বামশাসন থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুক্তি

অবশেষে বাম শাসন থেকে মুক্তি পেল পশ্চিমবঙ্গ। মমতার ভাষায়, “৩৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ নতুন করে স্বাধীনতা পেল”। জনগণ ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে পরিবর্তনের পক্ষে, প্রত্যাবর্তনের বিপক্ষে। “এ বিজয় গণতন্ত্রের; এ বিজয় মা, মাটি, মানুষের”-জানালেন মমতা। উৎসর্গ করলেন এ বিজয়কে রবীন্দ্র-নজরুল, মনিষীদের, উৎসর্গ করলেন সকল মানুষকে। অঙ্গীকার করলেন সুশাসন প্রতিষ্ঠার, দলতন্ত্রের বিপরীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার। অঙ্গীকার করলেন জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার।

পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের এ অগ্রযাত্রায় মাননীয় মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন। আশাকরি তার শাসনামলে দুই বাংলার মাঝে সম্মানজনক বন্ধুত্ব সুদৃঢ় হবে এবং দু’দেশের মাঝে পানি সমস্যা, ছিটমহল সমস্যা, সীমান্তে হত্যা-নির্যাতন,  শিশু ও নারী পাচার, মাদক ও অস্ত্রচোরাচালানসহ দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোর সম্মানজনক সমাধান হবে।

ঘ্যান ঘ্যানে বিরক্ত হয়ে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবীকে শুধু বিরোধী দলের নয়, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ প্রার্থীর। সেনা মোতায়েন হলে জনসাধারণ অনেকটা নির্ভয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। বিরোধী দলের এমন একটি স্বাভাবিক ও যৌক্তিক দাবীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহা বিরক্ত হলেন। তার ভাষায় বার বার ঘ্যান ঘ্যান করে বিরক্ত করায় তিনি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে বাধ্য হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের উচিত নয়, হিতাহিত জ্ঞানশূণ্য হয়ে যা ইচ্ছে তাই বলে বেড়ানো। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের জন্য, আর নির্বাচনটি হয় প্রধানত রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে। তাই যাদের নিয়ে নির্বাচনী আয়োজন তথা নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে যাদের জন্য সে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দদের  সম্পর্কে পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য দেয়া উচিত। আর নির্বাচনের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে যদি তিনি ধৈর্য ধারণ করতে না পারেন, যৌক্তিক দাবীতেই বিরক্ত হয়ে যান তবে তার উচিত নয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে অহেতুক বসে থাকা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শিষ্ঠাচার বহির্ভূত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।

মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস

এক সাগর রক্তের বিনিময়ের অর্জিত স্বাধীনতা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সমরে আমাদের প্রত্যাশা ছিল শোষণ মুক্ত, দারিদ্রমুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ। যুদ্ধ শেষ হয়েছে প্রায় চল্লিশটি বছর আগে, অথচ স্বাধীনতা নামের সুখপাখিটা আজো আমাদের কাছে অধরাই থেকে গেছে। যে পাকিস্তানী শোষকদের অত্যাচার, নিপীড়ন, বঞ্চনা আর গোলামী থেকে মুক্তি পেতে লড়েছি আমরা, সে দেশের সাধারণ মানুষ আজো গোলামীর জিঞ্জিরে বন্দী। দারিদ্রের ভয়াবহতা বেড়েছে, নির্যাতনের তীব্রতা বেড়েছে, মানবতা বিরোধী অপরাধের মাত্রা বেড়েছে। বেড়েছে বর্ণবাদ, বিভাজন আর হিংসার রাজনীতি। রাজা যায় রাজা আসে, সাধারণ মানুষের তাতে কিই বা যায় আসে। পাকিস্তানী নরপিশাচেরা বিতাড়িত হয়েছে, শাসনের ছড়ি আজ ভাইয়ের হাতে। অথচ সে ভাই ভাতৃত্বের ধার ধারে না, ভাইয়ে ভাইয়ে বিভাজনের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই ব্যস্ত। শত্রুর হাতের চাবুকের আঘাত সওয়া যায়, ভাইয়ের হাতে ফুলের আঘাত যে সয় না। অথচ ভাইয়েরা ফুল নয়, চাবুক নয় বরং ময়না কাটায় ক্ষতবিক্ষত করেছে আপন ভাইয়ের শরীর। Continue reading “মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস”

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) : নির্বাচনের আগেই বিতর্কের সমাধান হোক

শেষ হলো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, ক্রমে ক্রমে শান্ত হয়ে আসছে সাইক্লোন, শীতল হয়ে আসছে নির্বাচনী উত্তাপ। ইতিহাস সৃষ্টিকরা এ নির্বাচনে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি ছিল প্রথম ব্যবহত  ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ পদার্পন করলো ইলেট্রনিক ভোটিং সিস্টেমে যা সারা বিশ্বে ই-ভোট নামেই পরিচিত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (আইআইসিটি) চৌকষ গবেষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এ ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন। তাদের ডিজাইনে মেশিনটি তৈরী করেছে পাই ল্যাবস বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভোটের ইতিহাসে তাদের এ অনন্য অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। Continue reading “ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) : নির্বাচনের আগেই বিতর্কের সমাধান হোক”

কান্ডারী হুশিয়ার

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সম্পন্ন করেছে নতুন সেশনের কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন। সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ৩৩ পরিষদ সদস্য। তাদের পরামর্শক্রমে ইতোমধ্যে ডা. মোঃ ফখরুদ্দিন মানিক মনোনীত হয়েছেন সেক্রেটারী জেনারেল। অভিনন্দন ডা. মানিক, অভিনন্দন আপনাদের, যারা নির্বাচিত হলেন সদস্য কার্যকরী পরিষদের। Continue reading “কান্ডারী হুশিয়ার”

দিন বদলে রাত্রি নামে

চারিদিকে পরিবর্তনের হাওয়া। সব কিছু ক্যামন বদলে যায় দিনে দিনে। যে ছেলেটি পথে ঘাটে লম্বা করে সালাম দিত, তাকে দেখি বুক টান করে হাটে সিগারেট ফুঁকে ফুঁকে।

আগে সুবেহসাদেকের ঘোষণা দিত গৃহপালিত মোরগের দল। ইদানিং বিদ্যুতের আলোতে বিভ্রান্ত কোন কোন মোরগ অসময়েও ডেকে ওঠে, ভোর হওয়ার সুসংবাদ দেয়, যদিও অমন ভোরের অপেক্ষায় হয়তো ওত পেতে থাকে চোরছ্যাচরের দল। আবার কিছু কিছু মোরগতো  পুরোপুরি বিভ্রান্ত। দেহঘড়ির কাটা আগুপিছু করে ডাকাডাকির সময়ও পাল্টিয়ে ফেলেছে। আমাদের এ পাড়ার এক মোরগ নিয়ম করে প্রতি রাত সাড়ে এগারোটায় ডেকে ডেকে সকালের সুসংবাদ দেয়, ভারী অবাক ব্যাপার। Continue reading “দিন বদলে রাত্রি নামে”

ইচিং বিচিং চিচিং চা…

“ইচিং বিচিং চিচিং চা

প্রজাপতি উড়ে যা

ইস্ বিষ ধানের শীষ

নৌকা মার্কায় ভোট দিস”।

 

পৌঁনে চার বছর বয়সী মেয়ে তার বন্ধুদের সাথে ছড়া কেটে কেটে খেলছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা যে কোথা থেকে কোথায় পৌঁছতে পারে তা ভেবে অবাক হতে হয়। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞতার আর রাজপথ কাঁপানো কলাকৌশলের ঝুঁলি যে কত সমৃদ্ধ তা খুব সহজেই অনুমান করা যায়। এ কারনেই আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা উঠানামা করলেও কখনো বিপদসীমা অতিক্রম করে না। Continue reading “ইচিং বিচিং চিচিং চা…”

চাটুকারের তেলে পিছলে যায় আওয়ামী মসনদ

আওয়ামী লীগ দলের যেমন রয়েছে সাফল্যের ইতিহাস তেমন রয়েছে উচ্চ পদস্থ চাটুকারদে তেলে ক্ষমতা থেকে পিছলে পড়ার লজ্জাজনক ইতিহাস। আগের শাসনামলে তৈল মর্দনে বিশেষ পারদর্শিতা অজর্নের জন্য জিল্লুর তেল শব্দটি মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল, আওয়ামী লীগের ভরাডুবির জন্য অমন তৈলমর্দন অন্যতম কারণ হয়েছিল। উত্থান-পতনের খেলায় আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করেছে। শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেব খুব দ্রুতই এ দলটি তাদের অবস্থানকে সুসংহত করতে পারে, তাই আবার ক্ষমতায় যেতে খুব বেশী দেরী করতে হয় নি। ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ অতীতের যত মধুর ভুলগুলিকে স্মরণ করেছে, সম্মানিত করেছে। তৈল মর্দনকারীরা তাই আজ দেশের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ভালো কিছু করার উদ্যেগ যে নেয় নি তা নয় বরং বলতেই হবে যে সকল সরকারই অনেক ভালো ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, আর আওয়ামী লীগ তার ব্যতিক্রম নয়। তবে ব্যতিক্রম এখানেই যে, আওয়ামী লীগ যথনই কোন সিদ্ধান্ত নেয় তখন তৈলমর্দনকারীরা ড্রামে ড্রামে তৈল ঢালতে থাকে নীতি নীর্ধারকদে পায়ে, ফলে টলে যায় পরিকল্পনা, ভূপতিত হয় উন্নয়ন। Continue reading “চাটুকারের তেলে পিছলে যায় আওয়ামী মসনদ”

তথ্য সন্ত্রাস ও বর্বরতার শিকার ইসলামী আন্দোলন

২৮ অক্টোবর ২০০৬। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের ছুটির পরে প্রথম অফিস। পুরো অফিস জুড়ে ছুটির আমেজ। কোলাকুলি, গালাগালি (গালে গালে যে মিলন), কুশল বিনিময় করেই অফিস শেষ করে দুপুরে বেড়িয়ে পড়ি। অফিসের অবসরে [email protected]@!162202 [email protected]@!162203 নামে একটা ব্লগ পোস্ট করেছিলাম, রাজনৈতিক ময়দান যে কতটা উত্তপ্ত হতে পারে তার একটা আশংকা লিখেছিলাম পোস্টে। তাই অফিস শেষ করে একটু পল্টন ময়দান ঘুরে দেখতে ইচ্ছে হলো খুব।

দুপুর সোয়া একটায় অফিস থেকে বেড়িয়ে পল্টন ময়দানের কাছাকাছি এসে দেখলাম পুরোটাই পুলিশের দখলে। পুলিশের বেস্টনি ভেদ করে পল্টন ময়দানের দিকে যাওয়ার দু:সাহস হলো না বিধায় ধীরে ধীরে দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে পল্টন মোড়ের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু দৈনিক বাংলা মোড়ের কাছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদেরকে দেখলাম পুরো রাস্তাটা মানববন্ধনি দিয়ে ঘিরে রেখেছে। কিছুতেই কাউকে রায়তুল মোকাররমের উত্তর পার্শ্বের রাস্তায় ঢুকতে দিচ্ছে না। একটু এদিক ওদিক করে অপেক্ষাকৃত দূর্বল একটা দিক থেকে আস্তে করে ঢুকে পড়লাম। মুখে হালকা ছাগুলে দাড়ি থাকায় কিছুটা দ্বিধা সত্ত্বেও ভেতরে ঢুকতে দিল। আসলে দলটাতো কট্টর আস্তিক অর্থাৎ বিশ্বাসীদের দল। খুব সহজেই ওরা বিশ্বাস করে এবং কখনো কখনো মানুষকে বিশ্বাস করে চরমতম মূল্য দিতে হয় ওদের। Continue reading “তথ্য সন্ত্রাস ও বর্বরতার শিকার ইসলামী আন্দোলন”