স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তারিখে যখন পূর্ব পাকিস্তান থেকে সকল গণমাধ্যমকর্মীকে বিতারিত করে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে দূর্ভেদ্য কালো দেয়াল তুলে দিয়ে অতর্কিত পাকিস্তান সেনাবাহিনী মুক্তিপাগল হাজার হাজার নিরীহ বাঙ্গালীর উপর “অপারেশন সার্চলাইট” নামে হত্যার মিশনে ঝাপিয়ে পড়ে, যখন পাকিস্তানী সেনাদের নির্বিচার গণহত্যা থেকে বাঁচতে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আত্মগোপনে, যখন সাত কোটি বাঙ্গালীর স্বাধীনতার স্বপ্নের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী সেনাদের হাতে স্বেচ্ছাবন্দী, যখন শেখ মুজিব সম্পর্কে পুরো বিশ্ববাসী অন্ধকারে, তিনি পাকিস্তানী সৈন্যদের হাতে নিহত হয়েছেন কিংবা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিভিন্ন গুজবে মুখরিত শব্দ তরঙ্গ, যখন পাকিস্তানী হায়েনাদের বর্বরতায় দিগ্বিদিগ জ্ঞানশূন্য কোটি জনতা দিশেহারা, ঠিক তখন অজ্ঞাত এক রেডিও থেকে ভেসে আসে অসহায় নিরস্ত্র নির্যাতিত বাঙ্গালীর মুক্তির বারতা,

“I Major Zia, Provisional Commander-in-Chief of the Bangladesh Liberation Army, hereby proclaims, on behalf of Sheikh Mujibur Rahman, the independence of Bangladesh. I also declare, we have already framed a sovereign, legal government under Sheikh Mujibur Rahman, which pledges to function as per law and the Constitution. The new democratic government is committed to a policy of non-alignment in international relations. It will seek friendship with all nations and strive for international peace. I appeal to all governments to mobilise public opinion in their respective countries against the brutal genocide in Bangladesh. The government under Sheikh Mujibur Rahman is sovereign legal Government of Bangladesh and is entitled to recognition from all democratic nations of the world.” Continue reading “স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া”

যুদ্ধাপরাধের বিচার: বিভেদের রাজনীতি

যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে চলছে বিভাজনের রাজনীতি। দেশ আজ দু’শিবিরে বিভক্ত, একদিকে মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ী শক্তি, অন্যদিকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার শক্তি। আর এ বিভাজনের রাজনীতিতে দেশটাকে লুটে পুটে খাওয়ার মতলবে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্র, ঠিক যেমনটি করেছিল তারা বিজয়ের প্রথম দিনগুলোতে। সেদিন ভারতের সেনাবাহিনীর লুটপাটের হাত থেকে রেহাই পায়নি বাথরুম ফিটিংস, মিরর পর্যন্ত।

কি হয়েছিল বিজয় পরবর্তী দিনগুলোতে? জানতে হলে পড়ুন মেজর জলিলের লেখা অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা গ্রন্থের বাংলাদেশে ভারতীয় বাহিনীর পরিকল্পিত লুন্ঠন অধ্যায়টি।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা কত?

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলো যারা
আমরা তোমাদের ভুলবো না..

না, শহীদদের প্রতি কৃত আমাদের এ ওয়াদা আমরা রক্ষা করতে পারিনি, তাদেরকে স্মরণে রাখতে পারি নি, এমনকি তাদের নামগুলো পর্যন্ত আমরা সংরক্ষণ করতে পারি নি, শুধু তাদের নামকে ব্যবহার করে আখের গোছাতে পেরেছি।

কেউ কি সত্যি করে বলতে পারেন, একাত্তরে কতজন দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করে শহীদ হয়েছিলেন? “ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা”, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, গবেষণাপত্র আর ইতিহাস গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। কিন্তু তা সুস্পষ্ট কোন জরিপের ভিত্তিতে নয় বরং রাশিয়ার একটি পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী বলা হয়ে থাকে, স্বাধীনতার পরে শেখ মুজিবুর রহমানও ত্রিশ লক্ষ শহীদের দাবী করেছিলেন। Continue reading “মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা কত?”

সাধারণ মানুষ যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় কি?

“আপনি কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান?”

আমার পরিচিত এক বিশিষ্ট আওয়ামী বুদ্ধিজীবীর কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, যিনি একাত্তরে স্বশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বলতে যা বোঝায়, তিনি আসলে তা-ই, মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট আছে, আছে আর্মস এন্ড এ্যামিউনিশন জমা দেয়ার সার্টিফিকেটও এবং এলাকার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারাও গর্ব করেন তার বীরত্ব নিয়ে।

“অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই”। অকপটে একবাক্যে জবাব দিলেন তিনি। জবাবটি এতটাই স্বতস্ফূর্ত যে, যে কেউ খুব সহজেই বুঝতে পারবেন তিনি আওয়ামী বুদ্ধিজীবী।

“তাহলে আপনি কি আপনার চাচাজানের বিচার হোক তা কি চান?” Continue reading “সাধারণ মানুষ যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় কি?”

আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সন্তান

গত ২ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে গোলাম মোর্তজা সম্পাদিত ও ২৬, ইস্কাটন গার্ডেন, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা “সাপ্তাহিক”-এর বর্ষ ৩ সংখ্যা ২৯” ইন্টারনেটে জামায়াত-শিবিরের প্রপাগাণ্ডা” শীর্ষক মূল প্রতিবেদনে প্রতিবেদক আনিস রায়হান আমাদের এ সাইটটি নিয়ে সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট করেছেন যা আমাদেরকে কৌতুহলী করে। রিপোর্টে তিনটি ওয়েবসাইট, দুটি ব্লগ, একটি ফোরাম ও সামাজিক ওয়েবসাইট ফেসবুক নিয়ে চুলচেরা (নাকি চুলছেড়া) বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদক অন্ধকারে দড়ি দেখে সাপ সাপ বলে বিলাপ জুড়ে দিয়েছেন। তার এ আর্ত চিৎকারে সরকার দিশেহারা হবে কিনা তা জানা না গেলেও ইতোমধ্যেই “সাপ্তাহিক” পত্রিকাটির সাধারণ পাঠকরাই যে  পত্রিকার আওয়ামী প্রপাগান্ডা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছেন তা বেশ উপলব্ধি করতে পারছি, বিশেষ করে পত্রিকার রিপোর্টে পাঠকের মন্তব্যগুলো দেখে আমাদেরও আক্কেলগুড়ুম। Continue reading “আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সন্তান”

সূর্য ডুবে যায় লাশখেকো শকুনের ডানায়

খুব ছোট বেলায় গল্প পড়েছি। “অল্প স্বল্প গল্প কই” । বইটি কে লিখেছেন তা আর মনে পড়ে না। তবে, গল্পগুলোর উপজীব্য কৃষি, কৃষক ও কৃষিবিদ। এমনই এক গল্পের কথা ইদানিং খুব মনে পড়ে। গল্পটি জনৈক ভোক্তাকে নিয়ে যিনি আলুর বাম্পার ফলনে কম মূল্যে দু’মন আলু কিনেছেন, সারা বছর খাবেন বলে। সে যুগে তো আর এখনকার মতো কোল্ড স্টোরেজ ছিলনা, বিদ্যুতের অভাবে কোল্ডস্টোরেজে পড়ে পড়ে আলু পঁচতো না বরং তখনকার যুগে পচঁতো চৌকি কিংবা খাটের তলায়। তো, কিছু দিন যেতে না যেতেই ক্রেতার আলুতে পঁচন শুরু হয়। ক্রেতা মহা বুদ্ধিমান, দমে যাবার পাত্র নন। ঠিক করেন, পঁচা আলু গুলো ফেলে না দিয়ে পঁচে যাওয়া অংশটুকু ফেলে বাকীটুকু খেয়ে নেবেন এবং ভালো আলুগুলো পরে খাবেন। এভাবে প্রতিদিন নিত্য নতুন আলুতে পঁচন ধরে, ভোক্তাও নব উদ্যমে পঁচা আলুর ভর্তা, আলুর রুটি, আলুর চচ্চরি, আলুর চিপস বাহারি খাবার তৈরী করে করে উদরপূর্তি করেন। এভাবে বছরব্যাপী বেচারা শুধু পঁচা আলুই খেয়ে কাটিয়ে দেন, ভাল আলুগুলো পড়ে থাকে পঁচনের অপেক্ষায়। Continue reading “সূর্য ডুবে যায় লাশখেকো শকুনের ডানায়”

মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস

এক সাগর রক্তের বিনিময়ের অর্জিত স্বাধীনতা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সমরে আমাদের প্রত্যাশা ছিল শোষণ মুক্ত, দারিদ্রমুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ। যুদ্ধ শেষ হয়েছে প্রায় চল্লিশটি বছর আগে, অথচ স্বাধীনতা নামের সুখপাখিটা আজো আমাদের কাছে অধরাই থেকে গেছে। যে পাকিস্তানী শোষকদের অত্যাচার, নিপীড়ন, বঞ্চনা আর গোলামী থেকে মুক্তি পেতে লড়েছি আমরা, সে দেশের সাধারণ মানুষ আজো গোলামীর জিঞ্জিরে বন্দী। দারিদ্রের ভয়াবহতা বেড়েছে, নির্যাতনের তীব্রতা বেড়েছে, মানবতা বিরোধী অপরাধের মাত্রা বেড়েছে। বেড়েছে বর্ণবাদ, বিভাজন আর হিংসার রাজনীতি। রাজা যায় রাজা আসে, সাধারণ মানুষের তাতে কিই বা যায় আসে। পাকিস্তানী নরপিশাচেরা বিতাড়িত হয়েছে, শাসনের ছড়ি আজ ভাইয়ের হাতে। অথচ সে ভাই ভাতৃত্বের ধার ধারে না, ভাইয়ে ভাইয়ে বিভাজনের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই ব্যস্ত। শত্রুর হাতের চাবুকের আঘাত সওয়া যায়, ভাইয়ের হাতে ফুলের আঘাত যে সয় না। অথচ ভাইয়েরা ফুল নয়, চাবুক নয় বরং ময়না কাটায় ক্ষতবিক্ষত করেছে আপন ভাইয়ের শরীর। Continue reading “মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস”

অপুষ্ট ডানায় নীলাকাশ ছোঁয়া যায় না

কিচ্ছু ভাল্লাগে না। নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হয়। মনে হয় যেন মেরুদন্ডহীণ ক্ষুদে শুককীট। গুটির খোলসের অন্ধগুহায় বন্দী। খোলসের ওপারে মুক্ত নীল আকাশ, আকাশে রঙ্গীণ ঘুড়ির ওড়াউড়ি। মনে মনে খোলস মুক্তির প্রহর গুণি, প্রজাপতির মতো গুটি কেটে কেটে নীল আকাশে রঙ্গীণ পাখা মেলে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখি। জানিনা, গুটি ফুড়ে সব শুককীটই কি পায় প্রজাপতির মতো রঙ্গীন ডানায় স্বাধীনতা? Continue reading “অপুষ্ট ডানায় নীলাকাশ ছোঁয়া যায় না”