সুখ চাইইইই সুউউউউখ?

আরেকটু পরেই স্কুলে ক্লাস শুরু হবে। ছোট ছোট সোনামনিরা একে একে দ্বিগ্বীজয়ীর বেশে ছুটছে বাবা-মায়ের হাত ধরে। কলাবাগান বইয়ের দোকানের সামনে বসে উপভোগ করছিলাম এ স্বর্গীয় দৃশ্য। মাঝে মাঝে সময় পেলে শিশুদের এ তীর্থযাত্রা দেখতে ছুটে আসি এখানে। বাচ্চাদের এ কোলাহল, পায়রার মতো, শালিকের মতো একই পোষাকে সোনামনিদের মিছিল দেখতে এতো ভালো লাগে যে ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলে যাই আমি সংঘাতময়, পুঁতিগন্ধময় ঢাকা শহরের অধিবাসী। মাঝে মাঝে দু’একটা মাইক্রো এসে থামছে বইয়ের দোকানের সামনে। বাচ্চারা ঝর্ণার মতো কলোরোল করতে করতে ছুটে আসে, ময়ুরের মতো পেখম তুলে ছুটে বেড়ায়, একটা দুটো বই কিনে আবার হারিয়ে যায়, আমার হৃদয়ে রেখে যায় দু’একটা ঝরা পালক।

কিছুক্ষণ হলো আরেকটি মাইক্রো এসে থেকেছে। তুলতুলে ছোট্ট একটি মেয়ে সুন্দর একটি বই নিল, বই যে কিনতে হয় সে জ্ঞান এখনো তার হয়ে ওঠেনি। দোকানী টাকা চাইতে কিছুটা বিপদে পড়লো মেয়েটা। অন্যদের বই নিতে দেখে সেও একটি পছন্দ করেছে, এমন বিপদে পড়তে হবে তা ভাবেনি। দৃশ্যটা মোটেই সুখকর মনে হলো না আমার কাছে। এত ছোট্ট একটা শিশু এত তাড়াতাড়ি এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হোক তা কেন যেন মেনে নিতে পারলাম না। নীরবে দোকানীকে ইশারা করলাম বইটা দিয়ে দেয়ার জন্য। বাবুটাকে বললাম, রাগ করো না লমীসোনা, পাজিটা তোমার সাথে একটু মজা করছিল, এই যা। সোনালী পায়রাটা বাকবাকুম করে আবার মিশে গেল সতীর্থদের সাথে, তীর্থযাত্রার ভীড়ে। আমি চেয়ে থাকি উচ্ছল, উজ্জল সোনালী আগামীর দিকে। কয় টা টাকাই বা আমার গেল কিন্তু যেটুকু সুখ আমি সেদিন কিনেছিলাম, তার সাথে তুলনা চলে এমন বিরল সুখের প্রত্যাশায় বসে আছি আজো। (২০০২ সালের স্মৃতি থেকে)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.