ভারতের নির্বাচনী ফলাফলের উপর নির্ভরশীল আল্লামা সাঈদীর মামলার রায়!

sayedeeবিশ্বনন্দিত মুফাস্‌সিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলা নিয়ে স্পষ্টত বিপাকে সরকার। যুদ্ধাপরাধ বিচার ইস্যুটি সরকারের এখন গলার কাঁটা হয়ে ফুঁটেছে। আওয়ামী লীগ না পারছে ইস্যুটি হজম করতে, না পারছে উগড়ে দিতে। এর মাঝে আল্লামা সাঈদীর ইস্যুতি সরকারের অস্বস্তির মাত্রা হাজারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘরে বাইরে সরকার যেমন তীব্র চাপের মুখে তেমনি দলের ভেতরেও অধিকাংশ সাধারণ নেতা-কর্মী আল্লামা সাঈদীর অন্ধ ভক্ত। ইতোমধ্যে আল্লামা সাঈদীর মামলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মীই দলীয় কার্যক্রমে নিষ্কৃয় হয়ে পড়েছে, নিজেদেরকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছেন।

তবে সরকারের অস্বস্তির পরিমাণ আরেক দফা বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন। মনে করা হচ্ছে এ নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভরশীল আল্লামা সাঈদীসহ অন্যান্যা জামায়াত নেতৃবৃন্দের মামলার রায়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায় যে ভাতরের কংগ্রেস সরকার ইসলামী নেতৃবৃন্দের বিশেষ করে আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায় হোক তা চায়, অপরদিকে বিজেপির স্ট্রাটেজি কি হবে তা অনেকটাই অজানা। তাই আওয়ামী লীগ আল্লামা সাঈদীর রায়ের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ধীরে চলো নীতি অবলম্বনে আগ্রহী।
আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে ভারতের কংগ্রেস সরকারের আত্মিক সম্পর্ক। এ সম্পর্কের ভিত্তি গান্ধী ও মুজিব পরিবারের মাঝে অনেক পূরণো বন্ধুত্ব। মূলত বাংলাদেশের সাথে ভারতের কখনোই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে নি যদিও  আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোড়দার হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। বাস্তবে সম্পর্কটি নিছক ব্যক্তিকেন্দ্রিক, কূটনৈতিক নয়। এমনকি ভারতে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথেও আওয়ামী লীগের ততটা জানাশোনার খবর পাওয়া যায় না। বিশেষ করে যখন ভারতের নির্বাচনে মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জল তখন আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করি, চরম মুসলিম বিদ্বেষী ও বাংলাদেশ বিদ্বেষী দাঙ্গাবাবু নরেন্দ্র মোদী স্থানীয় রাজনীতি থেকে উঠে আসার কারনে আওয়ামী সরকারের সাথে আদৌ সম্পর্ক তৈরী করতে সক্ষম হয় নি। বরং কংগ্রেসের আস্থাভাজন হিসেবে হাসিনার সরকার দাঙ্গাবাবু মোদীর আস্থা অর্জনে সক্ষম নাও হতে পারে।

নরেদ্র মোদী ঘোষণা দিয়েই রেখেছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তথা ১৬ মে তিনি বাংলাভাষী মুসলমানদেরকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করবেন। এটি স্পষ্ট যে, দাঙ্গাবাবু মোদি যদি জয়লাভ করেন এবং একজন বাংলাভাষী মুসলমানকেও বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করেন তবে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক কাঁচের দেয়ালের মতো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী সরকার দেশে ভয়াবহ চাপের মুখে পড়বে।

অবস্থা যখন এই, তখন আল্লামা সাঈদীর মামলার রায় নিয়ে চোখ কান খোলা রেখে, বুঝে শুনে আগাতে চায় হাসিনা সরকার। যদি কংগ্রেস ক্ষমতায় টিকে যায় তবে রায় ঘোষণা ও বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে যাবতীয় বালা মুসিবতের রক্ষাকবচ হিসেবে পাশে থাকবে ভারত সরকার। অপরদিকে দাঙ্গাবাবু মোদীর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে তার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এবং একই রকম দূর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস পেলে তবেই আল্লামা সাঈদীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মামলা নিয়ে এগোবে সরকার।

তবে এর মাঝে এ্যাসিড টেস্ট হিসেবে আল্লামা সাঈদীর পূর্বে অন্য যে কোন নেতার মামলার রায় দিয়ে তৌহিদী জনতার হৃদয়ের সুপ্ত আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ ক্ষমতার একটা পরীক্ষা নিতে পারে শেখ হাসিনা।

সেক্ষেত্রে ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতা হাসিনাকে হতাশ করবে না নিশ্চয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.