ইসলামী ব্যাংকের টাকায় আইন প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক বাড়ি

ইসলামী ব্যাংকের টাকায় আইন প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক বাড়ি : ইসলামী ব্যাংক
জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদের অর্থ ও পৃষ্ঠপোষকতা দেয়
: কামরুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার -দৈনিক আমার দেশ (২ জুন প্রকাশিত হতো)
ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের পারিবারিক বাড়ি। কামরুল ইসলামের বড় ভাই হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলামের নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তাদের পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার ৪৮/১, আজগর লেনের পুরাতন বাড়ি ভেঙে নতুন ৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের পরিবার এখনও ইসলামী ব্যাংকের চকমোগলটুলি শাখায় লেনদেন অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে আইন প্রতিমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনকারীদের ব্যাপারে একাধিক আলোচনা ও জনসভায় বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংক জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদের অর্থায়ন করে। সরকারের কাছে খবর আছে, জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য ইসলামী ব্যাংক দেশে-বিদেশে মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করছে।’ অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের পরিবার সম্পর্কে এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

অ্যাডভোকেট কামরুলের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার ৪৮/১, আজগর লেনের বাসিন্দা উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইউনানী চিকিত্সক ও ঢাকা তিব্বিয়া হাবিবিয়া ইউনানী কলেজের প্রিন্সিপাল হাকিম খুরশিদুল ইসলামের চার ছেলে। তারা হচ্ছেন—যথাক্রমে হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও মোরশেদুল ইসলাম। পিতার মৃত্যুর পর বড়ভাই হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলামই অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামদের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হাফেজ আজিজুল ইসলাম ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি. চকমোগলটুলি শাখা থেকে ৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তাদের ৪৮/১, আজগর লেনের বাড়িটি নির্মাণ করেন। এখনও তাদের ঋণের ৯৪ হাজার টাকা পরিশোধ বাকি রয়েছে। এদিকে ইসলামী ব্যাংক জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদের অর্থায়ন করে বলে অভিযোগ করেছেন হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলামের ছোটভাই আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গত ২২ মার্চ রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল আয়োজিত এক সমাবেশে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনা হাসপাতালসহ যুদ্ধাপরাধীদের অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে এগুলো থেকে প্রচুর অর্থ ছড়ানো হচ্ছে। এগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সঠিকভাবে করা যাবে না। ২২ মার্চ টিভি চ্যানেলগুলোতে তার এ বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়। পর দিন ২৩ মার্চ দেশের প্রায় সবগুলো জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এ সংবাদ প্রকাশ করে। গত ৯ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিদের অর্থের যোগানদাতা হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সঠিকভাবে করতে হলে ইসলামী ব্যাংককে সবার আগে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। গত ১৬ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সাম্প্রদায়িকতা শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, সরকারের কাছে খবর আছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রতিহত করতে ইসলামী ব্যাংক দেশে-বিদেশে অর্থ বিনিয়োগ করছে। ইসলামী ব্যাংককে কন্ট্রোল করা না গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত হবে। আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের এ বক্তব্য পর দিন ১৭ এপ্রিল দেশের প্রায় সব জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

http://w2.amardeshonline.com/pages/details/2010/06/02/34637

8 Replies to “ইসলামী ব্যাংকের টাকায় আইন প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক বাড়ি”

  1. আমরা যদি ওনার কথা সত্যি ধরে নেই তাহলে কামরুল ইসলাম ওনার নিজের কথা অনুযায়ী জঙ্গি প্রমাণিত হন। আর যদি তিনি জঙ্গি না হন তাহলে তো উনি মিথ্যাবাদী।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.