অ্যাসিড সন্ত্রাস দমনে আন্তরিকতা নেই

অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২ অনুসারে এসিড নিক্ষেপের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড৷ অ্যাসিড নিক্ষেপ বন্ধ করতে এই সাজা বাড়ানোর জন্য আইন সংশোধন করতে সংসদে ‘অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০১০’ বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ২০০২ সালে অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইন করার পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে অ্যাসিড নিক্ষেপের ১,৪৪০টি মামলা হয়েছে, ২৫৪ জনকে বিভিন্ন ধরনের দণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত৷ মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে ১১ জনের বিরুদ্ধে৷ তবে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করায় কার্যকর হয়নি কারো মৃত্যুদণ্ড৷ সর্বোচ্চ সাজার বিধান থাকার পরও কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এসিড সন্ত্রাস, প্রতি দু’দিনে একজন করে এ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয় বাংলাদেশে।

গতকাল নোয়াখালী সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মতিপুর এলাকায় প্রেম প্রত্যাখ্যাত বখাটেদের ছুড়ে মারা এসিডে ঝলসে গেছে ফারহানা (১৩), রৌশন আরা (২৫)ও অভি নামের একটি শিশু। অপর আরেক ঘটনায় শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এসিড সন্ত্রাসের শিকার হন তাইজন নেছা (৭০), তার ছেলে মোহন রাঢ়ী (৪০) ও শাহাদাত হোসেন এবং মেয়ে মজিতন নেছা (২৬)।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরই এসিড সন্ত্রাস বেশী ঘটছে। এ ক্ষেত্রে উঠতি বয়েসী বখাটে তরুনেরাই বেশী ব্যবহার করছে এসিড নামের বিভৎস অস্ত্র। এসিড সন্ত্রাসে মুখ মন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিকৃত হয়ে কুৎসিত আকার ধারণ করার কারণেই প্রতিশোধ নিতে সাধারণত সুন্দরী মেয়েদের মুখ এসিড়ে ঝলসে দেয় বখাটেরা। ইদানিং ইভটিজিং প্রতিরোধ বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে। মূলত এসিড সন্ত্রাস এবং ইভটিজিং একই সূত্রে গাঁথা। তাই এসিড সন্ত্রাসের মতো বিভৎস কর্মকান্ড প্রতিরোধে ইভ টিজিং বিরোধী কঠোর আইন করা প্রয়োজন। ইভ টিজিংএর মতো বিকৃত মানষিকতার সন্ত্রাস থেকে এসিড সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটে বিধায় ইভ টিজিংকারী বখাটেদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরী।

কি করে চাইলেই এসিড পাওয়া যায় তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। এসিড় এমন কোন নিত্যব্যবহার্য বস্তু নয় যে প্রতিটি নাগরিকের বাসায় কেরোসিনের বোতলের মতো শোভা পাবে। এসিড গৃহস্তালী কোন বিষয় নয়, শহর-গঞ্জে কিছু শ্রেণীর ব্যবসায়ীর ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই তা কেবল প্রয়োজন হয়, গ্রামে অবশ্য স্কুল গুলোতেও বিজ্ঞানাগারে এসিড মেলে। কি করে এমন একটি ভয়ংকর মারণাস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে যায় তা খতিয়ে দেখা উচিত। যে বা যারা সন্ত্রাসীদেরকে অবাধে সরবরাহ করছে এসিড তাদেরকে এ্যাসিড অপরাধ দমন আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতাভূক্ত করা প্রয়োজন। কোন কোন প্রতিষ্ঠান এসিড বিক্রি করতে পারবে, কারা কারা ক্রয় করতে পারবে তা সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন এবং তাদের তালিকা সরকারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে থাকা উচিত যাতে এসিডের ক্রয়-বিক্রয় মনিটর করা যায় এবং যে কোন এসিড সন্ত্রাসে সহজেই মূল হোতাদের খুঁজে খুঁজে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।

অবিলম্বে এসিড সন্ত্রাসের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড প্রয়োগের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এসিড সন্ত্রাসকে প্রতিহত করা হোক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.