টকশো নয়, মুমিনের রাত্রি কাটুক আল্লাহর স্মরণে

একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টেলিভশন নামে দুটো বাংলা চ‍্যানেল ছিল। ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও ডানপন্থী দর্শক হা করে টিভি সেটের সামনে বসে থাকতো গরম গরম সংবাদের আশায়। হিজাবী সুন্দরী মেয়েদের ততোধিক সুন্দর কন্ঠে গরম গরম খবরে বিভোর দর্শক খবর শেষ হলেও অনঢ় বস থাকতো অন‍্যান‍্য অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে স্ক্রলবারে সংবাদ শিরোনামগুলো দেখার আশায়। এভাবে সংবাদ দেখতে দেখতে একসময় টকশোর নেশায় বুদ হয়ে যেত সবাই। মাঝে মাঝে নাটক, সিনেমাও যে একেবারে দেখা হতো না তা নয় বরং সময়ের সাথে সাথে নাটক সিনেমা, ম‍্যাগাজিন অনুষ্ঠান, ইসলামী ব‍্যান্ডশো সবকিছু সহনীয় হয়ে যায়, অনেকে বলতে গেলে জায়েজই করে ফেলেন নাটক সিনেমা।

আজ দিগন্ত টিভি নেই, নেই ইসলামিক টেলিভিশনও, কিন্তু রয়ে গেছে সংবাদ, টকশো, নাটক-সিনেমার নেশা। “নিজেদের চ‍্যানেলের খবর দেখলেই তো হবে না, বিরোধীদের কথাওতো শুনতে হবে”। এভাবে প্রতিদিন, প্রতিরাত, নাটক সিনেমা টকশো দেখে দেখে মেজাজটা তিতিরিক্ষি করে শ্রাব‍্য অশ্রাব‍্য ভাষায় বামপন্থীদের পৃষ্ঠপোষক চ‍্যানেলগুলোর গুষ্ঠি উদ্ধার করে ক্লান্তশ্রান্ত হয়ে আছড়ে পড়ে বিছানায়। গভীর রাতের সে ঘুম আর ভোররাতে মোরগের কুক্কুরুকুউ ডাকে কিছুতেই ভাঙ্গে না, আল্লাহর পানে সিজদাবনত কাটে না সূবেহসাদেক, সোহাগ ভরে একটিবার প্রিয়ার মেহেদীরাঙ্গা হাতেও রাখা হয় না হাত।

টকশোর পর টকশো চলে, অফিসে, আদালতে, চায়েরটেবিলে সেসব টকশো ধীরে ধীরে তেতো হয়ে ওঠে, বিষিয়ে ওঠে জীবন। তবু সন্ধ‍্যা গড়িয়ে রাত্রি নামা মাত্রই রিমোট হাতে ঝাপিয়ে পড়ে “টকশো” নামের জেহাদের ময়দানে। এ যেন এক অদম‍্য নেশা, এ থেকে মুক্তি নেই রাজনীতি পাগল বাংলাদেশের।

হে বন্ধু! এবার থামো। আর কতো কাটবে তোমার জীবন নিছক ছেলে খেলায়? ওঠো, জাগো, আর তোমার রবের প্রতি সিযদাবনত হও। চোখ বুলাও কোরানের প্রতিটি বর্ণে বর্ণে, দেখ কত বৈচিত্রময়, কত বিজ্ঞানময় এ আলকোরআন। তুমি টকশো দেখে দেখে সময় পার করো অথচ সর্বকালের সর্বশ‍্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদের লক্ষ লক্ষ হাদীস তোমার অজানা। লক্ষ লক্ষ আলেমে দ্বীন পরাভূত হয় গণহত‍্যায় এই বাংলায়, যে বাংলা একদা বিজিত হয়েছিল মাত্র সতেরজন মুসলিম ঘোরসওয়ারের ক্ষুরাঘাতে। হাজারো টকশো দেখেও তুমি পাবে না বিজয়ের সে মূলমন্ত্র।

ওঠো, টিভি সেটের সামনে থেকে উঠে আসো জায়নামাজে, চোখ ফেরাও তোমার রবের পানে, আর দু’চোখের জলের সাথে ঢেলে দাও তোমার যতো দুঃখ যাতনা।
মনে রেখ, কেবলি রক্ত নয়, চোখের নোনা জলে ভেসে ভেসে বিজয়ের পানসি ভেরে সাফল‍্যের সোনালী বন্দরে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.