সীমান্তে গুলি উদ্ধার : ভারতকে তুষ্ট করতে নাটক নয় তো?

শেরপুরের ঝিনাইগাতি সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ১৩ হাজার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে (শীর্ষনিউজ ডটকম প্রথমে ৩ লাখ রাউন্ড গুলি উল্লেখ করে)। শেরপুর পুলিশ শনিবার ভোরে এসব গুলি উদ্ধার করে। এসব গুলি ৫৭টি প্যাকেটে মোড়ানো ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে ঝিনাইগাতির বাঁকাকুড়া গুচ্ছ গ্রামে অভিযান চালায় ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল।

গুলি উদ্ধার ঘটনার সাথে ভারতীয় স্বাধীনতাকামী ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) কে জড়িয়ে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে। ভারত সব সময়ই ভারতীয় স্বাধীনতাকামীদের ঘাটি বাংলাদেশে রয়েছে বলে দাবী করে আসছে, এবং বাংলাদেশ সব সময়ই এর বিরোধীতা করেছে। ভারতে বাংলাদেশ বিরোধী সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং বাংলাদেশ বিরোধী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করছে বলে অনেক বার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। অথচ আজ সরকার গুলি উদ্ধারের সাথে বিচ্ছিন্নতাবাদী ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) নাম যুক্ত করে বাংলাদেশকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য বলে প্রমাণ করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে কার স্বার্থে?

স্পষ্টত আমার মনে আছে, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বরিশালে তোয়াফেল আহমেদ প্রকাশ্য জনসভায় একবার বাংলাদেশে ভারতীয় ক্যাম্পের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের আমলে কোন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়া হবে না। একই ভাবে আবারো আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বার বার ভারতের অভিযোগকে সত্য প্রমাণের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশের সব সময়ই স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কথা, তবুও বৃহত্তম প্রতিবেশী ও স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী ভারতের সাথে অটুট বন্ধুত্বের স্বার্থে বাংলাদেশ সব সময়ই ভারতের স্বাধীনতাকামীদের এড়িয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের ভিতর থেকে ভারতের ট্রানজিট সুবিধা দিতে, ভারতের ত্রিপুরায় বাংলাদেশের উপর থেকে সশস্ত্র ভারতীয় সেনাবাহিনীকে রাস্তা করে দিতে সীমান্তে ভারতীয় স্বাধীনতাকামীদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের মিথ্যে কল্পকাহিনীকে সত্য প্রমানে বারবারই ষড়যন্ত্রের জাল বুঁনে চলেছে আওয়ামী লীগ।

দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে শুধু ভারতের স্বার্থ দেখার জন্যই কি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে? অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ভারত তোষণ নীতির বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.