নাসিক নির্বাচন: জয় হলো আওয়ামী ষড়যন্ত্রের!

একটি নষ্ট দেয়াল ঘড়ি দিনে দুবার সঠিক সময় দিতে পারে, এতে ঘড়ির কোন সাফল্য নেই বরং সময়ই ঘড়িকে সে সুযোগটি করে দেয়। ঠিক তেমনি হাজারো ব্যর্থতার মাঝে আলীগ সরকার মাঝে মাঝে কিছু সাফল্য পেয়ে যাচ্ছে। প্রথম সাফল্যটি পেয়েছিল চসিক নির্বাচনে। পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে চেয়েছিল, কারচুপির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর ফলাফল পাল্টে দিতে সচেষ্ট হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত জনতার, বিশেষ করে জামায়াতশিবিরের প্রবল প্রতিরোধের মুখে আওয়ামী লীগ পিছু হটলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর জয়ী হয়। তবে কিল খেয়েও কিল হজম করে ফেলে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব বলে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে বলা যায় জনতার কল্যাণেই একটি সাফল্য পেয়ে যায়। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আরেকটি জয় পেয়ে গেল, তবে এবার জনতা নয় বরং বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতাই আওয়ামী লীগের জয়ের মূল কারন।

 শুরুতে নাসিক নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ যেভাবে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে বিএনপি তার ছিটেফোঁটাও নিতে পারে নি। নাসিক নির্বাচনে চসিকের মতো বড়ো পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাঁচতে আওয়ামী লীগ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় যার মাঝে একই দলের দুজন প্রার্থীকে পরিকল্পিতভাবেই নির্বাচনে দাড়া করায়। বেশ ঝুঁকির্পূর্ণ ছিল আওয়ামী লীগের এ সিদ্ধান্ত, একটু ঊনিশবিশ হলেই আওয়ামী লীগের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। আওয়ামী লীগ প্রথমে কাউকেই সমর্থন না দিলেও ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রকাশ্যে শামীম ওসমানের সমর্থনে মাঠে নামে, কিন্তু গোপনে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা নিজেই ডা. আইভীকে সমর্থন দিতে থাকেন। একই সাথে আওয়ামী পন্থী বেশ কিছু মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয় আইভীকে শামীম ওসমানের মূল প্রতিদ্বন্দী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মিশনে। নিয়মিত পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশন প্রচারণায় শামীম বনাম আইভী ইস্যুটি এতটাই প্রাধ্যান্য পায় যে আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম থেকে যান মিডিয়া প্রচারণার আড়ালে। আর এভাবেই পরিকল্পিত প্রচার প্রচানণায় ধীরে ধীরে আইভী হয়ে ওঠেন প্রধান প্রার্থী, যার মূল প্রতিপক্ষ হয়ে দাড়ান শামীম ওসমান এবং বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও বিএনপির রাজনৈতিক অদূরদর্শিতায় ধীরে ধীরে স্তিমিত হতে থাকেন তৈমুর। অবশ্য শেষ দিকে বিএনপির কিছু নেতা মাঠে নামলে তৈমুর আলম বেশ অনেকটা ঝলসে ওঠেন, ঠিক যেমন নিভে যাওয়ার আগে বাতি যেমন দপ করে জ্বলে। প্রবল বিরোধীতা সত্ত্বও ইভিএম দিয়ে নির্বাচন, ইভিএম প্রশিক্ষণে শামীম ওসমানের প্রতীকের প্রচার, পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু ইস্যুকে পুঁজি করতে রাতের আধারে মন্দিরে হামলা, প্রশাসনের মাধ্যমে বিরোদীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, জঙ্গী হামলার কথা বলে জনমনে আতংক সৃষ্টি এবং শামীম ওসমান ছাড়া সবার দাবী সত্ত্বেও নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করে আওয়ামী লীগ নীলনক্সার নির্বাচনের সকল আয়োজন সম্পন্ন করে।

নির্বাচনের আগে ভোর রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী কূটকৌশলের জয় হলো। তৈমুর আলম বলেছিলেন, মৃত্যু ছাড়া অন্য কিছু তাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না, কিন্তু দেখা গেল নির্বাচনের দিন ভোররাতে তৈমুরের মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। অথচ প্রথম থেকে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালালে নির্বাচনটা হতো বিএনপির, জয় হতো জনতার। আজ তৈমুরের সড়ে দাড়ানোয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আর কারচুপির প্রয়োজন নেই, শামীম কিংবা আইভি যেই জিতুক না কেন জয়টা এখন আওয়ামী লীগের। বিএনপি সড়ে দাড়ানোয় আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় যে সুযোগটি বিএনপি করে দিল তা হলো, নির্বাচন শেষে আজ আওয়ামী লীগ এটি স্পষ্ট করে ঘোষণা করতে পারবে যে, আওয়ামী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, এমনকি সেনাবাহিনী মোতায়েন ছাড়াই তা সম্ভব। নির্বাচনে কারচুপি হলেও ঠিকই কেন্দ্রের নির্দেশে প্রতিপক্ষ মুখে কুলুপ এটে সরকারকে সমর্থন করে যাবে।

One Reply to “নাসিক নির্বাচন: জয় হলো আওয়ামী ষড়যন্ত্রের!”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.