লন্ঠনের আলোয় সংবাদপাঠ : লোডশেডিংএর বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ

নেপালী কান্তিপুর টেলিভিশন ফেব্রুয়ারীর শুরু থেকে তাদের সন্ধ্যা ৭ টার সংবাদ লন্ঠনের আলোয় পড়া শুরু করেছে। অব্যাহত লোডশেডিংএর প্রতিবাদে এবং এ জনদূর্ভোগ কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারকে বাধ্য করতে এ অভিনব প্রতিবাদ শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ টিভি কর্তৃপক্ষের এমন কর্মসূচীতে অভিভূত সাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশে অব্যাহত বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের উধ্বর্গতি, দেশবিরোধী বিভিন্ন চুক্তিসহ সরকারের দূর্বলতার বিরুদ্ধে  প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এভাবেই নিত্যনতুন কর্মসূচী শুরু করে সাধারণ মানুষের পক্ষে দাড়াবে এমটাই আশা ভুক্তভোগী জনতার।

নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ

আমাদের এ সুন্দর পৃথিবীতে রয়েছে অফুরন্ত সম্পদ। তবে সে সম্পদকে ব্যাবহার উপযোগী করে নেয়া সব সময় সহজ নয়। তাই এ অফুরন্ত সম্পদের মাঝে যতটুকু আমাদের আয়ত্বে এসেছে তা ব্যবহার করতে হবে পরিকল্পিতভাবে, পরিমিত ভাবে। বিশেষ করে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সম্পদকে ব্যবহার উপযোগী করে সরবরাহ করা পুরোপুরি সম্ভব নয়। তাই সবার পক্ষে সম্পদ সমানভাবে ভোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না, বিরাট একটি জনগোষ্ঠীকে চরম অভাবের মাঝে থাকতে হচ্ছে, যদিও অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফলে ক্ষুদ্র একটি অংশ ব্যবহার উপযোগী বিপুল পরিমাণ সম্পদ অপচয় করছে। Continue reading “নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ”

ফুঁসে উঠছে বাংলাদেশ

“আগামী তিন বছরে অর্থাৎ ২০১১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটে, ২০১৩ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াটে এবং ২০২১ সালে ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে” রূপকল্প শুনিয়েছিলেন শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারে । রূপকল্প রূপকল্পই, কল্পকথা আর বাস্তবতার সাথে মিলন ঘটেনি কোন কালে, আজো ডিজিটাল শেখ হাসিনা সরকারের রূপকল্পও তার ব্যতিক্রম নয়। কল্পকাহিনীকে বিশ্বাসযোগ্য করতে কিছু নাটকীয়তার আশ্রয় নিতে হয়, লাইট ক্যামেরার কারসাজিতে জীবন্ত হয়ে ওঠে রূপকথা। শেখ হাসিনাও রূপকথার বিদ্যুৎঝলক দেখাতে নানাবিধ কর্মসূচীর চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছিলেন। তেল, গ্যাস, কয়লা, জলবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও জৈবশক্তি, বায়ুশক্তি, সৌরশক্তি ও পারমানবিক শক্তিসহ জ্বালানির প্রতিটি উৎসের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে বলে গালভরা বুলি দিয়ে ব্যাপক করতালি অর্জন করেছিলেন। অথচ আজ দেশে এসব কোন শক্তিরই অস্তিত্ব চোখে পড়ে না, শুধুমাত্র চাপাশক্তির (চাপাবাজি) জোরে চলছে সরকার। Continue reading “ফুঁসে উঠছে বাংলাদেশ”

জীবনের মূল্য কত?

ঝড় এলো, এলো ঝড়
আম পর আম পর
কাঁচা আম পাঁকা আম
টক টক মিষ্টি
এই যাহ!
এলো বুঝি বৃষ্টিইইই!

দূর্ভাগ্য, গাছে এখনো আম ধরে নি, তাই আম পরে না, ঘাড়ে পরে বিলবোর্ড। Continue reading “জীবনের মূল্য কত?”

বজ্রদেবীর আগমন

দেবী এলেন, অচ্ছুৎ প্রজাকে দর্শন দিয়ে যথারীতি আবার চলেও গেলেন। যে ঈদের চাঁদের জন্য এগারোটি মাস অপেক্ষা, সে চাঁদও আধাঘন্টা স্থায়ী হয় না। বেশী সময় থাকলে যে অসীম শ্রদ্ধা অটুট থাকে না। শশুরবাড়ীতে বেশিদিন থাকলে নাকি জামাইয়েরও কদর থাকে না।

ঈদের চাঁদ সারারাত জেগে জেগে বাসর আলোকিত করে না, পূর্ণিমার মতো সে তেজও তার থাকে না। তাই বলে ঈদের চাঁদের চেয়ে পূর্ণিমার আলোর কদর কখনোই বেশী ছিল না। বজ্রদেবীও তেমনি ক্ষণিকের জন্য এলেন, আবার চলে গেলেন রাজ্যের অন্য কোথাও, আমাদের মতো নীচুজাতের প্রজারা যে তার পূণ্যদর্শনের অপেক্ষায়।

বজ্রদেবী এসেছিলেন, এসেছিলেন বৈদ্যুতিক তার বেয়ে বেয়ে, ক্ষনিকের জন্য। বড় ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত হয়ে, নীবু নীবু কুপির মতো আলো বিলিয়ে আমাকে চীরকৃতজ্ঞ করে আবার চলেও গেলেন। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে তার মুখশ্রী দর্শনে আমরা আবেগাপ্লুত। আহারে, এতো আবেগ কোথায় রাখি। আবেগ ধরে রাখাই যে দায়, তাইতো চোখ ভেঙ্গে বৃষ্টির মতো আনন্দাশ্রু ঝড়ে ঝড়ে যায়।

সারাদিন তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় রেখে সন্ধ্যাবাতি হয়ে এসেছিলেন বজ্রদেবী শেখ হাসিনা। আমার মতো নগন্য দাসানুদাসের এ যে কতবড় প্রাপ্তি তা ক্রিতদাসেরাই শুধু বোঝে, এ নীচ জ্ঞান দূর্বোধ্য যে রাজা-বাদশাহদের কাছে। ক্ষণিকের তরে বজ্রদেবী যে টুকু আলো বিলিয়ে গেলেন তার যোগ্য আমি তো নই, সে তো শুধু চৌদ্দপুরুষের পুন্যেরই ফল। পূর্ব পুরুষগণ, তোমাদের পুণ্যে এ অধম সন্তান আজ দিনে আধা ঘন্টার জন্য হলেও বজ্রদেবীর সাক্ষাৎ পেয়েছে, তার ক্ষণিকের দর্শনেই অচ্ছুৎ প্রজার ব্যাটারীতে ৮০% চার্জ জমেছে।

পূণ্যবান পিতা, তোমাকে হাজার ছালাম।

ওয়াসার মলমূত্রে ভরা মন্ত্রী-আমলাদের পানপাত্র

সমস্যা আছে, আছে বহুবিধ সমাধান। তবু সমস্যার ঘূর্ণিপাকে হাবুডুবু খায় বাংলাদেশ। প্রেসক্রিপশনের ভারে ভারাক্রান্ত দেশের রোগ বেড়েই চলেছে, সুস্থ্যতার কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।

প্রকৃত ব্যাপার এই যে আমরা সমস্যাটি কতটা গুরুতর তা তলিয়ে দেখি না কিংবা দেখলেও এ সমস্যার সাথে ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে জড়িত কিনা,  সমস্যার সমাধান না হলে নিজে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হব কিনা এগুলো সম্ভবত বিবেচনায় আনা হয় এবং সমস্যার একটি হাতুড়ে সমাধান টেনে দায়িত্ব পালন করা হয়। কিংবা এমনো হয় যে সমস্যার হাজারো সমাধান বাতলে দিয়ে আমরা পান্ডিত্য জাহির করি কিন্তু সমাধানটিকে বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেই। এভাবে সমাধানের স্তুপে চাপা পড়ে সমস্যায় আরো জট লেগে যায় কিন্তু সমাধান হয় না। Continue reading “ওয়াসার মলমূত্রে ভরা মন্ত্রী-আমলাদের পানপাত্র”

উচ্ছিষ্টভোজী

বাংলাদেশ, গরীব দেশ। ছোট বেলা থেকেই বাংলাদেশ সম্পর্কে এ অপবাদটি শুনে শুনে বড় হয়েছি। অথচ বিগত দু’দশকে বাংলাদেশে হয়েছে ইর্ষণীয় উন্নয়ন।  বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে তা এক কথায় অসাধারণ। তবুও বাংলাদেশের গলা থেকে গরীর পদবিটি দূর হয় না। কিন্তু কেন? বাংলাদেশের সব আছে, আবার কিছুই যেন নেই এ দেশটিতে। কি নেই, কেন নেই এ চিন্তা আমাকে প্রতিনিয়ত দংশন করে।

যে কোন উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধির জন্য প্রধান পূর্বশর্তই হলো শক্তি। শক্তি ছাড়া কোন কিছু সম্ভব নয়। আর কে না জানে বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতার ভীত গড়ে উঠেছে বৈদ্যুতিক শক্তিকে কেন্দ্র করে। এমন একটি যন্ত্র কি আজ দেখা যায় যার পেছনে বৈদ্যুতিক যাদু কাজ করছে না। অথচ বাংলাদেশে হাজারো উন্নয়নের মাঝেও এই প্রধান ভীতটি প্রতিনিয়ত দূর্বল থেকে দূর্বলতর হচ্ছে। কিন্তু কেন, সদুত্তর দিতে চায় না কেউ। Continue reading “উচ্ছিষ্টভোজী”

বিদ্যুত বিড়ম্বনা

এক সাগর ঘামে ভেসে ভেসে খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেল। বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরছে না, বিদ্যুৎ নেই। সকাল বেলাই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার সময় ও বিদ্যুৎ ছিল না। বৌয়ের হাত পাখার বাতাস খেতে খেতেই ঘুমিয়েছিলাম। কিন্তু এরকম আর কতক্ষণ করা যায়?

বৌকে বললাম দিনে কবার বিদ্যুৎ আসে আর কবার যায় তার একটা চার্ট তৈরী করার জন্য। না, বিদ্যুৎ বিভাগের কোন ক্ষতি করা যাবে না, বা কারো কাছে নালিশ করার জন্যও নয়, শ্রেফ কতটা দুর্ভাগা এ ঝালকাঠীবাসী তা হৃদঙ্গম করার জন্য এর প্রয়োজন। আচ্ছা দেশের অন্য সবাই কেমন আছে? অন্য জেলার বাসিন্দারা? কেমন আছেন আধুনিক রাজধানীবাসীরা? Continue reading “বিদ্যুত বিড়ম্বনা”