বিয়ের তৃতীয় রাতের অফিস নোট

সুনয়না। আমার বউয়ের নাম। আমার দেয়া আদুরে নাম। ওর আসল নামটা আরো সুন্দর তবে কিছুটা কেতাবী। ওর হরিণীর মতো কাজল কালো, স্বচ্ছ সরবরের মতো জলে টলমল চোখ দু’টো আমাকে এ নামে ডাকতে বাধ্য করেছে।
অনার্সে আমাদের পরিচয়, দু’জনই একই বিষয়ে একই ক্লাসে লেখাপড়া করেছি। বরাবরই ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করে ও আমার দৃষ্টি কাড়ে। আর আমি, অনার্সে ভর্তি হয়েই পুরো সন্নাসী হয়ে যাই, শার্ট ছেড়ে একশত বিশটাকা দরের পাঞ্জাবী গায়ে চাপিয়ে, আরো কম দামের দপ্পলে বিচিত্র শব্দ তুলে ক্লাসে যাই। আর ক্লাসে পরীক্ষায় সব সময় থার্ড ক্লাস নাম্বার পাই (যদি না অপ্রাসঙ্গিক কোন বিষয়ে লিখতে দেয়া হয়, ওগুলো লিখতে আমার আবার খুব ভালো লাগে)। এমন দীনহীন গোবেচারা টাইপের ছেলেদের প্রতি কার না মমতা জাগে। হয়তো কিছুটা করুনা কিংবা কিছুটা কৌতুহলে ও আমাকে ভালোবেসে ফেলে। দেড় বছর পরে ওর জন্মদিনে আমাকে প্রস্তাবও দেয়। ফলাফল, আমাদের বন্ধুত্ব শেষ, কয়েকদিন পরে প্রেম পর্ব শুরু।
প্রেম বলতে যা বোঝায় তা আমাদের কখনোই হয়ে ওঠেনি। ওকে আমার ভালো লাগে এটুকু জানানোর পরেই বিরহ পর্ব শুরু। সাংগঠনিক ও আদর্শিক কারণে বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত দুই বছর ওর সাথে আর কোন যোগাযোগ রাখিনি। ওকেই আমি বিয়ে করছি এটা জানিয়ে দীর্ঘ দুই বছরের সংযম পালনের সিদ্ধান্ত নিয়ে শহর ছেড়ে কেটে পরি।
দীর্ঘ দুই বছর পরে বিয়ের তারিখ ঠিক হলো। ইতোমধ্যে একটা বেসরকারী কোম্পানীতে চাকুরী জুটিয়ে ফেলেছি। ব্যাচেলর ছেলে, ঘরে কাজ নেই তাই অফিসে কাজ পাগলা স্যারের সাথে দশটা এগারোটা পর্যন্ত কাজ করে তবেই বাসায় ফিরি।
বিয়ের আগের রাতে আমার কনফার্মেশন ভাইবা। রাতে ভাইবা দিয়ে বাসে চেপে প্রথমে সোজা বাড়ী, পরে বরযাত্রী নিয়ে শত কিলো দূরে ওদের বাড়িতে যাত্রা।
অনেক কথা জমা ছিল আমাদের দু’জনের মনেই। আশাছিল বিয়ের আগে যখন প্রেম করার সময় পাইনি তখন বিয়ের পরেই লাভসহ আসলটা উসুল করব।
বিয়ের তৃতীয় রাতে ঘুম থেকে ও আমাকে ডেকে তুলতে চেষ্টা করল। এই, ওঠো।
আহারে বেচারী, কত কথা বুকে পাথর চাপা পড়ে আছে, বলার জন্য চড়ুই পাখির মতো ছটফট করছে।
আমি আবার কুম্ভকর্ণের নতুন সংস্করণ। খুব সহজে আমার ঘুম ভাঙ্গানো যাবে ভেবে চেষ্টা চালানো আর কাঞ্চনজঙ্গাকে এভারেস্টের সাথে মিশিয়ে দেয়া সমান কথা।
ঘুমের মাঝে সাড়া দেই উ:।
আবার ডাক এই ওঠো না।
এবার কিছুটা বিরক্ত হয়েই বলি “আহ! ডিস্টার্ব করো নাতো। অফিস নোট টা শেষ করে নেই” বলেই আবার ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যাই।
বেচারী কি আর করে, রণে ভঙ্গ দিয়ে সেও ঘুমের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
খুব ভোরে এক কাপ কড়া লিকারের গরম দুধচা হাতে দিয়ে মিষ্টি হেসে বলে, আচ্ছা, অফিস নোট কি?
আমার বউ আবার খাঁটি গৃহিনী টাইপ মেয়ে, অফিস সম্পর্কে ধারণা নেই।
বললাম কেন? কিন্তু যে জবাব শুনলাম তার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। রাতের ঘটনা শুনে আমার লজ্জায় আর চোখ তুলে তাকানোর উপায় থাকল না।
আমি ভাবি, বিয়ের তৃতীয় রাতে যে অধম বউকে রেখে অফিস নোট করে তার আর বিয়ে করার দরকার কি? পাঠক আপনারাই বলুন।

3 Replies to “বিয়ের তৃতীয় রাতের অফিস নোট”

  1. বিয়ে মানি যৌতুকের ও নারী নিযাতনের মামলা পুরো পরিবার নিয়ে জেলে মামলা স্য না মিথ্যা সেটা প্রমান হবে জেল খাঁটার পরে এটা আমাদের দেশের আইন

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.