চোখ বেঁধে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করলেই কি মেনে নেব বাকশাল?

খবরটা পড়ে স্তম্ভিত হয়ে পড়বে যে কেউ। এ কোন দেশে বাস আমাদের? কোন সভ্য মানুষ কি ভাবতে পারে আধুনিক সভ্যতার এ যুগে উলঙ্গ করে অত্যাচারের কথা? অথচ তাই ঘটছে বাংলাদেশে। যেন তেন কেউ নন, বরং সরকারেরই সাবেক জ্বালানী উপদেষ্টা, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের চোখ বেঁখে উলঙ্গ করে নির্মমভাবে নির্যাতন করে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে হাকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর এ সবই করা হচ্ছে আইনী হেফাজতের নামে। এ কেমন আইন, এ কেমন আইনী হেফাজত?

অথচ আদালত আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে আইনজীবীর উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাকে কোনো প্রকার নির্যাতন-হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছে। তবুও কেন তাকে এভাবে মধ্যযুগীয় বর্বরতার মুখোমুখি করা হলো? মাহমুদুর রহমান এর আগে প্যান্ট পরীক্ষার নামে পুলিশ তাকে দিগম্বর করার চেষ্টা চালায় উল্লেখ করে আদালতের কাছে প্রশ্ন রাখেন, এর আগে বাংলাদেশে কোনো পত্রিকা সম্পাদকের প্যান্ট পরীক্ষার নামে এমন অসভ্য আচরণ করা হয়েছে কিনা? সব কিছু শুনেও আদালতের এতটুকু দয়া হয় নি, শুধুমাত্র দায় এড়ানোর জন্য, জনসাধারণের কাছে নিজেদেরকে সাধু প্রমাণ করার জন্যই মাহমুদুর রহমানকে নির্যাতন না করার জন্য নির্দেশ দেয়। আদালত অবশ্যই জানে নিরাপত্তা হেফাজতের নামে নির্মমতার কথা। নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও এ দেশে কম নয়। তবু আদালত কেন তার বিরুদ্ধে আইনী হেফাজত (রিমান্ড) মঞ্জুর করেই চলেছে তা কারো বোধগম্য নয়? তবে কি দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক দলের শাখায় পরিণত হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী বিচারক শাখা?

চোখ বেধে নির্যাতন শুধুই মনে করিয়ে দেয় অন্ধকার যুগের কথা। এ ধরণের অত্যাচারের অভ্যস্ত ছিল পাক হানাদার বাহিনী। নিয়মিত বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হতো। আজ একই পথে চলছে আওয়ামী লীগ। পাক হানাদারের মতো মাহমুদুর রহমানকেও নির্যাতন চালানো হয় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে, চালানো হয় চোঁখ বেধে, যাতে কাউকেই চিনতে না পারেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করতে না পারেন। সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে কলম ধরায় আজ মাহমুদুর রমহমানের মতো সম্মানিত ব্যক্তিকে উলঙ্গ করতে সরকারের এতটুকু বাঁধছে না। আর বাঁধবেই বা কেন, এর আগেও প্রকাশ্য রাজপথে জনৈক সচিব কে উলঙ্গ করেছিল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়, মানবতায় বিশ্বাসী নয়, আইনের শাসনে বিশ্বাসী নয় বরং আওয়ামী লীগ মধ্যযুগীয় বর্বরতায় বিশ্বাসী। ওরা বাকশালী রক্ষীবাহিনী। ওরা জানে কি করে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করতে হয়, কি করে মানুষের ইজ্জত লুটে নিতে হয়, কি করে নারীদেরকে গণ ধর্ষণ করে উৎসব করতে হয়। রক্ষীবাহিনীর হায়েনারা যেমন মানুষের ছিন্ন মস্তক দিয়ে ফুটবল খেলে পৈশাচিক আনন্দে উল্লসিত হতো আজও তেমনি দেশের সাধারণ মানুষের জান-মাল, ইজ্জত আব্রু লুটে চলেছে ফেরাউনের উত্তরসূরীরা।

কিন্তু এভাবেই কি ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় আওয়ামী লীগ? এর আগেও ৯৬ পরবর্তী আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী-সমর্থক বিশ্বাস করতো কমপক্ষে ৩০ বছর শাসন করবে ওরা। তাই আওয়ামী লীগ জন্ম দিয়েছিল জয়নাল হাজারী, হাজী সেলিম, মায়া, সুটার ইকবাল, আবুল হাসনাতের মতো মাফিয়া গডফাদারদের। জনগণ তাদের ক্ষমা করেনি, যেমন ক্ষমা করেনি স্বাধীনতা পরবর্তী একদলীয়  বাকশাল। এবারও একই পথে হাটছে আওয়ামী লীগ। ২০২১ সাল পর্যন্ত হত্যা, সন্ত্রাস,  নির্যাতন, বাকস্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বপ্নে বিভোর আওয়ামী লীগ। বাকশালের ভুত চাপিয়ে দিতে চায় বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের ঘাড়ে। কিন্তু ইতিহাস থেকে আওয়ামী লীগের শিক্ষা নেয়ার সময় এসেছে। ইতিহাস তাদের ক্ষমা করে নি অতীতে, এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। মাহমুদুর রহমানের ইজ্জতের বিনিময়েই হয়তো শুরু হলো ইতিহাসের পথ চলা।

শুনুন রেডিও তেহরানে ব্যারিস্টার আব্দুর রজ্জাকের সাক্ষাৎকার “রিমান্ডে নির্যাতন চালানো সংবিধান পরিপন্থী”

16 Replies to “চোখ বেঁধে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করলেই কি মেনে নেব বাকশাল?”

  1. লেখাটা পড়ে আমি হতবম্ভ হয়ে গেলাম, এ কোন দেশে আমরা বাস করছি, এ কোন বিচার , এ কেমন স্বাধীন বিচার বিভাগ , এ কোন সরকার যা আমলে এসব ঘটছে, এ কেমন ডিজিটাল যুগ যে সময়ে প্রযুক্তির উপর হস্থক্ষেপ হয় , গনমাধ্যমের উপর হস্থক্ষেপ হয় ? আমি এর প্রতিবাদ কিভাবে করব কি ভাষা ব্যবহার করব । লোকটি মাহমুদুর রহমান বা অন্য কেও হোক এমনটা ঘটবে কেন ? এ আচারন তো ঈহুদি খৃষ্টান সম্প্রদায় করে থাকে , তাদের সাথে আমাদের এই মিল কেন ? আমি এই সরকারের সমর্থক ছিলাম কিন্তু একের পর এক ঘটনা আমাকে বিচলিত করে তুলছে আমার বিবেক কে প্রশ্ন করছে আমি কি আর এই সরকারকে সমর্থন করতে পারি? আমার শক্তিতে কিংবা সাহসে প্রতিবাদ করার সমর্থ নেই তাই আমি মনে প্রানে এই পিচাষ দের ঘৃনা করি , ঘৃনা করি এবং ঘৃনা করি !!!!!

    [উত্তর দিন]

  2. ওরে ভাই কারে কি কচ্ছেন! আওয়ামীলীগ কে আবার সভ্যতা শিখানো যায় না কি? তাদের কথাই হলো কোপা শামসু! কোপা ! কোপা!

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    কোপাতে কোপাতে দুধারী তলোয়ারে নিজেদের সর্বনাশই না ডেকে আনে আবার।

    [উত্তর দিন]

  3. আল্লাহর পাকড়াও এর চেয়ে অনেক কঠিন, জালিম তা ভুলে যায় বার বার।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    মনে পড়ে ঠিকই একসময়, যখন আল্লাহর পাকড়াও থেকে পালানোর পথ থাকে না।

    [উত্তর দিন]

  4. ঘৃনা করি নব্য জাহেলী সরকারের এহেন আচরণের। হাসিনার মুখে এই গরিবের এক দলা থুথু উপহার স্বরুপ ।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    অস্ট্রেলিয়া নিবাসী এক বাঙ্গালী ড্রেনের পানিকে পান উপযোগী করে তোলার যন্ত্র আবিস্কার করেছেন। জানিনা, সরকারের কাছেও তেমনি ঘৃণা ফিল্টার করার কোন যন্ত্র আছে কিনা। যত ঘৃণাই বর্ষিত হয়, ফিল্টার করে গ্রহণ করে মনে হয়।

    [উত্তর দিন]

  5. সমগ্র বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করেই যারা তৃপ্ত হয় । তাদের জন্য একজন মাহমুদুর রহমানকে উলঙ্গ করায়
    আশ্চর্য হওয়ার কিছু আছে বলে মনে করিনা ।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ঠিকই বলেছেন, আওয়ামী লীগের কোন কর্মকান্ডেই আর আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। ওদের দ্বারাতো এসবই সম্ভব।

    [উত্তর দিন]

  6. Size 4 Inch, Mahmudur Shab Bhab Nisen 6 Inch’r, Et Nia Kisu Koilen Na je? Shala Jamaler Dalal Mahmudur Rahmanke Fashi Dea Uchit, Ultapata kotha koia Par paoner Laiga Editor Sajse, Banglaesher Editorder Podotag Kora Uchit Or Proti Ghrina Janiye.

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    সম্পাদকরা কিন্তু তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন, প্রথম আলোর সম্পাদকও আছেন তাদের মাঝে।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.