মুক্তিযুদ্ধ ও আমার ভাবনা

আমার জন্ম স্বাধীনতার অনেক পরে। স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদানের কোন সুযোগ হয়নি, দেখার সুযোগ হয়নি, তাই এ যুদ্ধ নিয়ে বড় বড় মন্তব্য করার ধৃষ্টতাও আমার নেই। আসলে সময়ই সব কিছুর প্রকৃত সাক্ষী। কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কে রাজাকার, কে সত্যের সৈনিক, কে অসুরের দোসর তা সঠিক ভাবে নিরুপনের সময় আমার মনে হয় আমরা পার করে এসেছি। এখন আমরা এ নিয়ে যতই গবেষণা করিনা কেন সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। একজন মানুষ কেবল মাত্র মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেই সকল সুযোগ -সুবিধা পাবে, ধরাছোঁয়ার উর্ধে থাকবে, আর একজন মানুষ রাজাকারের সন্তান হওয়ার পরও সে যদি এদেশের প্রতি অনুগত হয়, এদেশকে তার নিজের দেশ মনে করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করে তবুও তাকে দূরে ঠেলে দেব, তা আমার কাছে সামপ্রদায়িকতা বলেই মনে হয়। আমরা যারা স্বাধীনতার পরে জন্ম নিয়েছি, আমাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নেই। আমাদের কাছে যে ইতিহাস রয়েছে তা পারস্পরিক সাংঘর্ষিক। তাই আমি এ টুকুই বুঝি যে, এদেশে স্বাধীনতার জন্য, বৈদেশিকে শোষনের হাত থেকে মুক্তির জন্য, একটি মহান যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৭১ সালে। সে যুদ্ধে আমরা শত্রুদের পরাজিত করে স্বাধীনতা সোনালী সূর্য ছিনিয়ে এনেছি। আমাদের দায়িত্ব এখন এ দেশকে গড়া ও এদেশের স্বাধীনতাকে সম্মানের সাথে রক্ষা করা। ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। আমাদের ইতিহাস হচ্ছে আমরা অতীন নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমাদের পান্ডিত্য জাহির করতে ভালোবাসি। কিন্তু আমার মনে হয় আমরা যারা তরুন তাদের বর্তমান নিয়ে বেশি ভাবা উচিত। বর্তমানে কারা দেশের উন্নয়নে অন্তরায়, কারা অশান্তি সৃষ্টিকারী তাদেরকে চিহ্নিত করা। অতীতের রাজাকারদের আমরা স্পষ্ট করে, সঠিকভাবে নাও চিনতে পারি কিন্তু বর্তমানে যে বা যারা দেশের বিরুদ্ধে কাজ করবে তাদেরকে তো আমরা ইচ্ছে করলেই চিনতে পারবো। আর সর্বোপরি , “কেউ না করুক, আমি করবো কাজ” এই থিউরিতে বিশ্বাসী হয়ে আসুন আমরা আমাদের স্ব স্ব অবস্থানে থেকে দেশের জন্য কাজ করি, না পারলে অন্তত এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকি যা দেশের জন্য ক্ষতিকর, সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

2 Replies to “মুক্তিযুদ্ধ ও আমার ভাবনা”

  1. আসলে আমরা স্বাধীনতার মুল স্বাধ গ্রহন করতে পারিনি। কারন এথনও চা এবং সিগারেট দোকানী মার খায় বাকী না দেওয়ার অপরাধে রাজনৈতিক পাতি নেতাদের হাতে (ওরা কারা)। সামান্য কিছু টাকা অথবা মূল্যবান জিনিস নিয়ে বের হলেই চিনতাই অথবা হারাতে হয় মুল্যবান জীবন (ওরা কারা)। শিৰা প্রতিষ্ঠানের দালান নিমর্ানে ও চাঁদা দিতে হয় ঐ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র নেতাদের (ওরা কারা)। টেন্ডার বাজী করে (ওরা কারা)। আমি মনে করি এরা সবাই নব্য রাজাকার। এদের থেকে সতর্ক থাকুন।

    [উত্তর দিন]

  2. ধন্যবাদ। আমি পুরোপুরি আপনার সাথে এমমত। আমরা রাজাকারদের ঘৃণা করি অথচ কখনো কখনো আমরাই যে রাজাকারদের চেয়ে খারাপ কাজ করি তার খবর রাখি না। আসলে আমাদের সবার মাঝেই এক একটা পশু ঘুমিয়ে আছে, কে তাকে কতটা সময় ঘুম পারিয়ে রাখতে পারে তার উপর নির্ভর করে সে কতটা সৎ মানুষ, কতটা মুক্তিযোদ্ধা।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.