চেয়ারম্যান চাচার জন্য ভালোবাসা

চেয়ারম্যান চাচা অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। সারাক্ষণ জড় পদার্থের মতো চেয়ারে বসে থাকেন উদাস হয়ে, কি যেন সারক্ষণ ভাবেন। আর যখনই বাস্তবতায় ফিরে আসেন তখনই হু হু করে কেঁদে উঠেন।
অনেক দিন পর এবার ঈদের ছুটিতে তার বাসায় বেড়াতে গেলাম। পাশাপাশি বাসা আমাদের। মাঝ খানে ছোট খালটি আমাদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে নি। ছোট সময় থেকেই তার বাসায় আমার অবাধ যাতায়াত।
এক সময় কী দোর্দান্ত প্রতাপশালী ছিলেন তিনি। পাড়ার লোক, গায়ের লোক তাকে দেখলে বেশ সমীহ করে চলতো। নিয়মিত নামাজও পড়তেন মসজিদে যেয়ে। অথচ এখন অন্যের সাহায্য ছাড়া একান্ত ব্যক্তিগত কাজগুলোও করতে পারেন না।
তার এতোটা খারাপ অবস্থা সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল না। ঈদের আগের দিন তার বাসায় যখন যাই আমাকে দেখে তিনি অঝোঁরে কেঁদে উঠলেন। চেয়ারম্যান চাচা কাঁদলেন, কিন্তু একটি কথাও আমার সাথে বলতে পারলেন না। কষ্টে আমার বুকটা ভেঙ্গে গেল, কিন্তু আমি তাকে ভালো করে সান্তনাও দিতে পারলাম না, একটু কাঁদতেও পারলাম না। কাঁদায়ও যে সুখ আছে তা যারা কাঁদতে পারে না তারাই হয়তো বুঝতে পারে। Continue reading “চেয়ারম্যান চাচার জন্য ভালোবাসা”

সুখ চাইইইই সুউউউউখ?

আরেকটু পরেই স্কুলে ক্লাস শুরু হবে। ছোট ছোট সোনামনিরা একে একে দ্বিগ্বীজয়ীর বেশে ছুটছে বাবা-মায়ের হাত ধরে। কলাবাগান বইয়ের দোকানের সামনে বসে উপভোগ করছিলাম এ স্বর্গীয় দৃশ্য। মাঝে মাঝে সময় পেলে শিশুদের এ তীর্থযাত্রা দেখতে ছুটে আসি এখানে। বাচ্চাদের এ কোলাহল, পায়রার মতো, শালিকের মতো একই পোষাকে সোনামনিদের মিছিল দেখতে এতো ভালো লাগে যে ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলে যাই আমি সংঘাতময়, পুঁতিগন্ধময় ঢাকা শহরের অধিবাসী। মাঝে মাঝে দু’একটা মাইক্রো এসে থামছে বইয়ের দোকানের সামনে। বাচ্চারা ঝর্ণার মতো কলোরোল করতে করতে ছুটে আসে, ময়ুরের মতো পেখম তুলে ছুটে বেড়ায়, একটা দুটো বই কিনে আবার হারিয়ে যায়, আমার হৃদয়ে রেখে যায় দু’একটা ঝরা পালক।

কিছুক্ষণ হলো আরেকটি মাইক্রো এসে থেকেছে। তুলতুলে ছোট্ট একটি মেয়ে সুন্দর একটি বই নিল, বই যে কিনতে হয় সে জ্ঞান এখনো তার হয়ে ওঠেনি। দোকানী টাকা চাইতে কিছুটা বিপদে পড়লো মেয়েটা। অন্যদের বই নিতে দেখে সেও একটি পছন্দ করেছে, এমন বিপদে পড়তে হবে তা ভাবেনি। দৃশ্যটা মোটেই সুখকর মনে হলো না আমার কাছে। এত ছোট্ট একটা শিশু এত তাড়াতাড়ি এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হোক তা কেন যেন মেনে নিতে পারলাম না। নীরবে দোকানীকে ইশারা করলাম বইটা দিয়ে দেয়ার জন্য। বাবুটাকে বললাম, রাগ করো না লমীসোনা, পাজিটা তোমার সাথে একটু মজা করছিল, এই যা। সোনালী পায়রাটা বাকবাকুম করে আবার মিশে গেল সতীর্থদের সাথে, তীর্থযাত্রার ভীড়ে। আমি চেয়ে থাকি উচ্ছল, উজ্জল সোনালী আগামীর দিকে। কয় টা টাকাই বা আমার গেল কিন্তু যেটুকু সুখ আমি সেদিন কিনেছিলাম, তার সাথে তুলনা চলে এমন বিরল সুখের প্রত্যাশায় বসে আছি আজো। (২০০২ সালের স্মৃতি থেকে)