জামাত-শিবিরের শক্তির উৎস কোথায়?

হঠাৎ করেই সরকার খড়গহস্ত হয়ে উঠেছে বিরোধীদের উপর, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর উপর। বিষয়টি যে একেবারেই হঠাৎ করে ঘটেছে তাও নয় বরং ২০০১ এর র্নিবাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবিতে জামায়াতের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকায় এবার ক্ষমতায় এসে জামায়াত-শিবির নির্মূলকে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনীতির অস্তিস্ত রর্ক্ষাথে প্রধান দায়িত্ব মনে করছে। প্রকৃতপক্ষে এককভাবে এখনো আওয়ামী লীগের জন সমর্থন বেশী, আর বেশী এ কারণে যে আওয়ামী লীগের রয়েছে বড় অংকের হিন্দু রিজার্ভ ভোট। তবে আওয়ামী লীগের অপরাজনীতির কারণে প্রতিনিয়ত একদিকে যেমন তাদের জনপ্রিয়তা কমছে, অন্য দিকে হিন্দুদের সম্পত্তি ব্যাপকভাবে লুটপাটে হিন্দু ভোটারদেরও মোহভঙ্গ হচ্ছে। পাশাপাশি রাজাকার, রগকাটা ইত্যাদি নানাবিধ অপপ্রচারের মাঝেও গঠনমূলক রাজনীতির ময়দান কামড়ে পড়ে থাকা জামায়াত কচ্ছপগতিতে ঠিকই তাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে চলেছে। ফলে রাজনীতির ময়দানে জামায়াতের উপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আর জামায়াত ও বিএনপি যখনই ঐক্যবন্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেছে ততবারই আওয়ামী লীগ বেকায়দায় পড়েছে।এ কারনেই বিএনপিকে একহাত দেখে নিতে জামায়াতকে যে কোন মূল্যে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগ উঠে পড়ে লেগেছে।

আর বাস্তবতা এই যে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে অতীতে যে সকল ভয় ভীতি সাধারণ মানুষের মাঝে ছিল, ক্ষমতা থেকে দীর্ঘকাল দলটি দূরে থাকায় অনেকেই সেসব জুলুম নিপীড়ন, দূর্ভিক্ষের করুণ ইতিহাস ভুলতে বসেছিল। তেমনি নতুন প্রজন্ম কাঁদা ছোড়াছুড়ির নোংরা রাজনীতি মনে করে সে সব অপশাসনের ইতিহাসকে মিথ্যে প্রতিপন্ন করেছিল। তাইতো অতীত ভুলের ক্ষমা চেয়ে আওয়ামী লীগ আবারো ১৯৯৬ সালে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছিল।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাদের মুখোশ উন্মোচিত হতে থাকে, মুখোশের আড়ালে বাকশালের ভয়াল মূর্তি বেড়িয়ে পরে, দেশব্যাপী ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠে জয়নাল হাজারী, হাজী সেলিম, হাজী মকবুল, মায়া, সুটার ইকবাল, আবুল হাসানাত সহ অসংখ্য গডফাদার। হত্যা, গুপ্ত হত্যা, হত্যা করে টুকরো টুকরো করে লাশ ছড়ানো, বাংলার বাণী ও বাংলাদেশ টাইমসসহ পত্রিকা বন্ধকরণ, সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন, গণ ধর্ষণ, ধর্ষণে সেঞ্চুরী উৎসব পালন করে মিষ্টি বিতরণ, ভারতে সফরকালে তিলক ধারণ, মুখ্যমন্ত্রী উপাধি গ্রহণ, মুসল্লীদের নির্যাতন, বিশেষ করে ক্ষমতার শেষ দিকে এসে বায়তুল মোকাররম মসজিদকে বুটের আঘাতে অপবিত্র করে শত শত মুসল্লিদের নির্যাতন, দাড়ি, টুপি, পায়জামা, পাঞ্জাবী পড়া কাউকে পেলেই লাঞ্ছিত করণ, এমনকি দাড়ীওয়ালা হিন্দুকেও জামাত-শিবিরের কর্মী ভেবে হত্যা, দেশব্যাপী জামায়াত শিবিরের প্রায় প্রতিটি অফিস ভাংচুর, লুটপাট, বইপত্র, কোরআন-হাদীসে অগ্নীসংযোগ ইত্যাদি নানা অপকর্ম সাধারণ মানুষকে আবারো ভয়ংকর অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, ফলে বিপুল ভোটে তাদের যে পতন ঘটে তার ইতিহাস বিরল।

তবে বিগত নির্বাচনটি ছিল একেবারেই ব্যতিক্রম, খোলা চোখে যে নির্বাচনটি ফেয়ার মনে হয়েছিল অনেকের কাছেই, তা যে কতটা ভয়ংকর নীল নক্সার নির্বাচন ছিল তার অনেকটা গোমরই ফাক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহাসচিব আবদুল জলিল। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের বিপরীতে আওয়ামী লীগের দশ টাকা সের চাল খাওয়ানোর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি সে নীলনক্সায় ফেয়ার এন্ড লাভলী লোশন মেখে দিয়েছে তা তো সবারই জানা। তবে মেকাপ দিয়ে তো আর কুষ্ঠ ঢেকে রাখা যায় না, আওয়ামী লীগও দশ টাকা সের চালের প্রলেপ দিয়েও তাদের বাকশালী হিংস্রতা ঢেকে রাখতে পারে নি, কিংবা রাখে নি।

সুনির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়া দেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান প্রধান নেতাদের ধরে নিয়ে ১৬ দিন করে রিমান্ডে নেয়া, একের পর এক মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে তাদের চরিত্রহনণ, দলের শত শত নেতা-কর্মীকে গণ প্রেফতার, একটি জেলায় একসাথে ১২৫ জনেরও বেশী নেতা-কর্মীকে রিমান্ডে নেয়া, লিষ্ট ধরে ধরে বাড়ীতে বাড়ীতে হানা দিয়ে গ্রেফতার, বাসে বাসে তল্লাশী করে, মসজিদের পথে পথে ওত পেতে থেকে মুসল্লীদের হয়রানীর এমন বর্বরতা বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোন দেশে নিকট অতীতে ঘটেছে কি না তা অজানা।

অনেকেরই প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ আসলে কি চায়? বিদেশী প্রভূদের বেশ কিছু দাবী দাওয়া পূরণে যে আওয়ামী লীগ আতাতের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, তারা যে ভারতকে বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা বুঝিয়ে দেবে, তেল-গ্যাস, সমুদ্র বন্দর, ট্রানজিট, টিপাইমুখ বাঁধ ইত্যাদি ইত্যাদি তা তো সবারই জানা। তবে এর বাইরেও হয়তো আরো কোন গভীর ষড়যন্ত্র আছে তা বিশেষজ্ঞদের ভাবিত করে। বিশেষ করে সারাবিশ্বে একদিকে যেমন ইসলামফোবিয়ায় আক্রান্ত, অন্যদিকে বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন গুলোর অবস্থান প্রতি নিয়ত জোরদার হচ্ছে। একদিকে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো ইসরাইলকে আমেরিকার চাপে স্বীকৃতি দিচ্ছে, ভারত তাদের সাথে সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোড়দার করছে, অন্য দিকে বাংলাদেশ ১৬ কোটি ক্রেতার বিশাল বাজার হওয়া সত্ত্বেও ইহুদী রাষ্ট্রটির ব্যাপারে তাদের নেতিবাচক মনোভাব এখনো অটুট রেখেছে। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণকারী ইহুদী গোষ্ঠী যে ভারতের ‘র’ এর সাথে একযোগে বাংলাদেশ নিয়ে যড়যন্ত্রের জাল বুনে চলেছে তা স্পষ্ট। আর বাংলাদেশে যে কোন বিদেশী অপশক্তির আগ্রাসন সচেতনভাবে মোকাবেলার শক্তি ও সাহস একমাত্র জামায়াতে ইসলাম ও ইসলামী ছাত্রশিবির যে রাখে তা ভারত ভালো ভাবেই জানে, জানা হয়ে গেছে আমেরিকারও।

তবে জামায়াত শিবির সম্পর্কে আওয়ামী লীগের এমন দমন নিপীড়ন অনেককেই হতাশ করে। বিশেষ করে জামায়াত শিবির সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা করে তবেই তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল। তবে আওয়ামী লীগ চরিত্রগতভাবেই বুনো মোষের মতো একগুয়ে স্বভাবের, তাই গুতোগুতি করে প্রতিপক্ষের বিনাশ ছাড়া অন্য কোন পথ তারা জানে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে সব শক্তির নির্দেশে চলে তাদের অন্তত ভালো করে জামায়াত শিবিরের শক্তির উৎস সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে আক্রমন করা উচিত ছিল।

জামায়াত শিবিরের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তারা এক আল্লাহতে বিশ্বাসী এবং তাঁর জমিনে তারই বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে লিপ্ত। এক্ষেত্রে তারা জীবনের পরোয়া করে না, ওরা আন্দোলন করে জয়ী হওয়ার জন্য, গাজী হওয়ার জন্য, তবে জীবনের চেয়ে মৃত্যু তাদের কাছে শ্রেয়, গাজীর জীবনের চেয়ে শহীদী মৃত্যুর অনেক প্রিয়। না, এ শক্তি সম্পর্কে আওয়ামী লীগ বা তাদের প্রভূদের ধারণা না থাকাই স্বাভাবিক, তার চেয়ে বরং অন্য শক্তিগুলো খুঁজে দেখা যাক।

জামায়াত শিবির অত্যন্ত মজবুত সংগঠনের নাম। তাদের সাংগঠনিক শৃংখলা এতটাই দৃষ্টিনন্দন যে সামরিক বাহিনীরও তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। বিশেষ করে সামরিক বাহিনী যেখানে নেতৃত্ব শূন্য হলে যাচ্ছেতাই কান্ড ঘটিয়ে বসে, মনের মাঝে ছটফটিয়ে মরতে থাকা স্বাধীনতার সবটুকু সুখ আস্বাদনে সচেষ্ট হয়, জামাত শিবিরের কর্মী বাহিনী দলীয় ভাবেও শৃংখলা মানে, এককভাবেও তেমনি আল্লাহকে ভয় করে সুশৃংখল জীবন যাপন করে। পার্থক্য এই যে সশস্রবাহিনীর কাছে অস্ত্র থাকে, অস্ত্রের ট্রেনিং থাকে, জামায়াত শিবিরের সেসব নেই, আছে নৈতিক প্রতিক্ষণ, ভালো দিয়ে মন্দের প্রতিরোধ করার প্রশিক্ষণ।

জামাত শিবির মূলত নেতা নির্ভর দল। অর্থাৎ জামাত শিবিরে সমর্থক কর্মীর চেয়ে নেতাই বেশি বলা চলে। ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠন হওয়ায় জামাত শিবিরের প্রতিটি স্তরের কর্মীদের চেষ্টা থাকে তার উপরের স্তরে উঠে আসার, আর এ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা তাদের ঈমানের দিক থেকে আরেকধাপ এগিয়ে যাওয়া, কামেল মুসলমান হওয়া মনে করে। ফলে দলটিতে নেতার পরিমান বেশী। আর তাই দলটি নেতৃত্বশূণ্য হওয়ার আপাত তেমন কোন সুযোগ নেই।

জামায়াত শিবিরকে একটি অটোমেটিক মেশিনের সংগে তুলনা চলে, যেখানে মেশিনটি একবার চালু করে প্রয়োজনীয় কাচামাল সরবরাহ করলেই চলে। জামায়াত শিবিরের সাংগঠনিক কাঠামো এমনইভাবে তৈরী যে এর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কয়েকশ নেতাকে গ্রেফতার করলেই সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে না। বরং নতুন যে-ই নেতৃ্ত্বে আসুক না কেন তাকে সংগঠন চালাতে মোটেই বেগ পেতে হয় না, অটোমেটিক মেশিনের সুইট টেপার যোগ্যতাটুকু থাকলেই চলে। আর অটোমেটিক মেশিনের সুইট টেপার ট্রেনিং জামাত শিবিরের রোকন এবং সদস্যদের ভালোভাবেই রয়েছে, বিশেষ করে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের সময় যেখানে দলের প্রতিটি সদস্যই কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হন, সেখানে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে প্রত্যেকেই কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ার কমবেশী যোগ্যতা রাখেন, অটোমেটিক মেশিনের সুইট অন করার ক্ষমতা রাখেন।

আর কে না জানে সময়ই নেতৃত্ব তৈরী করে। ঊনসত্তরের গণঅদ্ভুত্থান, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যে সকল নেতৃত্বের সৃষ্টি করেছে অন্য সময়ে তার ছিটেফোঁটাও তৈরী হয় নি। তাই জামায়াত শিবির বিরোধী চলমান নির্মূল অভিযান যে জামায়াত শিবিরের নেতৃত্বকে আরো মজবুত করবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে আওয়ামী লীগের জুলুমের কারণে যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে এবং জামায়াত শিবিরের ভদ্র নেতা-কর্মীদের ব্যাপারে যেমন সমবেদনা তৈরী হচ্ছে তাতে আগামীতে জামায়াত-শিবির যে রাজনৈতিক অঙ্গণে অপরিহার্য হয়ে যাবে তা স্পষ্ট।

এর পাশাপাশি জামায়াত শিবিরের বিশাল কর্মীবাহিনী ইতোমধ্যেই বিভিন্ন অঙ্গণে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। কোথায় কোথায়, তা না হয় না-ই বললাম, নিজেদের ভালো চাইলে, নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিস্ব টিকিয়ে রাখতে চাইলে সরকারই গবেষণা করে দেখুক, আপাতত বিদায়।

5 Replies to “জামাত-শিবিরের শক্তির উৎস কোথায়?”

  1. জামায়াত হচ্ছে আওয়ামীলীগের একমাত্র পথের কাটা। জামায়াত না থাকলে আওয়ামীলীগের আর কোন বাধাই থাকে না। তাইতো জামায়াতের উপর দিয়ে স্টিম রোলার।

    [উত্তর দিন]

  2. ইসলাম প্রতিষ্টিত হতে এসেছে। লীগ সরকার বা ভারত কেন?
    সারা পৃথিবী মিলেও ইসলাম কে রুদ্ধ করতে পারবে না।
    নেতৃত্ব শুণ্যতাই এ ভুখন্ডে জ়ামায়াত শিবির কখনোই সংকিত হবে না ইন্সাআল্লাহ।

    [উত্তর দিন]

  3. অসম্ভব সুন্দর এবং প্রাঞ্জল ভাষার বর্ণনা আমাকে সবসময় মুগ্ধ করে।কতটা সহজ সব্দে তুমি আমাদের চোখ খুলে দেয়ার চেশটা করছো ।আল্লাহ তমার এই চেস্ট কবুল করুক(আমিন)।আরও লিখ ভাইয়া।র তমার এই লেখা গুলা আমাই ফব তে শেয়ার করি।প্লিজ ভাইয়া মিন্দ করো না।বাংলাদেশ এ আসলে আমাকে জানিও ।এটা আমার মেইল ([email protected])পারলে তয়াম্র একটা ছবি দিও।এত্ত সুন্দর করে লিখ কিভাএব ভাইয়া।ভাল থেক

    [উত্তর দিন]

  4. জামায়াত শিবিরের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তারা এক আল্লাহতে বিশ্বাসী
    এবং তাঁর জমিনে তারই বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে লিপ্ত।
    এক্ষেত্রে তারা জীবনের পরোয়া করে না, ওরা আন্দোলন করে জয়ী হওয়ার জন্য, গাজী হওয়ার জন্য, তবে জীবনের চেয়ে মৃত্যু তাদের কাছে শ্রেয়, গাজীর জীবনের চেয়ে শহীদী মৃত্যুর অনেক প্রিয়।

    সাথে আছি, থাকবো… এক সাথে হাতে হাত রেখে বিজয়ের মঞ্চে দাঁড়াবো ইনশাআল্লাহ্‌।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.