিথ্যে নয়, যাদের আবোল তাবোল বক্তব্যে পুরো সেনাবাহিনীর সাথে দেশবাসীও বিব্রত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হলো, ২২ ডিসেম্বর মেজর জিয়া অপর এক সেনা কর্মকর্তাকেঅভ্যুত্থানের ব্যাপারে প্ররোচিত করেন যা সঙ্গে সঙ্গে অফিসার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান। উক্ত কর্মরত অফিসার বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে সদ্য দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী মেজর জিয়ার ছুটি ও বদলী আদেশ বাতিল করে সত্বর ঢাকার লগ এরিয়া সদর দপ্তরে যোগদানের বিষয়টি টেলিফোনে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে তাকে জানানো হয়। যদি মেজর জিয়া ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত থাকতেন তবে তো তার সেই মুহুর্তেই সতর্ক হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা গেল তিনি আবু সাঈদ নামে সেনা অভ্যুত্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলেন। আবার বিদেশে যোগাযোগ করলেন মোবাইলে, একবারও ভাবলেন না মোবাইলের কল রেকর্ড হতে পারে।এবার বুঝুন, সেনাবাহিনীর একজন মেজর ঢাকঢোল পিটিয়ে সেনাঅভ্যত্থান করছেন, এ ধরণের চিত্র কতটুকু বাস্তবসম্মত? ক্লাস ফাইভ-সিক্সের ছেলেরাও এতটা বোকা হয় কি, অন্তত তিন গোয়েন্দা পড়েছে যেসব ছাত্র? যদি বিষয়টি সত্যি হয়, তবে বুঝতে হবে সেনাবাহিনীতে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয় নি, স্বজনপ্রীতি কিংবা দলীয় বিবেচনায় কিংবা দূর্ণীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, না হলে একজন মেজর এ ধরণের আহাম্মকের মতো কাজ করতে পারে না। কিন্তু আমরা জানি সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পেতে হলে কি অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়, কতটা তীক্ষ মেধাসম্পন্ন হতে হয়। আর বাস্তবতা হলো এই যে, যারা ষড়যন্ত্রী তারা এত কাঁচা কাজ করে না। মেজর জিয়া ষড়যন্ত্রী হলে অবশ্যই তিনি আরো অনেক বেশী সতর্ক হতেন। না, আমি এখানে মেজর জিয়ার পক্ষে সাফাই গাইছি না, বরং কেমন আষাঢ়ে গল্পে দেশবাসীকে বোকা বানানোর চেষ্টা হলো গতকাল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি মাত্র।

একটা সাধারণ মানুষও বোঝে গোপন কথা কিভাবে গোপন রাখতে হয়। তাহলে একটা অভ্যুত্থান ঘটাতে হলে কি পরিমাণ কঠোর গোপনীয়তার প্রয়োজন তা মাসুদ রাজ্জাকের মতো ব্যক্তিদের বোধগম্য না হলেও সাধারণ মানুষের কাছে দূর্বোধ্য কিছু নয়। গতকাল মাসুদ রাজ্জাক সাহেব যে কল্পকাহিনী প্রকাশ করলেন তাতে স্পষ্ট তার মতো দূর্বল কাহিনী নির্মাতাদের হাতে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুতেই নিরাপদ নয়।

বেশ কিছুদিন ধরেই স্যোসাল নেটওয়ার্ক ফেসবুক, সামহোয়ারইনব্লগসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় জনৈক মেজর জিয়ার অপহরণ ও নির্যাতনের কথা প্রকাশিত হচ্ছিল। সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা গুম হয়েছেন এমন গুজবও বাতাসে ভাসছিল। এরসাথে বিএনপির সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের গুমের ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখে সে গুজবে সাধারণের দৃষ্টি আরো আকৃষ্ট করেন। কিন্তু গতকালের নজিরবিহীন সেনা বাহিনীর প্রেস কনফারেন্স সেই গুজবকেই পক্ষান্তরে সমর্থন করলো। এর ফলে ভারতীয় এনডিটিভির রিপোর্টের শিরোনাম করা হয়,”Bangladesh coup foiled, claims military; Anti-India group plotted coup?” এবং ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার মাধ্যমে জানা যায় ভারত ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী পত্রিকা  দৈনিক আমারদেশ কে আমন্ত্রণ জানানো হয় নি এমনকি সংবাদ সম্মেলনে পত্রিকাটিকে হলুদ সাংবাদিকতার দোষারোপও করা হয়। একই সাথে ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধীবলে খ্যাত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকেও পরোক্ষভাবে এই কথিত অভ্যুত্থানের ইন্ধনদাতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এর ফলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের ব্যক্তিগত ফায়দা কি হয়েছে তা জানা নেই, তবে দেশের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়েছে, একটি দলের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় সেনাবাহিনীর ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে।

এখন আমাদের মতো গাধাদের মাথায় স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন জাগতেই পারে, “ক্যু কি ব্যর্থ হয়েছে নাকি ইতোমধ্যে নীরবে সেনাবাহিনীতে ক্যু ঘটে গেছে?” কিছুদিন ধরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে দলের পক্ষে ও বিএনপির বিরুদ্ধে যে ধরনের বক্তব্য বিবৃতি আসছে তাতে মনে হওয়াই স্বাভাবিক “সেনাবাহিনীতে ভারতপ্রেমীদের অভ্যুত্থান সফল হয়েছ”।

আল্লাহ বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জনগণ এবং দেশ ও জাতির অতন্ত্র প্রহরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ভারতীয় আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

************************************************************************

সেনাসদরের সংবাদ সম্মেলনের বিস্তারিত বিবরণ

সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো সম্পর্কিত সেনা সদর দপ্তরের সংবাদ সম্মেলন ১৯ জানুয়ারি ২০১২
১। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আমন্ত্রণে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আগত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ও কর্মীবৃন্দ এবং উপস্থিত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম। দীর্ঘ বহুবছর পর অনুষ্ঠিত সেনাবাহিনী পর্যায়ের শীতকালীন প্রশিক্ষণের শেষ দিনে মাঘের পড়ন্ত বিকেলে আমি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ রাজ্জাক, পরিচালক, পিএস পরিদপ্তর এবং লে. কর্নেল মুহাম্মদ সাজ্জাদ সিদ্দিক সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেল আপনাদের আজকের সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত জানাচ্ছি।
২। আজকের সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে আমি আমাদের বক্তব্য পড়ে শোনাব। তারপর বক্তব্য শেষে যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকে তা আপনারা জিজ্ঞাসা করতে পারবেন। আশা করি আমার বক্তব্যের কপি আপনারা হাতে পেয়েছেন। এখানে বলা প্রাসঙ্গিক যে সবাইকে সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে প্রতি কর্মকর্তা/সাংবাদিক একটি প্রশ্ন করবেন এবং আপনার নাম ও কোন মিডিয়া থেকে এসেছেন তা উল্লেখ করবেন।
৩। মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে’ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আপামর জনসাধারণের পাশে থেকে দেশে ও বিদেশে প্রশংসা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার অধীনে থেকে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যখন সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত হয়ে সুনির্দিষ্ট ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় সমর সরঞ্জাম অর্জন ও সুবিন্যস্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে গুণগত মাপের উচ্চ ধাপে উঠতে সদাব্যস্ত, তখনই ঝেড়ে ফেলা অতীত ইতিহাসের ক্রমধারায় আবারও একটি চ্যালেঞ্জিং অধ্যায় অতিক্রম করছে। এই সাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আপনাদের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহায়তা কামনা করছি।
৪। সম্প্রতি কিছু প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের ইন্ধনে অবসরপ্রাপ্ত এবং সেনাবাহিনীতে কর্মরত কতিপয় ধর্মান্ধ কর্মকর্তা কর্তৃক অন্যান্যদের ধর্মান্ধতাকে পুঁজি করে দুরভিসন্ধিমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ব্যাহত করার একটি বিফল প্রয়াস চালানো হয়। এই অপপ্রয়াসটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিহত করা হয়েছে।
৫। সেনাবাহিনীর ভিতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজন লে. কর্নেল পদবীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার গত ১৩ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে একজন কর্মরত মেজর পদবীর অফিসারকে তার ঘৃণ্য কর্মকা-ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যোগদানের প্ররোচনা দিলে উক্ত অফিসার তাৎক্ষণিক বিষয়টি তার চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে অবগত করলে বর্ণিত অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে সেনাবাহিনী আইনের ২(১)(ডি)(র) এবং ৭৩ ধারায় গ্রেফতার করা হয়। সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াসের অপর পরিকল্পনাকারী মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হক গত ২২ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে অপর এক কর্মরত অফিসারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকেও রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র বিরোধী কর্মকা- তথা সেনাবাহিনীকে অপব্যবহার করার কর্মকা-ে সম্পৃক্ত হতে প্ররোচনা করে। উক্ত কর্মরত অফিসার বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে সদ্য দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী মেজর জিয়ার ছুটি ও বদলী আদেশ বাতিল করে সত্বর ঢাকার লগ এরিয়া সদর দপ্তরে যোগদানের বিষয়টি টেলিফোনে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে তাকে জানানো হলেও ছুটিতে থাকা মেজর জিয়া পলাতক অবস্থায় থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘সাবভারসিভ’ কার্যক্রম চালানোর পাঁয়তারা করে ও এখনও করছে। এছাড়াও তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্ত সুনিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে অপর একজন মেজর পদবীর অফিসারকে চাকুরীরত অফিসারকে সরকারের প্রতি আনুগত্য থাকা থেকে বিরত থাকার জন্য প্ররোচনা প্রদানের অভিযোগে গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে উপরে উল্লেখিত সেনা আইনের ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
৬। সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের আংশিক তথ্যাদি ফাঁস হয়ে যাওয়া ও কিছু ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার প্রেক্ষিতে গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ ১০৫২ ঘটিকায় পলাতক মেজর জিয়া তাকে তথাকথিত গ্রেফতার ও নির্যাতন সংক্রান্ত কল্পনাপ্রসূত ও অবিশ্বাস্য গল্প বর্ণনা করে একটি উস্কানিমূলক ই-মেইল তার পরিচিতদেরকে প্রেরণ করে যা পরবর্তীতে সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুক ( Facebook)-এ Soldier’s Forum নামক blog-এ জনৈক আবু সাঈদ আপলোড করে। পরবর্তীতে উক্ত অফিসার কর্তৃক Mid-level Officers of Bangladesh Army are Bringing Down Changes Soon এবং ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন বছরের উপহার-মধ্যম সারির অফিসাররা অচিরেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন’ শিরোনামে কাল্পনিক ও অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়সমূহ উল্লেখ করে দুটি ই-মেইল ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। এই বিষয়টি নিয়ে গত ৩ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘আমার দেশ’ পত্রিকাটি ‘হলুদ সাংবাদিকতার অংশ হিসেবে’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াসে পলাতক মেজর জিয়ার ইন্টারনেটের বার্তাটি প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে নিষিদ্ধ ঘোষিত ধর্মান্ধ ‘হিজবুত তাহরীর’ সংগঠন পলাতক মেজর জিয়ার ইন্টারনেটে প্রেরিত বার্তাটিকে ভিত্তি করে দেশব্যাপী উস্কানিমূলক লিফলেট ছড়ায়। তার একদিন পর গত ৯ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে দেশের একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলও উপরোক্ত মনগড়া, বিভ্রান্তিক ও প্রচারণামূলক সংবাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাবাহিনীতে ‘গুমের ঘটনা ঘটছে’ বলে অভিযোগ করেন। যা সেনাবাহিনী তথা সকল সচেতন নাগরিকদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত উস্কানিমূলক বিতর্কের সৃষ্টি করে। এই মুহূর্তের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ধন্যবাদ জানাচ্ছে সকল দায়িত্বশীল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে যারা বিভ্রান্ত ও উস্কানিমূলক তথ্য পেয়েও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক খবর পরিবেশন না করে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
৭। গ্রেফতারকৃত অবসরপ্রাপ্ত দুইজন অফিসার ও অপর চাকুরীরত অফিসারগণ কর্তৃক প্রদত্ত বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী সেনাবাহিনীর ঘাড়ে ভর করে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাতের ঘৃণ্য চক্রান্তের সঙ্গে সেনাবাহিনীতে চাকুরীরত কিছু অফিসারের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য ইতিমধ্যেই উদঘাটিত হয়েছে। কতিপয় বিশৃঙ্খল ও পথভ্রষ্ট সামরিক অফিসার মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে পলাতক মেজর জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে উক্ত ঘৃণ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চক্রান্তে সক্রিয়ভাবে লিপ্ত থাকে। এই সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য গত ২৮ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে এবং তার কার্যক্রম চলছে।
৮। সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ৯ জানুয়ারি ২০১২ এবং ১০ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে পলাতক মেজর জিয়া তার কল্পিত দুইটি অপারেশন আদেশ/নির্দেশের কপি ই-মেইলের মাধ্যমে চাকুরীরত বিভিন্ন অফিসারদের নিকট প্রেরণ করে। এছাড়াও বিগত ১০/১১ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে পলাতক মেজর জিয়া কর্তৃক বিভিন্ন ফরমেশন ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত/অধ্যয়নরত সমমনা বা তাদের দলভুক্ত কিছু সংখ্যক কয়েকজন অফিসারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতঃ প্রণয়নকৃত পরিকল্পনা অনুযায়ী তথাকথিত সেনা অভ্যুত্থান সংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চান এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বার বার উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। একই রাতে পলাতক মেজর জিয়া বর্তমানে বিদেশে (সম্ভবত হংকং) অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিক জনাব ইশরাক আহমেদ (পিতা : জনাব এম রাকিব, দ্বীন মঞ্জিল, গ্রাম : বালুভাড়া, ইউনিয়ন : বারশাইল, থানা ও জেলা : নওগাঁ)-এর সাথে কয়েকবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। কথোপকথনে তারা অভ্যুত্থানের অগ্রগতি ও তা সম্পাদন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে। এ সময় পলাতক মেজর জিয়া তাকে বিদেশে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশে সংঘটিত সেনা অভ্যুত্থানের বিষয়টি প্রচার করার জন্য বলে। এ সময় জনাব ইশরাক পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনা অভ্যুত্থান বাস্তবায়ন শেষ হলে পুনরায় তাকে অবগত (১০/১১ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে রাত আনুমানিক ২টার সময় টেলিফোন করতে বলেন) করার জন্য পলাতক মেজর জিয়াকে নির্দেশ দেন যাতে তিনি কম সময়ের মধ্যে বিমানযোগে বাংলাদেশে পেঁৗছাতে পারেন। ধারণা করা যায় যে, বিশৃঙ্খলা পরবর্তী সুবিধা প্রাপ্তির জন্যই জনাব ইশরাকের বাংলাদেশে আসার এই পরিকল্পনা।
৯। গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যখন বিভিন্ন সংস্কারমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে একটি গুণগত মানে সমৃদ্ধ বাহিনী হিসেবে সংগঠিত হওয়ার প্রয়াসে লিপ্ত তখনই অতীতের গণতন্ত্র ধ্বংসের বিভিন্ন ‘অপশক্তি’ দেশপ্রেমিক একটি রাষ্ট্রীয় শক্তি ‘সেনাবাহিনীর’ উপর সওয়ার হওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা নিকট ও দূর অতীতের ন্যায় এবারও ধর্মান্ধের অনুভূতি, অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করেছে। এই সকল ঘৃণ্য চক্রান্তকারীদের দোসর হয়েছে ধর্মীয় অনুশাসন পালনে হঠাৎ অতিমাত্রায় কট্টর এবং পারিবারিক বন্ধন, চাকুরী ও ব্যবসার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিবর্গ। অপপ্রচার চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে স্বার্থান্বেষী সংবাদপত্র, নিষিদ্ধ ঘোষিত ধর্মভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের প্লাটফর্ম। মুক্তিযুদ্ধের মাঝেই জন্ম নিয়ে যুদ্ধে জয়লাভ করা ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর’ কাঁধে ভর করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অতীতে বিভিন্ন অপশক্তি রাজনৈতিক সুবিধা লাভ করেছে কিংবা ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সাংগঠনিকভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঘটনার বদনামের দায়ভার বহন করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাগতভাবে দক্ষ এবং সুশৃঙ্খল সেনাসদস্যদের বক্তব্য এই যে, ‘আমরা আর এ ধরনের দায়ভার আমাদের সংগঠনের কাঁধে নিতে চাই না।’
১০। সামগ্রিক বিষয়টি দেশে/বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদের মদদে এবং ধর্মান্ধের অনুভূতিকে পুঁজি করে কতিপয় চাকুরীরত ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক অফিসারের একটি ঘৃণ্য প্রচেষ্টা বলে প্রতীয়মান। এ সকল ব্যক্তিবর্গ সেনাবাহিনী ও দেশের সকল সুযোগ/সুবিধা গ্রহণ করে স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশে ও বিদেশে সেনাবাহিনীর ঈর্ষণীয় সাফল্য, উন্নয়ন এবং ঐক্যকে বিনষ্ট করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলেও প্রতীয়মান। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে আলোচ্য চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত কিছু চাকুরীরত ও অবসরপ্রাপ্ত অফিসার তাদের সম্পৃক্ততার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেনাবাহিনীর কষ্টার্জিত ভাবমূর্তিকে অক্ষুণ্ন রাখতে এবং সমৃদ্ধির পথকে সুগম করতে এ ধরনের ঘৃণ্য অপচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করতে হবে। দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব এবং অখ-তা রক্ষার্থে প্রতিটি সেনাসদস্য আত্মত্যাগের জন্য সদা প্রস্তুত। তবে সেনা সদস্যদের আত্মত্যাগের উপর ভর করে কোন দেশী বা বিদেশী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করুক তা কারোরই কাম্য নয়। পলাতক মেজর জিয়ার আইনের নিরাপত্তা ও সঠিক বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার স্বার্থে অনতিবিলম্বে সেনাবাহিনীতে আত্মসমর্পণ করা একান্ত অপরিহার্য। মেজর জিয়ার বর্তমান অবস্থান ও কর্মকা- সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাসময়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে সকলকে অনুরোধ জানানো হলো।
১১। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

6 Replies to “সেনা অভ্যুত্থান : ব্যর্থ নাকি সফল!”

  1. সালাম ভাইয়া,
    আপনার লেখাটির লিংক সোনার বাংলাদেশ ব্লগে দিয়েছিলাম, কর্তৃপক্ষ লেখাটি মুছে দিয়ে সতর্ক নোটিশ দিয়েছে। নোটিশের স্ক্রীণশট মেইলে পাঠালাম। মন্তব্যের জবাবে দয়াকরে ছাপলে ভালো লাগবে।
    আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে রাখুন। আমীন।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    coup

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.