Tit for Tat

এই রিক্সা যাবে?

ডাক দিয়েই আকাঙ্খিত উত্তরটি শুনতে পাই, “না”।

গতকাল রাতে বেশ বৃষ্টি ঝরেছে, এখনো বাতাসে বৃষ্টির গন্ধ ভেসে আছে। আর এমন দিনে রিক্সাওয়ালাদের কাছ থেকে নেতিবাচক উত্তর শোনাটাই স্বাভাবিক নিয়মে দাড়িয়েছে। কিন্তু তাই বলে বার-তের বছরের রিক্সাওয়ালার মুখ থেকে না শব্দটা শুনে কিছুটা হতাশও হয়েছি, এত অল্প বয়সেই বখে যাওয়ার কোন মানে হয় না।

বুড়ো এক রিক্সাওয়ালার দৃষ্টি আকর্ষণ করি এবার। রিক্সাওয়ালা হিসেবে বুড়োরা মোটেই কাজের নয়, দশ মিনিটের পথ পাড়ি দেবে আধা ঘন্টায়, আবার ভাড়া দাবী করবে দ্বিগুণ। তবু আপাতত বুড়োকেই যাবে কি না জিজ্ঞেস করি। বুড়ো কিছুটা আগ্রহ দেখাতেই ছোকরা রিক্সাওয়ালাটা পাশে এসে ‘‍ওঠেন স্যার’ বলেই এক প্রকার জোড় করে রিক্সায় উঠিয়ে নিল।

ছেলেটা মনের কথা পড়তে পারে নাকি? ওকে নিয়ে এতক্ষণ আজে বাজে চিন্তা করেছি বলেই কি ছেলেটা আমাকে রিক্সায় তুলে নিল? মনের মাঝে অস্বস্তি নিয়ে একসময় জিজ্ঞেস করেই ফেললাম, প্রথমে তো যাবে না বললে তাহলে আবার রাজী হলে কেন? “ঐ বুইরা একটা আস্তা শয়তান, হেন্যাদিন*মোর প্যাসেঞ্জার ভাগাইয়্যা নিছে, তাই আইজ মুইও* হের প্যাসেঞ্জার ভাগাইছি”।

এতক্ষণে বুঝলাম যতটা শিশু ভেবেছিলাম আসলে ও ততটা ছোট নয়, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য অন্তত যতটুকু বড় হওয়া দরকার ইতোমধ্যেই পরিবেশ ওকে ততটুকু বড় করে তুলেছে। ছেলেটাকে বেয়াদব বলব না কি যে বুড়ো ওকে বেয়াদব হতে শেখাল তাকে শাপ দেব তা বুঝতে না পারলেও Tit for Tat প্রবাদটি যে অহেতুক চালু হয় নি তা আজ বেশ বুঝতে পারছি।


* হেন্যাদিন=সেদিন

* মুই=আমি

3 Replies to “Tit for Tat”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.