ইলেক্ট্রিক চেয়ারেই কি মৃত্যু হবে সাকার!

ইলেক্ট্রিক চেয়ারে নির্যাতন করে ৬ বার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে হত্যার ঘোষণা দিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। ১৮ ডিসেম্বর ২০১০, শনিবার রাজধানীর টাউন হল মাঠে এক জনসভায় মতিয়া চৌধুরী অঙ্গীকার করেন যে সাকা চৌধুরী একাত্তরে যেভাবে নূতন চন্দ্র সিংহ সহ আরো অনেককে ইলেক্ট্রিক চেয়ারে শক দিয়ে মেরেছিলেন, সে শাস্তিই তার জন্য নির্ধারিত আছে। তার এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতির নতুন মহাসড়কে প্রবেশ করল আওয়ামী লীগ। একজন জনপ্রতিনিধিকে যদি এভাবে হত্যার ঘোষণা দেয়া হয় তাহলে সাধারণ মানুষের জান মালের নিরাপত্তা কোথায়?

কিন্তু মাত্র দু’টো দিন আগেই সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে নূতন চন্দ্র সিংহের ছেলে প্রফুল্ল চন্দ্র সিংহের সাক্ষাৎকার দেখলাম। সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন তার বাবাকে মন্দির থেকে বের করে মন্দিরের আঙ্গিনায় ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল। যদিও তিনি নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারেন নি, ব্রাশফায়ারের পর তার ভাষায়, “তখনো নাকি প্রাণ ছিল, সালাউদ্দিন নাকি ওর পিস্তল থেকে ও-ও একটা গুলি..”। এখানে একটি বিষয় অবোধগম্য, প্রফুল্ল চন্দ্র সিংহ যেখানে নিজেই বিভ্রান্ত, স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না সাকা চৌধুরী তার বাবাকে হত্যা করেছে কি না, সেখানে মতিয়া চৌধুরী জানালেন নুতন চন্দ্র সিংহকে সাকা চৌধুরী হত্যা করেছেন, এবং তা ইলেক্ট্রিক চেয়ারে শক দিয়ে। ছেলে জানে না, জানেন মহামতি মতিয়া, অষ্টম আশ্চর্য বিষয়।

আমার ধারণা ছিল, মিথ্যে বলায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী চ্যাম্পিয়ন তোফায়েল আহমেদ। কিন্তু আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা আসলে কেউ যে কারো চেয়ে কোন অংশে কম যান না তা মতিয়ার বক্তব্যে প্রমাণিত হলো। দলের নেতা নেত্রীদের মিথ্যাচার দেখে মনে হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের জন্য অপরিহার্য  প্রধান যোগ্যতাই হলো মিথ্যাচার, যেন আওয়ামী লীগ মিথ্যাচারের এক একটি মজবুত ইটের গাথুনিতে তৈরী দূর্ভেদ্য দূর্গ। যে যত বড় মিথ্যেবাদী, সে তত বড় আওয়ামীগ নেতা, অভিনেতা, মিথ্যে বলাকে রীতিমতো শিল্পে রূপ দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

না, সাকা চৌধুরীকে নিরপরাধ প্রমাণ করার চেষ্টা করছি না বরং একজন জনপ্রতিনিধিকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগ যে মহাযজ্ঞ শুরু করেছে তাতে দেশবাসী আতংকিত এবং তাদেরই একজন হিসেবে এর বিরুদ্ধে কথা বলা জরুরী মনে করছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে নাটোরে যেভাবে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্য রাজপথে হাজারো লোকের সামনে নৃশংসভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হলো, তাতে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায় চাপিয়ে সাকা চৌধুরীকে হত্যা না করে যে সরকার পিছপা হবে না তা ভেবে শিউরে উঠছি। আর ৬ বার নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধিকে ঘোষণা করে হত্যা করতে যদি আওয়ামী লীগ কুন্ঠিত না হয় তা হলে ১৬ কোটি বাংলাদেশীর জীবনের নিরাপত্তা কোথায়? বিএনপির সবচেয়ে শক্ত নেতাকেই যদি হত্যা করা যায়, তাহলে বিএনপির চাটুকার যে সকল নেতারা রয়েছেন, (যারা মিডিয়ার সামনে মেপে মেপে কথা বলেন যাতে বিএনপিতে তাদের অবস্থান ক্ষুন্ন না হয় আবার আওয়ামী লীগও বেশী বিরাগভাজন না হয়), সে সকল নেতাদের ছারপোকার মতো পিষে পিষে আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন করে দেবে না তারই বা গ্যারান্টি কোথায়?

স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরে যুদ্ধাপরাধের ধুয়ো তুলে কাউকে হত্যার অধিকার আওয়ামী লীগকে কে দিয়েছে? যে হায়েনাকে ৬টি বার নিজেদের ভালোমন্দের পক্ষে কথা বলার জন্য নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছে জনতা, সে হায়েনাকে হত্যার অধিকারতো গুডস হীলের আশেপাশের মানুষগুলোরই ছিল। কিন্তু তারা তাকে বারবার সংসদে পাঠালো কেন? চট্টগ্রামের মানুষ কি জানতো না সাকা চৌধুরী যুদ্ধাপরাধী? যদি জেনেই থাকে, তবে তারপরও তাকে কেন নির্বাচিত করেছে ওরা? যুদ্ধাপরাধী জেনেও বারবার নির্বাচিত করছে তারা, তার মানে এই তো, তারা ঐ যুদ্ধাপরাদীকেই মেনে নিয়েছে। তাহলে সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়াকে উপেক্ষা করে, সাধারণ মানুষের রায়কে অবজ্ঞা করে একজন জনপ্রতিনিধিকে ইলেক্ট্রিক চেয়ারে হত্যার যে নীল নক্সা আওয়ামী লীগ করছে তা সাধারণ মানুষ কিছুতেই মেনে নিতে পারে না।

প্রতিহিংসা প্রতিহিংসারই জন্ম দেয়। মানুষের ভালোবাসাকে উপেক্ষা করে নিতান্ত ব্যক্তিগত কোন ক্ষোভের বশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাকা চৌধুরীকে হত্যার আয়োজন করলে তা কিছুতেই তার জন্য সাফল্য বয়ে আনবে না। মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ যে হিংসার হাইওয়ে উদ্বোধন করে যাচ্ছে সে হাইওয়ে ধরে তাকেই চলতে হবে বছরের পর বছর।

7 Replies to “ইলেক্ট্রিক চেয়ারেই কি মৃত্যু হবে সাকার!”

  1. amarto mone hoi,tahai hobe.karon bnp andolon kisui korcy na.bnp saka kyo confions korty pare nai. asholy bnp ase shobida badider dol hoye.kaleda ky jokon arrest kora hoby ei 2011 ty,aponara dykben bnp ekonkar motoi ranna ghore thakby.

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    বিএনপির কিছু স্যুটেট বুটেট নেতা মনে করেন, জনগণ যেভাবে ক্ষুদ্ধ তাতে বিএনপি তো আগামীতে ক্ষমতায় আসছেই, তাহলে রাজপথে নামার দরকার কি বরং মিডিয়ার সামনে পলিশকরা চাঁদমুখ দেখানোই সবচেয়ে নিরাপদ।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.