মুয়াজ্জিন ভাইয়েরা শুনবেন কি?

আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম। আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

মুয়াজ্জিনের সুমধুর আযানে ঘুম টুটে গেল। এত সুমধুর আজানের ধ্বনি অনেক দিন শুনতে পাই নি, নিশ্চয়ই নতুন কোন মুয়াজ্জিন এসেছেন মসজিদে। অবশ্য ইদানিং বেশী বেশী রাত জাগার কারনে মুয়াজ্জিনের আজান শুনে ঘুম ভাঙ্গে না, ভাঙ্গে বউয়ের ডাকাডাকি শুনে। তাই আজকের আজান আমাকে আরো বেশী বিমোহিত করে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করে আজানের ধ্বনি শুনছি, আযানের সুমধুর সুধা শরীরের প্রতিটি স্নায়ুতন্ত্রী দিয়ে বয়ে যাচ্ছে হৃদয় সরবরে। এ এক স্বর্গীয় অনুভূতি। যারা সুবেহ সাদেকের কালে বিছানা ছাড়তে পারে না তাদের কাছে অধরাই থেকে যায় ও সুখস্মৃতি।

কিন্তু কপালে সুখ না থাকলে জোর করে তো ধরে রাখা যায় না। তাই আমার সুখটুকুও স্থায়ী হয় না। সুমধুর আজানের ধ্বনি ইথারে মিলিয়ে যেতেই বেসুরো গলায় গলা সাধা শুরু করেন মুয়াজ্জিন। আমি অবাক হয়ে ভাবি যার সুমধুর সুরে মন ছুটে যায় আল্লাহর দরবারে, সেই একই কন্ঠের গান শুনে কিভাবে মেজাজ বিগড়ে যায়। আজানে ইবাদকারীদের ঘুম ভাঙ্গে, আমারও ভেঙ্গেছে। কিন্তু আমার ছোট্ট মেয়েটির ঘুম ভেঙ্গেছে ভয়ে, অন্ধকারে মাইকে বিলাপের মতো শব্দদূষণে ভয়ে কেঁদে ওঠে মেয়েটি। বেআক্কেল মুয়াজ্জিনের সঙ্গীত চর্চায় কট্টর ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে আমারই যখন মেজাজ তেঁতে যায় তখন যারা নিয়মিত নামাজ পড়েন না, কিংবা যারা অন্য ধর্মের অনুসারী তাদের কি প্রতিক্রিয়া হয় ভাবতেই মনটা ছোট হয়ে যায়।

দেশে জ্ঞানী আলেম ওলামার অভাব নেই, তবে এরা মসজিদের ইমামতি কিংবা মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালনে কখনোই আগ্রহী হন না। ওগুলো অশিক্ষিত কিংবা মাদরাসার ব্যাকবেঞ্চের ছাত্রদের বিষয় এমনই ভান করেন আলেম সমাজ। ফলে অশুদ্ধ তেলাওয়াতে মাঝে মাঝে মুসল্লীদের নামাজ পড়াই কঠিন হয়ে দাড়ায়। আর এসব আলেম ওলামাদের আক্কেল কোন কালেই হবে বলে মনে হয় না। কখন গান গাইতে হয়, কখন ইবাদত করতে হয় ওদের উর্বর মস্তিস্কে কিছুতেই ঢুকতে চায় না। ওরা হায়েজ নেফাজ ছাড়া অন্য কোন মাসআলা জানেন কিনা সন্দেহ।

নামাজের জন্য যখন আজানের প্রচল হয় তখন বিভিন্ন সাহাবী বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কেউ আগুন জ্বালানোর কথা, কেউ ঘন্টা ধ্বনির কথা বলেছিলেন। কিন্তু আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর মধুর শব্দমালায় প্রচলিত আজানই সেদিন অনুমোদন দিয়েছিলেন রাসূল (সাঃ)। তাহলে আজানের পরও গান গেয়ে গেয়ে মুসল্লীদের মসজিদে আনতে হবে এমন বাড়াবাড়ি দায়িত্ব মুয়াজ্জিনদের কে দিয়েছে?

অবশ্যই এর একটা সমাধান হওয়া উচিত। মসজিদের মাইকে ইসলামী সঙ্গীতের নামে অত্যাচার বন্ধ হওয়া উচিত। অন্যথায় সুযোগসন্ধানী ইসলামের শত্রুরা মসজিদে সঙ্গীত চর্চার নামে শব্দদূষণকে বন্ধ করার কৌশলে মসজিদে আযান বন্ধ করারই সুযোগ না পেয়ে যায়। এক্ষেত্রে সচেতন আলেম সমাজ এগিয়ে আসবেন বলে আশাকরি।

4 Replies to “মুয়াজ্জিন ভাইয়েরা শুনবেন কি?”

  1. আমার মনে আছে এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের এলাকার মসজিদে আলোচনা হয়েছিলো। তৎকালীন ইমাম সাহেব বলেছিলেন। আযানের আগে কিংবা পরে অন্য কোন উপায়ে ডাকা ডাকি করা কিংবা সংঙ্গীত চর্চা করা ঠিক নয়। এতে আযানের গুরুত্ব এবং মর্যাদা কমে যায়।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    তারপরও দিন দিন এ অত্যাচার বেড়েই চলছে। এর একটা আশু সমাধান জরুরী।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.