ইচ্ছেপূরণ, কাকতাল নাকি অলৌকিকতা !!

অলৌকিক বিষয়গুলো আমি হুট করে বিশ্বাস করি না, আর তা যদি হয় কোন পীর ফকিরের কেরামতির কথা তাহলে তো কথাই নেই, একশ হাত দূরে থাকি বিশ্বাস থেকে। তাই বলে যে অলৌকিকতাকেই অবিশ্বাস করি আমি তা কিন্তু নয়। যা আমরা স্বাভাবিক ভাবে করতে পারি না তাই যদি কেউ অনায়াসে করে ফেলে তবে তাই তো অলৌকিকতা। আজকের যুগে আমরা যা কল্পনা করতে পারি না যেমন ভবিষ্যতের কোন কিছু যদি কেউ করে দেখায় তবে তাও অলৌকিক ব্যাপার হবে। হাজার বছর পরে তা যখন আবিস্কৃত হবে, সবার হাতে হাতে সে আবিস্কার চলে আসবে তখন নিশ্চয়ই তা আর অলৌকিক থাকবে না।

সে যাই হোক কিছুতেই বিকেলের কোচিং করার ইচ্ছে হচ্ছিল না। ক্লাস ফাইভের বৃত্তির জন্য হেড স্যার প্রতিদিন আমাদের ফ্রি কোচিং করান । ভালো ছাত্র হওয়ার এই এক ঝামেলা, সবাই যখন ফুটবল নিয়ে ছুটোছুটি করছে, হাডুডু খেলে হাত পা ভাঙছে ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদেরকে বিরক্তিকর কোচিং নিয়ে পরে থাকতে হয়।
খুবই ভালো মানুষ আমাদের এ স্যার, কাউকেই কখনো বেত দিয়ে মারেন নি, তবে তারপরও কেন যেন আমরা তাকে এড়িয়ে চলি, দেখলেই গা হীম হয়ে যায়, কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলি।

কোচিংয়ের সবাই এসেছে, স্যারও হয়তো কিছু সময়ের মধ্যে এসে পড়বেন। কিন্তু কিছুতেই যেন আজ আর মন চাইছে না ক্লাস করতে। সব বন্ধু মিলে হৈ চৈ করে বেলা শেষে আবার বাসায় ফিরে যাব এমনটা ভাবতে খুব ভালো লাগে। তাই সবাই মিলে শলাপরামর্শ করতে বসলাম। কি করা যায়, বহু চিন্তা করেও কোন কূল কিনারা করা যায় না। যাবেই বা কি করে কল্পনা করতে শুরু করলেই যত সুপারম্যানেরা হাজির হয়, কেউ বা টারজান হতে বলে, কেউ বা লোভ দেখায় প্লাস্টিকম্যান হওয়ার। তবে শেষ পর্যন্ত একটা উপায় বের হলো, আমাদের আজকের এ বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য আমরা মীর্জাগঞ্জের মরহুম ইয়ারউদ্দিন খলিফা (রঃ) এর দারস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আল্লাহর কাছে চাইলেইতো আর শুনবে এমন ভরসা নেই, তাই আল্লাহর এক প্রিয় বান্দাকে খুশি করে কার্যদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

সবাই মিলে আল্লাহর কাছে হাত উঠালাম, “আল্লাহ আজ যেন স্যার কিছুতেই না আসেন, স্যারের যেন আজ অসুখ করে, তোমার প্রিয় বান্দা মীর্জাগঞ্জের মরহুম ইয়ারউদ্দিন খলিফা সাহেব (রঃ)-এর দরবারে দান করবো, শুধু স্যারের অসুখটা বাঁধিয়ে দাও”।

দোয়া করলে কি হবে, আমরা স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। শেষে বুদ্ধি করলাম দরবারে আগে ভাবে দান করে ফেলি, তাহলে একটা দায়বদ্ধতা থেকে যাবে খলিফা সাহেবের। টাকা হাতে পেয়েও কাজ করবেন না এমন অকৃতজ্ঞতো তিনি নন। সবাই যার যার পকেট হাতড়িয়ে বারো আনা জড়ো করে শেষে দান বাক্সে জমা দিলাম।
এবার আমাদের অপেক্ষার পালা শুরু হলো, দান কি বিফলে যাবে, টাকাতো দিয়ে ফেলেছি কাজ না হলেও আর টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না, তাই আমরা কায়মনোবাক্যে আল্লাহকে ডাকতে লাগলাম তার প্রিয় বান্দার দোহাই দিয়ে।

কিছুক্ষণ পরেই স্যারের বড় ছেলে এসে হাজির। বললেন, বাবা অসুস্থ, জ্বর এসেছে, তোমাদের আজ আর পড়াতে পারবেন না”। এতো খুশি হলাম আমরা যে পারলে তখনই আনন্দে চিৎকার শুরু করি, ভাগ্যিস কষ্ট করে হাসিটা চাপা দিয়েছিলাম।

পীর ফকিরের কেরামতিতে আমার আজো বিশ্বাস জন্মেনি, তবে এ ঘটনা আমাকে আজো ভাবায়। আসলে কি ব্যাপরটা অলৌকিক ছিল, নাকি এতোগুলো শিশুর প্রার্থনার ফল, নাকি নিছক কাকতাল। আমরা দোয়া করার আগেই তো স্যারের জ্বর শুরু হয়েছে, তাহলে এটা কি নিছক কাকতাল, কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারি না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.