রাজনীতির শকুনেরা খুবলে খায় বাংলাদেশের ইজ্জত

রিক্সা থেকে নেমেই গ্যাঞ্জাম মাসুম রিক্সাওয়ালার গালে ঠাস করে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিল। হতভম্ব রিক্সাওয়ালা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিক্সার হাওয়া ছেড়ে দিয়ে হুংকার ছাড়ে বাট্টু খবিশ, “হরতালের রিক্সা বাইর করছোস খা***র পুত, একদম জানে মাইর্যা ফালামু”।

রিক্সাওয়ালা দ্রুত কেটে পড়ে। গ্যাঞ্জাম মাসুম আর তার খাস চাচমা বাট্টু খবিশ দাত কেলিয়ে হাসে। হরতালে এই এক মজা। রিক্সায় চড়ে পিকেটিং পয়েন্টে এসে ভাড়া না দিয়ে উল্টো রিক্সাওয়ালাকে নাস্তানাবুদ করা যায়, পয়সাও বাঁচে আবার বিনোদনও হয়।

গ্যাঞ্জাম মাসুম। আসল নাম রমজান মাসুম হলেও বিভিন্ন দাঙ্গা ফাসাদে ওর জুড়ি নেই, তাই রমজান নামটা গ্যাঞ্জামে বিবর্তিত হয়েছে। আর বাট্টু খবিশের নামটাও ওর নোংরা খবিশী চরিত্রের জন্য খলিল থেকে খবিশে রূপান্তরিত হয়েছে।

ইদানিং হরতাল করে আর মজা পাওয়া যায় না। লোকজন হরতাল মানতেই চায় না। রিক্সাওয়ালারা যে যার মতো চলো, এমনকি বাস-গাড়ীর জন্য মাঝে মাঝে বিশাল জানজটও লেগে যায়। আগে আট নম্বর তের নম্বর বাসগুলো চলতো, এখন ভদ্দরলোকদের বাসও চলে। কেউ আর হরতাল পাত্তা দেয় না, লোকজনের এমন ভাবগতি দেখে পিত্তি জ্বলে যায় খবিশের।

ওদিকে আজকের হরতালটা যে করেই হোক সাকসেস করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে নেতারা। হরতাল এখন নেত্রীর ইমেজের প্রশ্ন, ইজ্জতের প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে। যে কোন মূল্যে, প্রয়োজন আট-দশটা লাশ ফেলে হলেও হরতাল সাকসেস করতে হবে। ফুটফাট পটকা ফুটালে এখন আর হরতাল জমে না। তাই হরতাল জমাতে হলে অন্য লাইন ধরতে হবে, মনে মনে ভাবে গ্যাঞ্জাম মাসুম।

গলির মুখ থেকে একটা সিএনজি বের হতেই পথ আগলে দাড়ায় গ্যাঞ্জাম মাসুমের দল। প্রচন্ড ভয়ের সাথে চোখ বড় বড় করে সিএনজির ভেতরে বুড়ো মতো একটা লোককে জড়িয়ে কাপতে থাকে ষোল-সতের বছরের এক কিশোরী। কয়েকদিন ধরেই প্রচন্ড জ্বর মেয়েটির। চোখের কোনে রক্ত জমেছে, দাত দিয়েও রক্ত গড়াচ্ছে, শরীরের বিভিন্ন অংশে চামরার নীচে চাক চাক রক্ত জমাট বেধেছে। ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচতে তাই হরতালকে উপেক্ষা করেই হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।

গ্যাঞ্জাম মাসুমের নির্দেশে টেনে নামানো হলো মেয়েটির বৃদ্ধ বাবাকে। “হালার বুইড়্যা, জানস না আইজ হরতাল, তারপরও সিএনজি মারাও” বলে শাসায় দলের একজন। বৃদ্ধ শমসের আলী হতভম্ব। সরকারী সৎ চাকুরে হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি। তার মুখের দিকে তাকিয়ে কেউ কথা বলে না, তুই তুকারি করার তো প্রশ্নই আসে না। আজ সেখানে তাকে এমন ভাবে অপদস্ত হতে হচ্ছে ভেবে ভারী বিপন্ন বোধ করেন। তবুও পরিবেশ কিছুটা হালকা করতেই বলেন, “ভাইরে, আমি তো জানি আজ হরতাল, কিন্তু অসুখ বিসুখতো আর হরতাল মানে না, মেয়ের ডেঙ্গু, তাই হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।”

বৃদ্ধ শমসের আলী কথা শেষ করতে পারেন না, তার আগেই মেয়ের ভয়ার্ত চিৎকার কানে আসে। বাট্টু খচিশ মেয়েটিকে সিএনজি থেকে টেনে নামাতে নামাতে বুকটা খামচে ধরেছে, ফলে অসুস্থ মেয়েটি ভয়েই মুচ্র্ছা গেছে। বাট্টু খবিশের অভ্যাসই এমন, মেয়েদের দেখলে মাথা ঠিক থাকে না, সুযোগ পেলেই নরম মাংসের লোভে পাগল হয়ে যায়। ক্রোধে অন্ধ হয়ে বৃদ্ধ শমসের আলী বাট্টু খবিশের কলার চেপে ধরে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেন। কিন্তু এর পরিণতির কথা তিনি মোটেই আচ করতে পারেন নি।

মুহুর্তেই গ্যাঞ্জাম মাসুমের দল হায়েনার মতো ঝাপিয়ে পড়ে শমসের আলীর ওপর। পাজামা, পাঞ্জাবী গেঞ্জি খুলতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে বাট্টু খবিশের অভ্যস্ত হাত। বৃদ্ধ শমসের আলী অনুনয় বিনয় গ্যাঞ্জাম মাসুদের গর্জনের আড়ালে হারিয়ে যায়। “তোর মতো কোটি মানুষের চেয়ে নেত্রীর ইজ্জত অনেক বড়, তোরা নেত্রীরে ইজ্জত করোস না, হরতালে গাড়ি নিয়া রাইরাও। নেত্রীর ইজ্জতের লাইগ্যা দরকার হইলে তোগো মতো ১৪ কোটি মানুষরে ল্যাংটা কইরা রৌদের মধ্যে ফালাইয়া রাখুম।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.