থার্টি ফার্স্ট নাইটে টিএসসিতে আবারো শ্লীলতাহানি : নীরব মিডিয়া

থার্টিফার্স্ট নাইটে টিএসসিতে এবারে শ্লীলতাহানির ঘটনায় মিডিয়া ছিল নীরব

ভিডিওটিতে স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে উলংগ মেয়েটি পুলিশ প্রহরায় ইজ্জত ঢাকতে ব্যস্ত। শুধু মাত্র সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এবং অপসংস্কৃতির আগ্রাসনকে অব্যাহত রাখার স্বার্থে  একুশে টেলিভিশন বাদে মিডিয়াগুলো এবারে ছিল সম্পূর্ণ নীরব।  একুশে টেলিভিশন সচিত্র সংবাদ সম্প্রচার করেছে তবে অশ্লীলতার কারণে ছবিটি ঝাপসা করে প্রচার করেছে বলে মনে হয়। (2010: Year of Sexual Abuse) যৌনসন্ত্রাসের বছরের শেষ রাতে, নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে যৌনসন্ত্রাসের এ করুণ চিত্র মনে প্রশ্ন জাগায়, ২০১০ সালের মতো এ বছরটিও কি কেটে যাবে যৌনসন্ত্রাস আতংকে নাকি সামনে রয়েছে সীমাহীন ভয়ংকর পাথর সময়! Continue reading “থার্টি ফার্স্ট নাইটে টিএসসিতে আবারো শ্লীলতাহানি : নীরব মিডিয়া”

ঐ আসে ছাত্রলীগ, পালাও বাঁধন পালাও

আজকের এ রাতে, হ্যা মাত্র এক যুগ আগে ২০০০ সালের প্রথম প্রহরে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে হাজারো ছাত্রের মাঝে, পত্রপত্রিকার ক্যামেরার সামনে ছাত্রলীগের গুন্ডারা মেতেছিল দ্রৌপদীর বস্ত্রাহরণে। ছাত্রলীগের চিহ্নিত নেতা রাসেলের নেতৃত্বে সেদিন শুধু বাঁধনেরই বস্ত্রহরণ করেনি, ওরা পুরো বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের ইজ্জতকেই লুটে নিয়েছিল। সেদিন ছাত্রলীগের নেতাদের এমন অপকর্মে অনেকেই সাফাই গেয়েছেন, “দুয়েকজনকে দিয়ে তো আর পুরো দলের বিচার করা যায় না”। হ্যা, তা হয়তো ঠিক কিন্তু যারা রাধুনী তারা জানেন একটি ভাত টিপেই বলা যায় পুরো পাতিলের ভাত তৈরী কি না। কিন্তু না, শুধু একটি নয়, সারা বাংলাদেশের যেখানেই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ইভটিজিং বিভিন্ন অভিযোগে যত অঘটন ঘটেছে সবক্ষেত্রেই ছাত্রলীগের নামটাই ঘুরে ফিরে বার বার এসেছে। আর এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগের অপকর্মের অভয়ারণ্য। জাহাঙ্গীরনগরে ধর্ষণে সেঞ্চুরি করে ছাত্রলীগ নেতা মানিক ক্যাম্পাসে মিষ্টি বিতরণ করে নারী নির্যাতনের যে নজীর স্থাপন করেছিল তা আরব্য রজনীর দেশের গল্পকেও হার মানায়। মানিকের মতো ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের অমর কীর্তিতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক ছাত্রীর ছাত্র জীবন শেষ হয়েছে, বিয়ে, সংসার ভেঙ্গেছে অসংখ্য নারীর।

Continue reading “ঐ আসে ছাত্রলীগ, পালাও বাঁধন পালাও”

কনসার্ট কি শ্লীলতাহানির হাতিয়ার?

শ্লীলতাহানি অতীতেও ছিল বর্তমানেও আছে, দিনদিন এর প্রকোপ মহামারী আকারে বাড়ছে। খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে শ্লীলতাহানি ঘটছে দেশের সবচেয়ে নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে, ঘটছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে। থার্টি ফার্স্ট নাইটে বাঁধনের শ্লীলতাহানি মিডিয়ায় যে তুমুল ঝড় তুলেছিল তার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ ধরণের অপকর্ম চীরতরে বিলুপ্ত হওয়াটাই সচেতন মানুষের আকাঙ্খা ছিল, কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীদের সম্ভ্রম লুটের মহোৎসব বেড়েই চলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনের সামনে প্রভাতফেরী থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিমউদ্দিন হল শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি  আব্দুর রহমান জীবনের অনুসারীরা সবার সামনেই ওড়না টানে, অভিবাবকসহ ছাত্রীকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে।  গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সেই আবদুর রহমান জীবনের সংগঠন ‘মুক্তবাণ সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ’ আয়োজিত নববর্ষ কনসার্টে আবারো নারীরা লাঞ্ছিত হলো, কমপক্ষে ১৫ টি মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করে বাড়ীতে পৌছে দেয়। শিক্ষার্থীসহ অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কনসার্ট চলাকালে পুরো এলাকার হাজার হাজার মানুষের ভিড়ের মধ্যে মেয়েরা এসে পড়লে বখাটেরা তাদের লাঞ্ছিত করে।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারী রাতে আনন্দমোহন কলেজের শতবর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে একদল তরুণ পুলিশ-র‌্যাব, রাজনৈতিক নেতা ও কলেজের শিক্ষকদের সামনেই পাঁচশতাধিক নারীর শ্লীলতাহানি করে। প্রত্যক্ষদর্শী এক উদ্ধারকর্মী যুবকের ভাষ্যমতে তিনি নিজেই সজ্ঞাহীন ৪০ থেকে ৫০ জন নারীকে উদ্ধার করতে দেখেছেন। অবস্থা দেখে মনে হয় নারীদের শ্লীলতাহানির হাতিয়ার হিসেবেই হয়তো ঘটা করে রাতবিরাতে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। Continue reading “কনসার্ট কি শ্লীলতাহানির হাতিয়ার?”