দোষ একটাই, ছেলেটি শিবির করে!

লোকাল বাস। যাত্রীতে ঠাসা। একটা ছোট ইদুর ছানাও ঢুকতে পারবে কি না সন্দেহ। তারপরও মাঝপথে ভীড় ঠেলে উঠে পড়লেন দুই যাত্রী। একজন মধ্য বয়স্কা নারী, সাথে প্রেগনান্ট এক যুবতী। ভাদ্রের এই ভর দুপুরে কুলকুল ঘামতে থাকা যাত্রীদের ভিড়ে প্রেগন্যান্ট যুবতী দাড়িয় দাড়িয়ে হাসফাস করতে থাকেন। মনে হয় এখনই ডেলিভারী হয়ে যাবে, যদিও সময় দু’মাস বাকী। যাত্রীদের কারো দায় পড়েনি নিজের সীট ছেড়ে দাড়িয়ে তাদের বসতে দেবে। বয়স্কা মহিলা দু’একজনকে মিনতি করলেন, কারো মন গলেনা তাতে। একজন ব্যঙ্গ করেন, “সমান অধিকার চান, আবার বসারও শখ?”

মনে হয় মহিলা কেঁদেই ফেলবেন। তবু শেষ চেষ্টা হিসেবে ভেঁজা কন্ঠে বলে উঠলেন, “শিবিরের কেউ কি নেই? অসহায় মায়ের পাশে দাড়ানোর মতো এ বাসে কি একটাও শিবির নেই!”
তিন সীটের জানালার পাশ থেকে ইতস্তত করে একটা ছেলে দাড়ালো, দেখাদেখি পাশের ছেলেটাও। ভীড়ের পেছন থেকেও চার পাঁচটা ছেলের কন্ঠ শোনা গেল, “আন্টি আসেন আমার সীটে।”
রাজনৈতিক চরম দমন-পীড়নের এ পাথর সময়ে কেউ কি আর শিবির পরিচয় দিতে চায়, তবুও সময়ের প্রয়োজনে ছেলেগুলো দাড়িয়ে গেল। হয়তো বাস থেকেই নামিয়েই ওদের নেয়া হবে রিমান্ডে।
পাশে দাড়িয়ে থাকা এক ভদ্রলোকের চোখে পানি, প্রশ্ন করলেন, কি করে বুঝলেন শিবিরের ছেলেরা আপনাকে বসতে দেব?
“আমারও যে একটা ছেলে শিবির করে। আমি দেখেছি, নারীদের ও কেমন মায়ের মতো সম্মান করে, বোনের মতো মর্যাদা দেয়।” মহিলা জবাব দেন। “ওর মাঝে সকল মানবীয় গুণগুলো জেগে উঠেছে কি করে জানেন? শিবিরের কারনে। ওর একটি মাত্র দোষ, ও শিবির করে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.