মৃত্যু ভয়ে আত্মহত্যা!

বিকাল ৩টার একটা শিক্ষা বৈঠকে যোগদানের জন্য বাসা থেকে বের হয়েছি। কোন বৈঠকে যাওয়ার আগে মুহুর্তের জন্য দ্বিধা জাগে, বিপদ হবে না তো? পুলিশী হয়রানীর শিকার হবো না তো? অবশ্য তা নিতান্তই ক্ষণিকের চিন্তা মাত্র, মাথা থেকে এমন ফালতু চিন্তা ঝেটিয়ে বিদেয় করতে মোটেই বেগ পেতে হয় না বরং এর পরে প্রতিটি পদক্ষেপ পূর্ববর্তী পদক্ষেপের তুলনায় ক্রমাগত দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হতে থাকে।

বাসার গলি থেকে প্রধান সড়কে উঠতেই এক হাত পাশেই আস্ত একটা ইট পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। আমার টার্গেটও ছিল ঠিক ঐ যায়গায় উঠে রাস্তার পাশের ভবনগুলোর ঝুল বারান্দার ছায়ায় ছায়ায় পথ চলা। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি চমকে উঠি। একটু নিরাপদ দূরত্বে সড়ে এসে উপড়ের দিকে তাকাতেই আসল রহস্য উন্মোচিত হয়। আড়াই/তিন বছরের একটা শিশু চারতলার ব্যালকনিতে দাড়িয়ে আস্ত ইট একে একে ৪টি রাস্তায় ছুড়ে ফেলল। অবুঝ শিশু কি করে বুঝবে ওর নিতান্ত আনন্দের এ খেলা পথচারীদের জীবনের সকল জীবনখেলার অবসান ঘটাতে পারে। Continue reading “মৃত্যু ভয়ে আত্মহত্যা!”

উনুন থেকে ছড়িয়ে পড়ুক ইসলামী বিপ্লব

ইসলামী আন্দোলনের লাখো লাখো নেতা-কর্মীর মতো আমিও বিপ্লবের স্বপ্ন দেখি। প্রতিনিয়ত এমন একটা সমাজের চিত্র মনের মাঝে এঁকে চলেছি, যে সমাজে একমাত্র আল্লাহর প্রভূত্ব প্রতিষ্ঠিত, যেখানে মানুষরূপী দানবেরা মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে জেঁকে বসতে পারে না, যে সমাজে নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, মুসলিম অমুসলিম সবার রয়েছে বেঁচে থাকার সমান অধিকার, খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের নিশ্চয়তা। এমন একটা সমাজের স্বপ্ন বুনে চলেছি যে সমাজের আমীর, দূর ফোরাতের তীরে ক্ষুধায় কোন কুকুরের মুত্যুতেও জবাবদিহিতা অনুভব করে। যে সমাজের বিচারকের দরবারে অপরাধী নিজ সন্তানও চাবুকের সাজা পেয়ে মৃত্যুর দুয়ারে পা বাড়ায়, যে সমাজে একাকী নারী সানা থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত নির্ভয়ে যাত্রা করে। Continue reading “উনুন থেকে ছড়িয়ে পড়ুক ইসলামী বিপ্লব”

শাহাদাতের সাক্ষী হয়ে রইল ফেসবুক

৭ ফেব্রুয়ারী ২০১১, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে শিবিরের একজন সদস্য শিবিরসঙ্গীতের প্রথম দুই লাইন লিখে স্ট্যাটাস দিলেন,

“পদ্মা মেঘনা যমুনার তীরে আমরা শিবির গড়েছি
শপথের সঙ্গীন হাতে নিয়ে সকলে নবীজীর রাস্তা ধরেছি”
শিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুভ হোক।

প্রতিক্রিয়ায় একজন জবাব দিলেন, মাত্র ১৩১ জন (প্রকৃত সংখ্যা ১৩৬) শহীদ দিয়ে ইসলামী বিপ্লব সম্ভব নয়। শহীদের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। কতজন শহীদ দিয়ে বিপ্লব সম্ভব তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য হলো, কারো মতে বিপ্লবের সফলতার জন্য শহীদের সংখ্যা মূখ্য কোন বিষয় নয়।

অতপর, সেই সদস্য জবাব দিলেন,

“আল্লাহর কাছে দোয়া করি পরবর্তী জন বা ১৩৭তম শহীদ হিসেবে তিনি যেন আমাকে পছন্দ করেন, আমীন।” Continue reading “শাহাদাতের সাক্ষী হয়ে রইল ফেসবুক”

ইসলাম বিরোধী আ’লীগ সরকারের বর্বরতা থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই

أعوذ بالله من الشيطان الرجيم Continue reading “ইসলাম বিরোধী আ’লীগ সরকারের বর্বরতা থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই”

আলেম সমাজ রাজাকার

“পাকিস্তান যে অপরাধ করেছে তার চেয়ে বড় অপরাধ করেছে পাকিস্তানীদের দোসর এই বাঙ্গালীরা যারা এই ২৬ তারিখ সারা বাংলাদেশ হরতাল ডেকেছে”। ১৩ ডিসেম্বর ২০১০, সোমবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ‘মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ও তাদের হত্যার বিচার শীর্ষক’ এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ড.মহীউদ্দিন খান আলমগীর। উল্লেখ্য সম্প্রতি ‘পাস হওয়া শিক্ষানীতি ধর্মহীন’ দাবী করে এর প্রতিবাদে ২৬ ডিসেম্বর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সংগঠন সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ। অপরদিকে স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ২৬ তারিখে ডাকা হরতালকেই শ্রমিক অসন্তোষের কারণ বলে চিহ্নিত করলেন। Continue reading “আলেম সমাজ রাজাকার”

মরুভূমি ছাড়া হয় কি মরুদ্যান?

গ্রেফতারকৃত শীর্ষ চার জামায়াত নেতাকে ঈদের আগে মুক্তি না দিলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উড়িয়ে দেয়ার হুমকি  দিয়ে আইন কমিশনের ঠিকানায় গত ২৫ আগস্ট ইমেইলই আসে। ৫টি দিন পর ইমেইলটি কর্তৃপক্ষের নজর কাড়তে সক্ষম হয় এবং উড়ো খবরটি আজ পত্রপত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম হয়ে যায়। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে পত্রিকার রিপোর্টে জানা গেছে।  ই-মেইলের হুমকির ধরণেই বোঝা যায় খুবই সাধারণ মানের কম্পিউটার ব্যবহারকারী মেইলটি প্রেরণ করেছে, বিশেষ করে ইংরেজীতে তার দূর্বলতা আছে আবার রোমান হরফে বাংলায় লেখা ইমেইল দেখে বাংলায় ইমেইল লেখায় তার অজ্ঞতাও ধরা পরে । চেষ্টা চালালে প্রশাসন হয়তো দু’একদিনের মাঝে হুমকিদাতার নাগালও পেয়ে যাবে যদি না সরকার দলীয় কোন সমর্থক ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্যকাজটি  না করে থাকে। কিন্তু ইমেইলটি যদি সত্যিকার অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ হতো, আসলেই যদি ইমেইলের হুমকি সম্পর্কে হুমকিদাতা শতভাগ আন্তরিক হতো এবং তেমন শক্তিধর হতো তবে হয়তো ইতোমধ্যেই বিপর্যয়কর কিছু ঘটে যেতে পারত। আশ্চর্য বিষয় এই যে, যে ইমেইলটিকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে জোরদার করা হলো, পত্র-পত্রিকার শিরোনাম বানানো হলো অথচ সে ইমেইলটি নজরে আসতে ৫টি দিন সময় লেগে গেল? সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এহেন দায়িত্বহীনতা অবশ্যই নিন্দনীয় এবং সরকারী আমলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টেলিফোন, চিঠিপত্র, ইমেইল কিভাগে ব্যবহার করতে হয়, কতটুকু গুরুত্ব দিতে হয় তা শেখানো উচিত, নচেত একটা দূর্ঘটা ঘটে যাওয়ার ৫ দিন পর যদি হুমকির চিঠিপত্র উদ্ঘাটিত হয় তবে দেশবাসীর লজ্জার সীমা থাকবে না। Continue reading “মরুভূমি ছাড়া হয় কি মরুদ্যান?”

তার চেয়ে বড় অপরাধী আর কে হতে পারে যার হাতে কালেমা পড়েছেন সহস্র নওমুসলিম!

তার চেয়ে বড় অপরাধী আর কে হতে পারে যার হাতে কালেমা পড়ে মুসলমান হয়েছেন সহস্রাধিক অমুসলিম? তার কথার চেয়ে আর কার কথা বাতিলের গায়ে অসহ্য জ্বালা ধরাতে পারে, যিনি মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকেন সুমিষ্ট আহ্বানে, ডাকেন আলোর পথে, সত্যের পথে, সৎ কাজের পথে এবং নিজেকে আল্লাহর দাস বলে স্বীকার করেন বিনয়াবনত চিত্তে?  ইতিহাসের বিচারে, বর্তমান সভ্য সমাজের বিচারে কিছুতেই এমন অপরাধীকে লালগালিচা সম্বর্ধনা দেয়া হয় না, লাল দালানের মোটা লাল চালের ভাতই তাদের প্রাপ্য। ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় পাতায় লেখা আছে হাজারো এমন অপরাধীর কথা, যাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পৌত্তলিকতার শেকল ছিঁড়ে দলে দলে ছুটে এসেছে মুক্তিকামী মানুষ, তাদের অধিকাংশকেই বরণ করতে হয়েছে নিষ্ঠুরতম চরম শাস্তি। কি করে ভুলে যাব আমরা হযরত যাকারিয়ার (আঃ) কথা, পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে কথা বলায়, আল্লাহর একত্ববাদের কথা বলার অপরাধে যাকে করাতের আচড়ে চিঁড়ে ফেলা হয়েছিল? কি করে ভুলে যাব আমরা মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর কথা, মুর্তিপূজক অবিশ্বাসীদের মাঝে ঈমানের বীজ বপনের দায়ে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন যিনি। ক’জন আল্লাহ প্রেরিত দূতের কথা বলে শেষ করা যায়, ক’জন নবী-রাসূলেরই বা নিস্তার মিলেছে সত্য প্রচারের অমন অপরাধে? ঈসা (আঃ)কে কি ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যার অপচেষ্টা হয় নি, তায়েফের উষ্ণভূমি কি সিক্ত হয়নি দয়াল নবীজির (সাঃ) এর পবিত্র লোহুতে? হ্যা, তিনি অপরাধ করেছিলেন, আর অদ্বিতীয় স্রষ্টা এক আল্লাহর পথে আহ্বানের চেয়ে বড় অপরাধ আর কি কিছুই কি হতে পারে? Continue reading “তার চেয়ে বড় অপরাধী আর কে হতে পারে যার হাতে কালেমা পড়েছেন সহস্র নওমুসলিম!”

জামাত-শিবিরের শক্তির উৎস কোথায়?

হঠাৎ করেই সরকার খড়গহস্ত হয়ে উঠেছে বিরোধীদের উপর, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর উপর। বিষয়টি যে একেবারেই হঠাৎ করে ঘটেছে তাও নয় বরং ২০০১ এর র্নিবাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবিতে জামায়াতের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকায় এবার ক্ষমতায় এসে জামায়াত-শিবির নির্মূলকে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনীতির অস্তিস্ত রর্ক্ষাথে প্রধান দায়িত্ব মনে করছে। প্রকৃতপক্ষে এককভাবে এখনো আওয়ামী লীগের জন সমর্থন বেশী, আর বেশী এ কারণে যে আওয়ামী লীগের রয়েছে বড় অংকের হিন্দু রিজার্ভ ভোট। তবে আওয়ামী লীগের অপরাজনীতির কারণে প্রতিনিয়ত একদিকে যেমন তাদের জনপ্রিয়তা কমছে, অন্য দিকে হিন্দুদের সম্পত্তি ব্যাপকভাবে লুটপাটে হিন্দু ভোটারদেরও মোহভঙ্গ হচ্ছে। পাশাপাশি রাজাকার, রগকাটা ইত্যাদি নানাবিধ অপপ্রচারের মাঝেও গঠনমূলক রাজনীতির ময়দান কামড়ে পড়ে থাকা জামায়াত কচ্ছপগতিতে ঠিকই তাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে চলেছে। ফলে রাজনীতির ময়দানে জামায়াতের উপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আর জামায়াত ও বিএনপি যখনই ঐক্যবন্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেছে ততবারই আওয়ামী লীগ বেকায়দায় পড়েছে।এ কারনেই বিএনপিকে একহাত দেখে নিতে জামায়াতকে যে কোন মূল্যে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগ উঠে পড়ে লেগেছে। Continue reading “জামাত-শিবিরের শক্তির উৎস কোথায়?”

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার যে কারনে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিলেন

একাত্তরের রনাঙ্গনের ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব:) এম এ জলিল জাসদ ছেড়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদান করেছিলেন। “কৈফিয়ত ও কিছু কথা” শিরোনামে তার নিজের লেখা পুস্তিকায় সংক্ষিপ্তাকারে তার ব্যাখা দিয়েছেন তিনি। বইয়ের প্রথম অংশে জাসদের সভাপতির পদ থেকে তার পদত্যাগের কারণ এবং দ্বিতীয় অংশে ইসলামী বিপ্লবের দিকে ধাবিত হওয়ার কারণ উল্লেখ রয়েছে। জাসদ সংক্রান্ত অংশটুকু এখানে উল্লেখ না করে দ্বিতীয় অংশটুকু হুবহু তুলে ধরা সময়ের দাবী মনে করছি। ইতিহাস পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই বইয়ের কিছু অংশ তুলে ধরায় আগেই তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। Continue reading “মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার যে কারনে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিলেন”