ফেয়ারওয়েল টু দিলকুশা

জানালার পর্দাটা সরালেই বঙ্গভবনের পুকুরটা দৃষ্টিসীমায় আছড়ে পড়ে।
শীতের সময় সারাটা পুকুর জুড়ে অতিথি পাখিদের কোলাহল, আকাশ জুড়ে বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশায় ওড়াওড়ি কর্মব্যস্ত জীবনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি আনে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিষদাত খোয়ানো সাপগুলো বঙ্গভবনে থাকে বলেই হয়তো বঙ্গভবনের পুকুরটা এতটা সদর্পে চষে বেড়ায় অতিথি পাখিরা। অফিসের পুরাতন কলিগরা বলেন, মাঝে মাঝে নাকি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদকে শীতের সকালে বঙ্গভবনের ছাদে রোদ পোহাতে দেখেছেন তারা।

মাঝে মাঝে দু’একটা কবুতর এসে আশ্রয় নেয় জানালার ওপাশে পর্দার আড়ালে। আমি আড়াল থেকে মুগ্ধ নয়নে চেয়ে থাকি শান্তির দূতের দিকে।
শুধু কুবুতরই নয়, মাঝে মাঝে দু’একটা বাদরও আশ্রয় নেয় জানালার কার্নিশে।

শীতের মৌসুমে পাখপাখালি দেখে যেমন মন ভালো হয়ে যায় তেমনি জানালার কাচ ভেদকরে আসা সোনালী সূর্যরশ্মি হাড়কাপানো শীতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয়।
আবার প্রচন্ড গরমে যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত, লোডশেডিংয়ের কল্যাণে যখন সেন্ট্রাল এসিটা বন্ধ হয়ে যায় তখন জানালার শার্শিটা খুলে দিলে পাগলা হা্ওয়া আমাদের কিছুটা হলেও প্রাণ জুড়ায়।

এ অফিসে আমার আরেকটি বড় সুবিধা হলো সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধা (যদিও ওটা বড়দের খাবার, আমাদের জন্য সেরেল্যাক, তবুও স্যারের অনুমোদন সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করি), রয়েছে প্রধান প্রধান দৈনিক (কমপক্ষে ৪০টা), সাপ্তাহিক, সাময়িকী পড়ার সুবিধা।

সমস্যা একটাই কাজের কোন শৃংখলা নেই। অফিস শুরুর একটা নির্দিষ্ট সময় আছে, বের হবার সময় নেই, কখনো সন্ধ্যে, কখনো বা রাত এমনকি রাত দুটোর সময় বাড়িতে গিয়েছি এমন অভিজ্ঞতাও আমার রয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো অফিসের চেয়ার, টেবিল, টেলিফোন, কম্পিউটার সবকিছুর ওপর প্রচন্ড মায়া পড়ে গেছে। যত খারাপই হোক নিজের সন্তানদেরকে কেউ নিশ্চয়ই ছেড়ে যেতে চায় না।
আজ আমার অফিসের শেষ দিন। আগামী রবিবার এ কোম্পানীরই অন্য একটি শাখায় যোগদান করতে হবে। সেখানে হয়তো ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না, হয়তো আর নিয়মিত আড্ডা হবে না সামহোয়্যারইনব্লগ বন্ধুদের সাথে।

আমি জানি নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে আমার দু’দিনও সময় লাগবে না, নতুন পরিবেশে নিমিষেই আমি ভুলে যাব এ অফিসের কথা কারন অতীতকে ভুলে থাকার প্রচন্ড ক্ষমতা রয়েছে আমার। তবু যতক্ষণ এ অফিসে আছি এ অফিসের প্রতি মায়া অনুভব করছি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.