‘জাহানমণি’র ক্যাপ্টেন ফরিদ আহমেদের সাক্ষাৎকার : বাঁচার আকুতি

সোমালিয় জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জাহানমণির খাবার নষ্ট হয়ে গেছে, ফুঁরিয়ে গেছে ডিজেল, চলছে না জেনারেটর, ফ্রিজ। অন্ধকারে জাহাজের হুইল হাউজে একই রুমে গাদাগাদি করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন দু’মাস বন্দী ২৬ বাংলাদেশী নাবিক। অসুস্থ জাহাজের ক্যাপ্টেন,অসুস্থ আরো অনেকে। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর দিকে ধেয়ে চলেছেন তারা। জাহাজের একমাত্র নারী, চীফ ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রী রুকসানা গুলজার কিডনী যন্ত্রণায় অস্থির, অসুস্থ চীফ ইঞ্জিনিয়ার নিজেও। কান্নাজড়িত কন্ঠে চীফ ইঞ্জিনিয়ারে বাঁচার আকুতি। মাছ বাজারের মতো দর কষাকষি না করে, জীবন নিয়ে ছিনিমিনি না খেলে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়া হোক এমনটাই দাবী তার। গতরাতে এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান মুন্নি সাহার টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দেন জাহাজের নাবিকেরা, নীচে যার ভিডিও ফুটেজ তুলে দিলাম।

“মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি
মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি”

এ মূলমন্ত্রে একাত্তরে আমরা শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছি। অথচ আজ আমার দেশের সন্তানেরা শুধু মাত্র সরকারের একটি সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে মৃত্যুর দিকে ধেয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমালি জলদস্যুদের হাতে অপহূত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি জাহান মণি এবং এর ২৬ নাবিককে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার (আইএমও) সহযোগিতা চেয়েছেন এবং অনুরোধ পেলে বাংলাদেশ সোমালিয়া এবং এর আশপাশে জলদস্যুতা দমনে নিয়োজিত টাস্কফোর্সে যোগ দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।  তার এ ঘোষণা প্রকারান্তরে নাবিকদের জীবনকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। এ মুহূর্তে সর্বাগ্রে প্রয়োজন নাবিকদের সুস্থ্যভাবে ফিরিয়ে আনা, তাতে যত টাকার মুক্তিপণই দেয়ার প্রয়োজন হোক না কেন। ভালোয় ভালোয় নাবিকদের ফিরিয়ে আনার পরে টাস্কফোর্সে যোগদানের ঘোষণা দেয়া যেত, প্রয়োজনে জলদস্যুদের সাথে যুদ্ধও করা যেত, কিন্তু যে মুহুর্তে সমঝোতাই সর্বোত্তম কৌশল, তখন হুমকি ধমকি দিয়ে বাংলাদেশের সন্তানদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার অধিকার সরকারের নেই।

শুধু মাত্র মৃত ব্যক্তির নাম স্থায়ী করার জন্য অপ্রয়োজনে ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে বিমানবন্দর বানানোর অনুমোদন দেয়া যায়, আর জীবিত ২৬ নাবিককে ফিরিয়ে আনতে টাকা খরচ করা যায় না এ কেমন বর্বরতা? তবে কি বেঁচে থাকাটাই ওদের অপরাধ?  বেঁচে থাকার অপরাধেই কি মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করছে সরকার?

আসুন, জাহান মনির সকল বন্দীকে জীবিত ফিরিয়ে আনতে আত্মকেন্দ্রিক সরকারকে বাধ্য করতে যে যার অবস্থান থেকে তীব্র চাঁপ সৃষ্টি করুন।

2 Replies to “‘জাহানমণি’র ক্যাপ্টেন ফরিদ আহমেদের সাক্ষাৎকার : বাঁচার আকুতি”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.