হোমার নেই, তবু বেঁচে রয় ইলিয়াড

Stop worrying about
what your eyes can and cannot see,
and just open your heart.
From there, you can see perfectly.
Don Iannone

মানুষ মরণশীল। সবাইকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, এ সত্যটিকে কেউ অস্বীকার করে না। পৃথিবী পরিভ্রমনে তাই শত সহস্র কোটি মানুষের মাঝে অনেকেই দ্রুত হারিয়ে যায় সময়ের অতল গহ্বরে।  এর মাঝেও দু’য়েক জন সময়কে ধারণ করে বেঁচে রয় সহস্রাব্দ ধরে, কিংবা তারো বেশী সময়। হোমার এদেরই একজন। খৃষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে জন্ম নেয়া জন্মান্ধ এ কবি আজো সাহিত্য প্রেমিদের মাঝে বেঁচে আছেন স্বমহিমায়। প্রতিনিয়ত তার বাড়ছে গুনগ্রাহী, বাড়ছে সাহিত্যের কদর, বাড়ছে অমরত্ব।

হেলেন কেলার। শৈশবেই দৃষ্টিশক্তি হারান, হারান বাক ও শ্রবণ শক্তি। অথচ তার জিহ্বার জড়তা কিছুতেই কেড়ে নিতে পারে নি বাক স্বাধীনতা, আজ তার ভাষায় বিশ্বব্যাপী কথা বলে হাজারো মানুষ। অন্ধত্ব তাকে বন্ধী করে রাখতে পারেনি বদ্ধ ঘরে, ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বময়, রাজনীতি করেছেন, বই লিখেছেন, প্রকাশিত হয়েছে ১৩টি গ্রন্থ।

তেমনি আরেক মহাজ্ঞানী জন মিল্টন। অত্যন্ত মেধাবী এ কবি অত্যধিক পড়াশোনার জন্যই ৪৩ বছর বয়সে হারান দৃষ্টিশক্তি। তবু থেমে থাকেনি তার কাব্যচর্চা। দিব্যচোখে বিশ্ব দেখে লিখেছেন মহাকাব্য “প্যারাডাইস লস্ট”, কলমের ছোয়ায় আজো বেঁচে আছেন সাহিত্যবোদ্ধাদের হৃদয়ে। বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ ধরে, শতাব্দীর পর শতাব্দী সাহিত্যানুরাগীর দল গেয়ে যাবে তার গুণগান। হোমার-হেলেন-মিল্টনেরা বিশ্ব দেখেন হৃদয় দিয়ে, চোখের আলোয় তাদের কি-ই যায় আসে।

কবি-সাহিত্যিকদের, সমালোচক-লেখকদের অনেকেই আছেন সময়কে ধারণ করতে জানেন। তারা জানেন জীবনটা ফুলশয্যা নয় বরং অসমাপ্ত যুদ্ধের নাম। যে যুদ্ধে যুগে যুগে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাজ্ঞানী, দার্শনিক, কবি-সাহিত্যিক-লেখকগোষ্ঠী।  তাইতো দু:সময়ে হেলাল হাফিজের কলম ছোটে মিসাইলের বেগে, ধেয়ে চলে,

“এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়”।

সময়কে ধারণ করতে গিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রাজবন্দী হয়ে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন “আনন্দময়ীর আগমনে” লিখে। বিদ্রোহী কবি বাঙ্গালীর অন্তরে অন্তরে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল, জেগে থাকবেন সমরে, শান্তিতে, সংগ্রামে প্রেরণার বাঁতিঘর হয়ে। নজরুল সমসাময়িক জীবনানন্দ দাশ মায়ের স্নেহছায়ায় সুবোধ বালকের মতো কবিতা নামের ব্যাকরণ লিখে লিখে আজো বেঁচে আছেন কাত্তিকের নবান্নের দেশে, বেঁচে আছেন প্রেমিক প্রেমিকার প্রেমপত্রে, রমনা পার্কে, চন্দ্রিমা উদ্যানে।

যারা সময়কে ধারণ করতে জানে, তারা দু:সময়ের পরোয়া করে না। তারা জানে, অত্যাচারে অত্যাচারে শরীরটাকে পঁচিয়ে দেয়া যায়, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে অন্ধ করে দেয়া যায় চোঁখ। কিন্তু কলমের মৃত্যু নেই, লেখকের মৃত্যু নেই। লেখক বিশ্ব দেখে দিব্যচোখে। হানাদারের সাধ্য কি উঁকি দেয় সে অতীন্ত্রীয় ভূবনে? করুণাময় প্রভূর দরবারে ফরিয়াদ শুধু, শত নির্যাতনেও টলে না যায় যেন আদর্শের পাহাড়, ভেঙ্গে না যায় যেন মনের সিংহ দুয়ার, উড়ে না যায় যেন প্রজাপতির হাজার রঙ্গের ইচ্ছেগুলো।

সময়ের সাহসী সৈনিক মাহমুদুর রহমান, আমরা তোমারই প্রতীক্ষায়।

8 Replies to “হোমার নেই, তবু বেঁচে রয় ইলিয়াড”

  1. কলমের আছড় আখি সত্যের দেয়ালে স্লোগান তুলি আল কোরআনের মিছিলে, তবে একদিন এ জাতি রাখবে স্মরনে। মাহমুদুর রহমানের মুক্তি চাই।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    অনেক ধন্যবাদ।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.