ভোটারদের আতঙ্কিত করতেই কি গ্রেফতার সাকা চৌধুরী?

সর্বশেষ সংবাদ : অবশেষে রাত সোয়া ১২টায় আবার মুক্ত সাকা।
হঠাৎ করেই গ্রেফতার হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরী। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শুরু হবে আর অল্প কয়েক ঘন্টা পরেই অথচ এমন একটি নাজুক মুহুর্তে বাকলিয়া থানা পুলিশ আটক করে তাকে। বাকলিয়ার মান্নান সওদাগরের বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে গুডস হিলের নিজ বাসায় যাওয়ার পথে বিকেল সোয়া পাঁচটায় চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকায় সাকাচৌধুরীর গাড়ীর গতিরোধ করে আটক করা হয়। পুলিশের অভিযোগ সাকা চৌধুরী নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে গাড়ি বহর নিয়ে ঘোরাঘুরি করেছেন, যদিও তিনি তার গাড়ীর সাথে চলা সব গাড়ী তার নয় বলে দাবী করেন। উল্লেখ্য পুলিশ ৪টি গাড়ী থামানোর চেষ্টাকালে ২টি চলে যেতে সক্ষম হয়। অথচ নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের কথা বলা হলেও এখন গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের ভিন্ন মামলায়। তার গ্রেফতারের খরর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বাকলিয়া থানায় বিএনপির সাংসদ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের নেতাবৃন্দসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ ভিড় করে। ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর রাত ৮টা ২৫ মিনিটে সাকা চৌধুরীকে এবকার ছেড়ে দেয়া হলেও আবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে তাকে আটক করা হয়।

কিন্তু হঠাৎ করে কেন তাকে গ্রেফতার করা হলো? সালাউদ্দিন কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে এবং ভোটারদের হয়রানি করতে এ কাজ করা হয়েছে।” আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে সরকার ও সরকারি দলের লোকজন বুঝে ফেলেছে। তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে পুলিশের মাধ্যমে বিএনপির কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের হেনস্থা করার মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

প্রকৃত কারণ এই যে চট্টগ্রাম নির্বাচনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আওয়ামী লীগের জন্য বড় ধরণের মাথাব্যাথার কারণ ছিলেন। আমি খুবই অবাক হয়েছি যে অনেক দেরীতে তাকে গ্রেফতার করা হলো। আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে জোড়ালো ও বলিষ্ট ভাষায় যে অল্প দু’একজন নেতা কথা বলছেন তাদের অন্যতম প্রধান এই সালাউদ্দিন চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে এমন একটি ধারণা সাধারণ মানুষের মাঝে ছিল। বিশেষ করে আঁতাতের নির্বাচনেও চট্টগ্রামবাসী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে তাদের সমর্থন জানাতে ভুল করে নি। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এ নেতা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সেলেকশনে বড় ধরণের বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেন এটিই আওয়ামী লীগ মনে করে।

এক ঢিলে দুই পাখি মারা হল এ গ্রেফতারে। একেতো সিলেকশনের নির্বাচনে বড় বাধাটি অপসারিত হলো, অপরদিকে আগামীকালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পক্ষের ভোটারদের কাছেও মেসেজ দেয়া হলো। মেসেজ দেয়া হলো কি ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে মনজুর আলমের প্রতীক আনারসে ভোট দিলে তা, সাধারণ ভোটারদেরকে জানিয়ে দেয়া হলো। আওয়ামী লীগ জানে কিভাবে মিডিয়াকে ম্যানেজ করতে হয়, দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচন পর্যবেক্ষকের লেবেল লাগিয়ে তাদের মাধ্যমে নির্বাচনকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হয়। তারপরও ইদানিংকালের চট্টগ্রামবাসীর চরমদূর্ভোগ, বন্দরনগরী হয়েও শ্রেফ কুলি-মুটের মতো নাগরিক জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণ চট্টগ্রামবাসী মহিউদ্দীনের প্রতীক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে এটি বেশ পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল। মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে সাম্প্রতিক অবিরাম বর্ষণে বন্দরনগরীর রাস্তাঘাট যেভাবে মহিউদ্দীনের জাহাজ চলাচল উপযোগী হয়ে উঠেছে তাতে জাহাজ মার্কায় ভোট দেয়ার আগ্রহ যেটুকু অবশিষ্ট ছিল তাও তলানীতে গিয়ে ঠেকে ভোটারদের। তাই যদি মিডিয়া বা নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ম্যানেজ করে কারচুপির নির্বাচন করার পরও গণজোয়ারে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয় তাই বিকল্প সর্বোত্তম আওয়ামী পন্থাই ব্যবহার করেছে সরকার। বিএনপির সবচেয়ে সাহসী ও প্রভাবশালী সাকা চৌধুরীকে গ্রেফতারের মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসীকে এটিই জানিয়ে দেয়া হলো বন্দর নগরীর চট্টগ্রামে রাস্তাঘাটে জাহাজই চলবে, এর বিকল্প কিছু চিন্তা যেসব সাধারণ ভোটাররা করছে তাদের আর কাল ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

হ্যা, আওয়ামী লীগের গৃহপালিত একান্ত বাধ্যগত নির্বাচন কমিশনের অধীনে কিছুদিন আগে ভোলায় উপনির্বাচন দেশবাসী দেখেছে। দেখেছে নির্বাচনের নজিরবিহীন কারচূপি, হত্যা, সন্ত্রান, বিরোধী নেতা-কর্মীদের পরিবারের নারীদের গণ ধর্ষণ। চ্যানেল ওয়ান এ ধরণের নির্যাতনের খবর প্রকাশ করে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে, বন্ধ হয়েছে প্রতিবাদের সবচেয়ে জোড়ালো কন্ঠস্বর ‘দৈনিক আমার দেশ’, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন মাহমুদুর রহমান। ভোলার নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির যে আশংকা জনগণ করেছিল নির্বাচনে সে শংকাই সত্যে পরিণত হয়। যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভিন্ন ভাষায় বলেছিল, “নির্বাচনে জনগণের আশাআকাঙ্খার (আশংকার) প্রতিফলন ঘটেছে”।

আগামীকালের নির্বাচনেও জনগণের আশংকার প্রতিফলন ঘটবে, বন্দর নগরীতে ত্রাসের রাজত্বের মেয়াদ আরেকটি শেসনের জন্য কায়েম হবে। এবং অবশ্যই আওয়ামী প্রধান নির্বাচন কমিশনার উৎফুল্লচিত্তে বলবেন,”নির্বাচনে জনগনের আকাঙ্খার (আশংকার) প্রতিফলন ঘটেছে।”

একটি দলীয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে এভাবে প্রহসনের নির্বাচনে বার বার অংশগ্রহণের আদৌ কোন প্রয়োজনীয়তা আছে কি না তা এখনই ভাবা উচিত।

6 Replies to “ভোটারদের আতঙ্কিত করতেই কি গ্রেফতার সাকা চৌধুরী?”

  1. আমার ধারনা ১/১১ সরকারের ইলেকশনের মত একটা সাজানো ইলেকশন করার জন্যই সাকাকে আটক করা হয়েছে । আর তাছাড়া সাকাতো এবার কাকুর ভোট করছেনা । এই চট্টগ্রাম থেকেই বাকশালীদের বিদায়ের বাসি বাজানো হবে ।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ইনশাআল্লাহ।

    [উত্তর দিন]

  2. সরকারের একটা স্ট্র্যাটেজি খেয়াল করেছেন ? কোন মামলা করার ধার ধারে না, সরাসরি গ্রেফতার। এটা কি বাকশালীয় বৈশিষ্ট্য ?

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    এটা প্রাকবাকশালী বৈশিষ্ট্য। এর পথ ধরে সত্যিকারের বাকশাল আসার পায়তারা। এখনই প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.