কটকা : আনন্দলোকের সিংহদ্বার

সোহেল। আবদুল্লাহ-হেল-বাকী, সোহেল। ২০০৪ সালের আজকের এই দিনে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছ পৃথিবীর সীমা ছাড়িয়ে অসীম কোন আনন্দলোকে। পঙ্কিলময় এ পৃথিবীর সকল ক্লেদ ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়ে সুনীল বঙ্গোপসাগর তোমায় পৌঁছে দিয়েছে স্বচ্ছ সরবরে পাখির কলকাকলীতে মুখর জান্নাতুল বাকীর গুলবাগে। আর আমরা আজো তোমার স্মৃতিকে দুচোখে ধারন করে বেঁচে আছি তোমার গল্প শোনাবো বলে।

আজ আর কারো পথ চেয়ে অশ্রু ঝরান না তোমার স্নেহময়ী মা। আজ আর সন্ধ্যে শেষে ঘোর কালো আধাঁরে পৃথিবী ডুবে গেলেও তোমার অমঙ্গল চিন্তায় মায়ের মন কেঁেপ ওঠে না। আজ তোমার মায়ের অফুরন্ত অবসর। তোমার একমাত্র বোনটিকে নিয়ে তার নিরামিষ জীবন। একাকী থাকা, একাকী খাওয়া, একাকী পথচলায় কোন পিছুটান নেই, তাই জীবনের স্বাদ গন্ধ নিয়ে আর হাপিত্যেশ করার কোন মানে হয় না।

তুমি বড় হয়েছিলে, কিন্তু তা জানতে তোমার অনেক অনেক দিন পার করতে হয়েছে। সার্বক্ষণিক তুমি ছিলে তোমার মায়ের স্নেহশৃংখলে বন্দী। আমরা যখন স্কুল ছাত্রীদের পিছু পিছু শহরময় ঘুরে বেড়াই, তখন তুমি তোমার মায়ের একান্ত বাধ্য সুবোধ খোকা হয়ে পড়ার টেবিলে বইয়ের মাখা রেখে ঘুমিয়েছো। এটা করো না, ওটা করো না, তোমার মায়ের শাসন বারনে তুমি বুঝতেই পারোনি তোমার বয়েসী আমরা কত আগে পুরুষ হয়ে গেছি। সব সময় আচলের ছায়ায় ঢেকে রেখে সব অমঙ্গল আর ভয় থেকে বাঁচাতে চেয়েছেন তোমার মমতাময়ী মা। তোমার মঙ্গল চিন্তায় একটুকুও অবসর পাননি তিনি, রাতে ভালো করে ঘুমোতেও তার ভয় ছিল, কি জানি কি হয় তোমার, তুমি যদি ঘুমের ফাঁকে কোন বিপদে পড়ে যাও।

সেই তুমি একদিন ঠিকই বড় হলে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে। তোমার সামনে খুলে গেল আনন্দলোকের সিংহদার। তুমি ভেড়ার দুষ্টু শাবকের মতো দাপিয়ে বেড়ালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। প্রতিটি ক্লাসে, প্রতিটি কাজে তুমি রেখেছো অসাধারণ দক্ষতার ছাপ। তোমার ও তোমাদের ডিজাইনে গড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ তোরণ সূর্যের পানে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে সগৌরবে। হয়তো আকাশের নীলে নীলে আজো তোমাকেই খুঁজে ফেরে।

তুমি একদিন বড়ো হলে, খুব বেশী বড়ো। আকাশের নীল তোমাকে হাত ছানি দিয়ে ডাকে, সমুদ্রের ঢেউ তোমায় শুদ্ধ করে ভাসিয়ে নিতে চায় আলোকিত ভূবনে, পাখির কলকুজনে মুখর জান্নাতুল বাকীতে। তাইতো তুমি মায়ের ভালোবাসার শত শৃংখলকে ছিন্ন করে, শাসন বারণের নাগপাশ থেকে মুক্তি নিয়ে ভাসিয়েছ তোমার দেহভেলা কটকার সমুদ্রস্রোতে।

আজ আর তোমার মায়ের কোন পিছুটান নেই, খোকার জন্য খাবার সাজিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে বসে থাকতে হয় না, রাত যত গভীরই হোক না কেন পেঁচার কান্না শুনে অমঙ্গল চিন্তায় ঘুম টুটে যায় না। আনন্দলোকে তুমি সুখে আছো তাইতো তোমার মা আজ শান্তিতে ঘুমোতে পারেন। তুমি সুখে থেকো তোমার বন্ধু আমাজ রিফাত রুপা, কাজী আবদুল মঈদ মোঃ ওয়াহিদ, মোঃ কাওসার আহমেদ খান, মাকসুদুর আজিজ মোস্তাজি, মাহমুদুর রহমান, মোঃ তাওহীদুল ইনাম অপু, মোঃ আশরাফুজ্জামান, ত্বোহা, মোঃ মুনাদিন রায়হান, শামসুল আরেফীন আর শামিউলকে নিয়ে, এই কামনা আজকের এ দিনে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.