অন্তর মম পবিত্র কর প্রভূ

কলেজে স্যারের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মনে মনে গালি দেয়া শুরু করলাম।
গালি দেয়া আমার স্বভাব নয়, এমনকি কলেজে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে কু…. বাচ্চা বলাটাও পাপ মনে করতাম।
কিন্তু স্যারের অত্যাচার আমাকে এত বিক্ষুব্ধ করে যে শেষ পর্যন্ত গালি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। স্যারকে তো আর সামনা সামনি গালি দেয়া যায় না, আমার বাবাও আবার একটা কলেজে পড়ান, তাই মনে মনে গালি দেয়াই শ্রেয় ভাবলাম। এতে মনের ঝালও মেটে রাগও প্রশমিত হয়।
মনে মনে ভালো কাজের নিয়ত করলে এক নেকি পাওয়া যায়, খারাপ কাজের নিয়ত করলে পাপ পূণ্য কোনটারই হিসাব করা হয় না। আবার খারাপ কাজের নিয়ত করার পর যদি কেউ তা বাস্তবায়ন না করে তবে তাকে এক নেকি দেয়া হয়।
আমি দেখি ডাবল লাভ, মনে মনে গালি দিলে পাপ হবে না, আবার গালিটা বাস্তবে আর দিচ্ছি না বলে সওয়াবও পাওয়া যেতে পারে এমন একটা কুচিন্তা মাথায় এলে মনে মনে গালি দেয়া শুরু করি।
বদ অভ্যাসটা আমাকে একেবারে আষ্টেপৃষ্টে বেধে ফেলল। যার উপরই রাগ হই না কেন, মনে মনে গালি দেই স্যারকেই। ভয়ে ভয়ে থাকি কখন স্যারের সামনে আবার মুখ ফসকে বেরিয়ে না যায় গালিটা।
শহরে একটা বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করা হলো। ঢাকা থেকে প্রথম সারির একজন নেতা আসবেন সমাবেশের প্রধান অতিথি হয়ে। সমাবেশের শান্তি-শৃংখলার জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দেয়া হলো, আমিও বাদ গেলাম না।
প্রধান অতিথি মঞ্চে ওঠার পরই লক্ষ করলাম বেশ কিছু অপরিচিত ছেলে প্রধান গেটের দায়িত্বশীল ইয়াদ ভাইয়ের সামনে দিয়ে ঢুকে গেল, তিনি কোন সন্দেহ করলেন না। কিন্তু আমার কেন যেন ভালো লাগলো না।
আমি অন্য গেট থেকে এগোতে শুরু করলাম মঞ্চ লক্ষ্য করে, ইতোমধ্যে ছেলেগুলোও গায়ের চাদর সরিয়ে রামদা, হাত বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র বের করে মঞ্চের দিকে দৌড়াতে শুরু করলো। আমি মঞ্চ পর্যন্ত যেতে যেতে ওরা মঞ্চটাকে কুপিয়ে এবং বোমা ফাটিয়ে পালিয়ে গেলো। গজ খানেক পিছে আমি এবং বেশ পিছে আরো কিছু সেচ্ছাসেবক ওদের ধাওয়া করলাম কিছুটা পথ। ভাগ্য আমার এতোই ভালো যে ছেলেগুলো একমুহুর্ত দাড়ালো না, দাড়িয়ে আমাকে আঘাত করলেই আামাকে ওখানে প্রাণ বিসর্জন দিতে হতো।
আর এ সময়ই আমার মনের ভেতর এতোদিন পুষে রাখা গালি গুলো মুখ দিয়ে অবলীলায় বেড়িয়ে গেল। আমি অবাক হয়ে যাই, অবাক হয়ে যান আমার বন্ধুরা, এমনকি আমার শত্রুপক্ষও (প্রতিপক্ষ হলেও বাস্তবে ওরা আমার বেশ ভালো বন্ধু ছিল)। পরে ওরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, কিভাবে আমি “শু…. বাচ্চাদের ধর” বলে গালি দিতে পারি।
আসলে একজন মানুষের মন যখন কলুষিত হয়ে যায় তখন তার বাইরের খোলসটা যতই আতর সুরমা মাখানো হোক না কেন তা ধীরে ধীরে অপবিত্র হতে বাধ্য।

এ ব্লগটিকে আমি আমার প্রাণ ভাবতে পারি। এখানে আমার মনের অনুভূতিগুলো মেমরি থেকে কপি করে পেস্ট করি। এ ব্লগের দু’একজন বাদে সবার কাছেই আমি অপরিচিত, তাই তাদের সামনে আমার মনকে কলুষিত করলে আপাতদৃষ্টিতে তেমন ক্ষতি-বিচু্যতি হবে বলে মনে হয় না।
কিন্তু এখানে আমার মনটাকে যতই কলুষিত করবো একদিন না একদিন তা সবার সামনে প্রকাশিত হবেই, তখন লজ্জা পাওয়া ছাড়া কোন উপায়ই থাকবেনা।
আমি চাইনা আমার মন আর কলুষিত হোক, আমার মনের কদর্য সবার সামনে উন্মোচিত হোক, সবাই আমাদে ঘৃণা করুন।
আমি সবাইকে ভালোবাসতে চাই, সবার ভালোবাসায় মরতে চাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.