নোবেল পুরস্কারই কাল হলো ইউনুসের

অবশেষে থলের বেড়াল বেড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রথম নোবেল জয়ী ড. ইউনুস তার অসামান্য কৃতিত্বের জন্য জীবনের শেষ বয়সে চরমভাবে কেন লাঞ্ছিত হলেন তার সুস্পষ্ট জবাব প্রকাশিত হয়েছে। দেশের প্রায় শতভাগ মানুষের মাঝেই এ ধারণা আগে থেকেই বদ্ধমূল ছিল যে প্রতিহিংসার স্বীকার হচ্ছেন ড. ইউনুস। আজ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ করে হাইকোর্ট। অবশ্য বিশিষ্ট আইনবিদগণ আগেই ধারণ করেছিলেন যে রিটে ন্যায় বিচার হয়তো তিনি পাবেন না, এমনকি সাহসী বিচারপতি ছাড়া ড. ইউনুস ন্যায়বিচার নাও পেতে পারেন বলে আগেই  দি ইকোনমিস্ট আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। শুধু তাই নয়, ড. ইউনুসকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন আমন্ত্রণ জানালে ৮ তারিখে যাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যেতে না পারেন তার জন্য তিন দিন শুনানী ঝুলিয়ে রাখা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনি যদিও আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হবে না তবুও সরকারের আশংকা ছিল হিলারী ক্লিনটনের সাথে ড. ইউনুসের সাক্ষাৎ সরকারকে চাপের মুখে ফেলতে পারে।

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আজ স্পষ্ট করেই ড. ইউনুসের মহা অপরাধটি তুলে ধরলেন। বললেন, ” বাংলাদেশে যদি শান্তির জন্য নোবেল প্রাইজ পেতে হয় তাহলে আমি বলব দু’জনের পাওয়া উচিত ছিল, শেখ হাসিনা আর সন্তু লারমা”। ধন্যবাদ মাহবুবে আলম, অন্তত শেষ মুহুর্তে হলেও ফাঁস করে দিয়েছেন প্রতিহিংসার কথা। হ্যা, জনতা যা অনুমান করেছিল তাই শতভাগ সত্যি হয়েছে। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তিই ছিল তার সবচেয়ে বড় অপরাধ। ৩০ লক্ষ বাংলাদেশীর হত্যাকারী ৯৩ হাজার পাকিস্তানী হায়েনাকে বিনা বিচারে ছেড়ে দিয়ে বিশ্ব শান্তির (?) অনন্য নজির স্থাপন করেও শেখ মুজিব শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাননি, স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে বিশৃংখলা আর অরাজকতা সৃষ্টিকারী (?) জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীদের হত্যা করে দেশে শ্বশ্বানের শান্তি বইয়ে দিয়েও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাননি, যে জামাল-কামাল সোনার ছেলেরা সেনা অফিসারদের বউদের ধরে এনে শান্তি দিতে চেয়েছিল, তাদের সে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ শান্তিতে নোবেল দেয়া হয় নি, ব্যাংক ডাকাতি আর লুটপাটের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার যে মহাসমীকরণ তৈরী করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর সোনার ছেলেরা, তার যোগ্য পুরস্কার স্বরূপ অর্থনীতিতে তাদের নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় নি, যে শেখ হাসিনা একটার পরিবর্তে দশটা লাশ ফেলে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে শান্তির নতুন ফর্মূলা আবিস্কার করেছিলেন ,তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় নি, যিনি ছন্দের জাদুকরকে হার মানিয়ে রচনা করেছিলেন রূপকল্পের অমরকাব্য “২০টাকা সের চাল খাব না, ধানের শীষে ভোট দেব না, দশ টাকায় চাল খাবো, নৌকা মার্কায় ভোট দেব” তার সে সাহিত্যের স্বীকৃতি স্বরূপ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেয়া হলো না, সেই নোবেল পুরস্কারই কি না দেয়া হলো ভাঙ্গাচোরা চেহারার ইউনুস নামের সুদখোরকে?

হ্যা, প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার ড. ইউনুস।  বলা হয়েছে, চাকুরীর বয়স সীমা তিনি মানেন নি। বেশ ভালো কথা, তবে তা ৯ বছর পরে কেন আপনাদের মনে উদয় হলো, এতোদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কি ভল্টে নতুন টাকার গন্ধ শুকছিল? ৬০ বছর বয়সের স্থলে সত্তর বছর কেন হাজার বছর কেউ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মোটেই মাথাব্যথা হতো না, বিশেষ করে বাংলাদেশে বলতে গেলে যেখানে দূর্ণীতিই অর্থনীতির মূলনীতি হয়ে দাড়িয়েছে, সেখানে বয়স নিয়ে হৈ চৈ করার তেমন কোন কারণও দেখছে না সাধারণ মানুষ। সবারই একটিই আশংকা ছিল দেশের প্রথম নোবেল জয়ী হওয়াটাই তার সবচেয়ে বড় অপরাধ, আর এ অপরাধের খেসারত তাকে দিতে হবে কড়ায় গন্ডায়। আর তা-ই হয়েছে, হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ম রক্ষায় পাগল হয়ে উঠেছে। অথচ ড. ইউনুস প্রথম নোবেলজয়ী হিসেবে এতটাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্থান দখল করে নিয়েছিলেন যে, শুধু একজন ব্যক্তির জন্য নিয়ম ভঙ্গ করে নতুন নিয়ম বানালেও তাকে শ্রদ্ধা জানানো শেষ হওয়ার নয়।

আচ্ছা কেউ কি বলতে পারেন, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কত? মানে বলতে চাচ্ছি কত বছর বয়স হলে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা হারাবেন? না, তার নিয়ম লেখা নেই, তাই কোমার রোগীরাও আজ দেশের রাষ্ট্রপতির আসল অলংকৃত করে আছে। আচ্ছা, রাজনৈতিক দলের প্রধানদের কি কোন বয়সসীমা থাকে? না থাকে না, কারণ আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি, এগুলো রাজতন্ত্রী দল, এখানে আজ্রাইলের হস্তক্ষেপ ছাড়া দলের প্রধানের অবসর নেয়ার কোন বিধান নেই। আচ্ছা কেউ কি বলতে পারেন, রাষ্ট্রীয় অফিস আদালতে কর্তাবাবুর পাছার দিকে যে ব্যক্তিটির ছবি শোভা পায়, তার কি কোন মেয়াদ আছে? সংবিধান সংশোধন করা হচ্ছে, ঐ ছবি কেয়ামত পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখতে হবে, ঠিক ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের মতো, গাছে ফাঁসির দড়িতে ঝুলে ঝুলে, মাংস খসে, হাড় গোড় একটা একটা খসে পড়ার পরে তবেই মুক্তি মিলত দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের।

সব ব্যক্তি সমান নয়, সবার মর্যাদা সমান নয়। কাউকে কাউকে সম্মান জানাতে বঙ্গবন্ধু ডাকা হয়, দেশের সবাইকে নয়। কারো কারো জন্য রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা যানযট লাগিয়ে অপেক্ষা করতে হয়, কারো কারো জন্যে এম্বুলেন্সে অসহায় রোগী বন্ধ রাস্তাতেই অক্কা পায়। তাহলে, যে ব্যক্তিটি দেশের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান, নোবেল পুরস্কারটি জয় করে আনলেন তার জন্য কি ভিন্ন কোন আইন হতে পারতো না, ঠিক যেমন আইন করে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে অফিস আদালতে। ব্যক্তিগত হিংসার কারণে তাকে এতটা অপদস্ত করার আদৌ কি কোন প্রয়োজন ছিল? সবাই জানে সবুরে মেওয়া ফলে। অনেক দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নোবেল জয়ের খায়েশ ছিল এটা সবাই জানে, এবং এ জন্য আন্তর্জাতিকভাবে জোর লবিংও চলছে এটাও ওপেন সিক্রেট। এ বছরের শুরুতে ইউরোপ সফর ছিল সে কর্মসূচীরই অংশ। যেভাবে শেখ হাসিনা একের পর এক ডক্টরে ডিগ্রী বগলদাবা করেছেন, সেভাবে ঠিকই হয়তো নোবেল পুরস্কারটিও কিনে ফেলতে পারতেন, বিশেষ করে যেখানে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায়ই বিতরণ করা হয় বলে জোর গুঞ্জন আছে।

তাহলে ড. ইউনুসকে এভারেস্টের চূড়া থেকে টেনে হিচড়ে নামাতে গিয়ে শেখ হাসিনা নিজেই যে গভীর খাদে আছড়ে পড়বেন না তারই বা নিশ্চয়তা কোথায়।

One Reply to “নোবেল পুরস্কারই কাল হলো ইউনুসের”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.