ওয়াসার মলমূত্রে ভরা মন্ত্রী-আমলাদের পানপাত্র

সমস্যা আছে, আছে বহুবিধ সমাধান। তবু সমস্যার ঘূর্ণিপাকে হাবুডুবু খায় বাংলাদেশ। প্রেসক্রিপশনের ভারে ভারাক্রান্ত দেশের রোগ বেড়েই চলেছে, সুস্থ্যতার কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।

প্রকৃত ব্যাপার এই যে আমরা সমস্যাটি কতটা গুরুতর তা তলিয়ে দেখি না কিংবা দেখলেও এ সমস্যার সাথে ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে জড়িত কিনা,  সমস্যার সমাধান না হলে নিজে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হব কিনা এগুলো সম্ভবত বিবেচনায় আনা হয় এবং সমস্যার একটি হাতুড়ে সমাধান টেনে দায়িত্ব পালন করা হয়। কিংবা এমনো হয় যে সমস্যার হাজারো সমাধান বাতলে দিয়ে আমরা পান্ডিত্য জাহির করি কিন্তু সমাধানটিকে বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেই। এভাবে সমাধানের স্তুপে চাপা পড়ে সমস্যায় আরো জট লেগে যায় কিন্তু সমাধান হয় না।

আসলে সমস্যাটি যে আমার নিজেরই সমস্যা এ উপলব্ধি থাকাটা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ যদি অসুস্থ হয়ে পরেন তবে দেশে উপযুক্ত চিকিৎসা থাকার পরেও তিনি নিশ্চতভাবে সিঙ্গপুরে মাউন্ট এলিজাবেথে যাবেন, তার ব্যক্তিগত সমস্যাটিকে অবশ্যই তিনি মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দেবেন। কিন্তু  সমস্যার কারেন্টজালে আটকা পরা দেশবাসীকে মুক্তি দিতে তারা এগিয়ে আসেন না, কারন সাধারণ জনগণের সমস্যাগুলো কখনোই তাদের ছুয়ে যায় না।

দেশে এখন গড়ে দশ-বারো ঘন্টা করে লোডশেডিং চলছে। সমস্যাটির উৎস তথা সমস্যা সমাধানে অতীতের সরকার কি কি অবহেলা করেছে তা যত গবেষণা হচ্ছে তার ছিটেফোটাও সমস্যা সমাধানে করা হচ্ছে বলে মনে হয় না। কারন ঐ একই, এ সমস্যার সাথে দেশবাসীর সম্পৃক্ততা থাকলেও এর সাথে প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাঘোব বোয়ালদের ব্যক্তিগগ সংযোগ নেই। দেশে লোডশেডিং চলছে এটা পত্রপত্রিকা কিংবা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তারা দেখেন হয়তো কিন্তু সমস্যাটি বাস্তবে তারা কখনো দেখার সুযোগ পান না, কারণ তাদের জন্য লোডশেনিং নয়। দেশের আমলা-মন্ত্রীরা ক্ষমতার  জোরে লোডশেডিংকে পর করে দিয়েছেন, তাইতো গরীর প্রজাসাধারণের গলার মালা হয়ে শোভা পাচ্ছে লোডশেডিং।

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবাধে চলছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মহড়া। প্রতিদিন গড়ে খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আহত হচ্ছে একজন ছাত্র। প্রতিনিয়ত শিক্ষাব্যবস্থায় নেমে আসছে অবক্ষয়। তবু দেশের নীতি নির্ধারকদের, মন্ত্রী আমলাদের টনক নড়ে না। ছাত্র রাজনীতির নামে মেধাবী এক একটা মুখ মুত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়ছে, ছাত্রদের টগবগে তাঁজা খুনকে পুঁজি করে চলছে রাজনীতি নামের রমরমা ব্যবসা। আর এর মূলেও ঐ একই কারন, সমস্যাটি নিতান্তই সাধারণ গরীব জনগণের। এর সাথে আমলা-মন্ত্রী-রাজনীতিবিদদের কোন সম্পর্ক নেই। দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে আমেরিকায়লেখা পড়া করেছেন, মন্ত্রী আমলাদের সোনার ছেলেরা বিদেশে লেখাপড়া করছেন, আর যত অচ্ছুৎ প্রজাসাধারণের ছেলেমেয়েরা  ছাইপাশ পড়ছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ওরা মরল কি বাঁচল, কিছু শিখল কি শিখল না তাতে মন্ত্রী আমলাদের কি-ই বা যায় আসে?

প্রায়শই সংবাদ বেরোয় ওয়াসার পানি থেকে মলমূত্রের দূর্গন্ধ আসে, কেঁচো পাওয়া যায়। এ নিয়েও মিটিংওর পর মিটিং হয়, আর মিটিং মানেই ভূড়িভোজ, সম্মানি সঙ্গে টিভি কাভারেজ ফ্রি। ওয়াসার মলমূত্রে ভরা গ্লাস হাতে নিয়ে টিভির স্ত্রীনে দেখতে পাই মিটিংএর সভ্যদের সামনে দামী দামী মিনারেল ওয়াটারের বোতল। যারা ওয়াসার মলমূত্র পান করে নি, মিনারেল ওয়াটার ছাড়া যারা সৌচকর্মও করে না তারা কি করে ওয়াসার পানি সমস্যার সমাধান করতে পারে?

এভাবেই দেশে সমস্যাগুলো ডালপালা ছড়িয়ে মহীরুহে পরিণত হচ্ছে কিন্তু কোন সমাধানই আলোর মুখ দেখে না। দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, আমলা আর রাজনীতিবিদদের মিটিংএ যদি গ্লাস ভর্তি ওয়াসার মলমূত্র দেয়া যেত, ওদের চিকিৎসা যদি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ার্ডবয়দের হাতে হতো যেমনটা হয় সাধারণ রোগীদের, ওদের সন্তানরাও যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যেত,  ওদের ঘরের এসিগুলো বন্ধ হয়ে যেত যদি লোডশেডিং-এর তান্ডবে, তবে বাংলাদেশের কোন সমস্যাই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারতো না।

5 Replies to “ওয়াসার মলমূত্রে ভরা মন্ত্রী-আমলাদের পানপাত্র”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.