আওয়ামী লীগের নেতা খুন : আইন শৃংখলার উন্নয়ন

দেশের আইন শৃংখলার উন্নতির ধারা অব্যাহত রয়েছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘর সংলগ্ন বায়তুল নুর জামে মসজিদে জুমুয়ার নামাজ পড়তে গিয়ে মসজিদের পাশেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন ৪১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক ফজলু। মাত্র ৬ দিন আগে একই ওয়ার্ডের সভাপতি হাজী নূর মোহাম্মদ গুলিতে আহত হন। শীর্ষ নিউজ ডটকমের সংবাদে জানা যায় দুটি মোটরসাইকেলে ৬ সন্ত্রাসীর সংঘবদ্ধ দল খুনের সাথে জড়িত। সন্ত্রাসীদের মধ্যে একজন ফজলুকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি করে। গুলিটি ল্যভ্রষ্ট হলে প্রান বাঁচাতে ফজলু দৌড়ে মসজিদের কাছে একটি আম গাছের নিচে লুকানোর চেষ্টা করেন। ওই সময় ৪ সন্ত্রাসী গাছের সঙ্গে তাকে চেপে ধরে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পর পর ৪ রাউণ্ড গুলি করে। গুলির শব্দে মসজিদের মুসল্লিরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে এদিক-সেদিক দৌঁড়ে পালাতে থাকেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা পর পর দুটি ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়।

মোটামুটি সিনেমাটিক দৃশ্য। আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলছেন, আইন শৃংখলা অতীতের চেয়ে ভালো, তার চেয়েও জোর গলায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলছেন, আইন-শৃংখলা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো। সব কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশে মহাসমারোহে চলছে ঠাট্টা-মশকরা আর এ্যাকশনে ভরপুর ঢাকাই সিমেনা। ছোট বেলায় রবিউলের কমেডি দেখে আনন্দ পেতাম, সিনেমায় ছাগলের মতো কান নাড়াতো, ঠিক তেমনি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও খুন-খারাবি, চুরি-ডাকাতি নিয়ে মিডিয়ার সামনে কমেডি করেন, এবং সর্বশেষে ক্যামেরার সামনে ‘ধন্যবাদ’ বলে নাটকীয় ভঙ্গিমায় ঘুরে দাড়ান, দেখে দেশবাসী আহ্লাদিত হয়। যারা দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে পেটপুরে খেতে পারছে না, যারা সন্ত্রাসী আর চোর বাটপারদের জ্বালায় রাস্তায় নামতে পারছে না, তারা অন্তত টিভি স্ক্রীনে মন্ত্রীদের রঙ্গ-তামাশা দেখে পুলকিত হন, কিছুটা সময়ের জন্য হলেও পেটের ক্ষুধা ভুলে থাকা যায়, এই বা কম কিসে?

তবে যারা রসকসহীন কাটখোট্টা গোত্রের তারা কমেডি দেখে বিরক্ত হন। তারা এসব কমেডির আড়ালেও ট্রাজেডি খোঁজে এবং ঠিকই তারা বুঝে ফেলে, সত্যি সত্যিই দেশের আইন-শৃংখলার উন্নতি হচ্ছে, তবে তা সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বরং খুনি-সন্ত্রাসী আর চোর-ডাকাতদের জন্য। কেউ হারবে আর কেউ জিতবে এটাই নিয়ম, সব সময় ক্রেতার স্বার্থ দেখতে হবে তা তো নয়, বরং মাঝে মাঝে বিক্রেতার স্বার্থও দেখতে হয়, যেমনটি দেখেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ঠিক তেমনি সব সময় জনসাধারণের স্বার্থ দেখলে কি চলে? কখনো কখনো সন্ত্রাসী-গডফাদার, চোর-ছ্যাঁচোরদের স্বার্থও দেখতে হয়, বিশেষ করে চোর-ছ্যাঁচোর আর খুনী-সন্ত্রাসী যদি নিজ দলের লোক হয়, আত্মীয়-স্বজন হয়। বর্তমান আওয়ামী সরকার ঠিক তাই করছে। তাইতো সন্ত্রাসী-গডফাদার আর চোর-ছ্যাঁচোর নিয়ন্ত্রিত সোনার খনি “আওয়ামী লীগ” রক্ষায় সরকার সন্ত্রাস বান্ধব আইন-শৃংখলার উন্নয়নে বদ্ধপরিকর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.