পুঁজিবাজারের টাকা বিদেশে পাচারকারী হিসেবে আওয়ামী লীগ এমপি জাহিদ মালেক চিহ্নিত

শেয়ার কেলেংকারীর রিপোর্ট অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া হয়েছ। রিপোর্টে চিহ্নিত হয়েছেন কেলেঙ্কারীর নায়ক রাঘব বোয়ালরা যাদের নাম দেখে স্বয়ং অর্থমন্ত্রীও ভড়কে গেছেন এবং শেয়ার কেলেংকারীর হোতাদের নাম প্রকাশ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন । একই সাথে পুঁজি বাজারে কারসাজির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া বিপুল অর্থ দেশ থেকে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও ইব্রাহীম খালেদ নিশ্চিত করেছেন। বিদেশী একটি প্রতারক চক্রকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অনুপ্রবেশ করিয়ে বাংলাদেশ থাই এলুমিনিয়াম (বিডি থাই) বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদের মন্ত্রীসভার টেক্সটাইল মিনিস্টার ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক সদস্য মরহুম লে. কর্নেল (অবঃ) এ মালেক প্রতিষ্ঠিত বিডি থাই এলুমিনিয়ামের চেয়ারম্যান ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী সংসদ সদস্য জাহিদ মালেক শেয়ারবাজার থেকে সীমাহীন দূর্ণীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরকে পথে বসিয়ে তাদের টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া ৯৬এর শেয়ার কেলেঙ্কারীর মূল হোতা সালমান এফ রহমান এবারেও শেয়ার কেলেঙ্কারীতে মূখ্য ভূমিকা রাখলেও নতুন নতুন এমন সব নাম তদন্তে উঠে এসেছে যাদের নাম প্রকাশ করার মতো সাহসী হতে অক্ষমতার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এটিএন নিউজের এক সাক্ষাৎকারে তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ মুন্নি সাহাকে বলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারীতে শীর্ষ নেতৃত্ব যারা দিয়েছেন তাদের নাম আগে শোনা যায় নি এমনকি বিশিষ্ট সাংবাদিক মুন্নি সাহাও তাদের চিনবেন না বলে তিনি জানান। নাম উল্লেখ না করলেও তাদের এ আলাপ চারিতায় এটাই মনে হয়েছে যে, ইতোমধ্যে প্রতিবেশী কোন দেশের মারোয়ারীদের দিকে যে ইংগিত দেয়া হয়েছিল এসকল অপরিচিত ব্যক্তিবর্গ সেসকল মারোয়ারী ব্যবসায়ীরাই হতে পারেন।

মুন্নিসাহা বার বার ফালুসহ বিএনপির নেতাদের নাম খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদের মুখ থেকে বের করার চেষ্টা করেছেন তবুও তিনি জানান বিরোধী দলের যে দু’য়েক জনার নাম এসেছে তাদের নাম মূলত সেকেন্ডারী মার্কেটেই পেয়েছেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের কেউ এসইসির সহায়তা পায় নি। সরকার দলীয় ব্যবসায়ী ও নেতারাই মূলত সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) ভয় অথবা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কিনে নিয়ে শেয়ার বাজারে ধ্বস নামিয়েছে বলে খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ মনে করেন।

ইতোমধ্যেই সরকার দলীয় নেতা ও ব্যবসায়ী কয়েকজনার নাম বলে ফেলেছেন খালেদ, তবে অপরিচিত মূল হোতাদের নাম প্রকাশ না করার ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ১০-১৫ দিন পরে তদন্ত রিপোর্ট অপরাধীদের নাম ছাড়াই প্রকাশ করা হবে কারণ অপরাধীরা অত্যন্ত ক্ষমতাশালী বলে তিনি দাবী করেন। যেখানে সালমান এফ রহমান, জাহিদ মালেক এমপির নাম প্রকাশ করা যায় সেখানে এমন কোন ক্ষমতাধর ব্যক্তি আছেন যাদের নাম প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। তার এই ভীতিই কি প্রতিবেশী দেশের মাড়োয়ারী মাফিয়াদের শেয়ার কেলেঙ্কারীতে জড়িত থাকা প্রমাণ করে না?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.