লিবাসুত তাক্বওয়া : অবশেষে শার্ট ছেড়ে পাঞ্জাবী গায়ে জড়ালাম

ইভটিজিং-এর কারন ও প্রতিকার প্রসঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে “নারীর কোন অঙ্গ সবচেয়ে আকর্ষণীয়?” শিরোনামে একটি ব্লগ লিখেছিলাম, বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছিলাম নারীর কোন কোন অঙ্গ পুরুষদেরকে আকৃষ্ট করে, কোন কোন অঙ্গের প্রদর্শনীতে বখাটেরা ইভটিজিংএ অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। কারন আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম যে নারী শরীরের কিছু স্পর্শকাতর  অঙ্গ প্রদর্শনই ইভটিজিং এর প্রধান কারণ, যা সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক সময়ের তুখোড় অভিনেতা ও বর্তমান তৃণমূল সরকারের বিধায়ক চিরঞ্জিত প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তার ভাষায় “মেয়েদের পোশাকের ধরন বদলাচ্ছে। সেটা পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য। তা নিয়ে কটূক্তি করলেই তাকে ‘স্ল্যাং’ বা ‘টন্ট’ বলা হয়”। তার এমন উক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে সমালোচনার ঝড় উঠলেও অভিনেত্রী  স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় প্রায় একই সুরে মন্তব্য করেন, “উটকো ঝামেলার হাত থেকে বাঁচতে বেশি খোলামেলা পোশাক রাস্তায় না পরাই ভাল”। না, আজ আমি নারীদের পোশাক পরিচ্ছদ নিয়ে আলোচনা করবো না, বরং আজ আমি পুরুষদের কিছু সমস্যা নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। আমার ধারণা বখাটে পুরুষরাই শুধু নারীদের আকর্ষণীয়ভাবে প্রদর্শিত স্পর্শকাতর অঙ্গ সমূহের পানে তাকিয়ে থাকতে পছন্দ করে, নারীরা পছন্দ করে তাদের দৃষ্টিকে নিম্নগামী রাখতে, সংযত আচরণ করতে অভ্যস্ত তারা। আমার ধারণার প্রথম অংশ তথা বখাটে পুরুষদের ক্ষেত্রে ঠিক থাকলেও নারীদের আচরণের ক্ষেত্রে আমি যে অনেকটা অন্ধকারে ছিলাম তা কিছু কিছু ঘটনায় আমার কাছে স্পষ্ট হতে থাকে। আমি পুরুষদের মাঝেই বখাটে খোঁজার চেষ্টা করেছি, যদিও নারী-পুরুষ উভয়ের মাঝেই বখাটে বিরাজমান। সুযোগ পেলে নারীরাও যে কম যায় না তা এখন বেশ বুঝতে পারছি। বছর খানেক ধরে বিভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে লক্ষ্য করেছি মেয়েরাও পুরুষের স্পর্শকাতর অঙ্গের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে পুরুষের চেয়েও আগ্রাসী মনে হয়েছে আমার কাছে। বিশেষ করে পুরুষরা নারীদের স্পর্শকাতর অঙ্গের দিকে তাকালেও চোখে চোখ পড়লে অনেকেই দৃষ্টি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়, তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে তার ভিন্নতা দেখেছি, যতক্ষণ না শিকার দৃষ্টির আড়াল হয় ততক্ষণ শকুনের দৃষ্টি আটকে থাকে প্যান্টের জিপারে। বিষয়টি প্রথমবার নজরে আসার পর থেকে বার বার পর্যবেক্ষণ করেছি এবং ফলাফল একই, জিপারে আটকে আছে দৃষ্টি, ঠিক যেমন মাঝে মাঝে আটকে যায় শিশুদের “ইয়ে”। বিষয়টি নিয়ে নিজের স্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি, ‘ফ্যাশন শো’র মডেলদের মতো প্যান্ট পড়ে ক্যাটওয়াক করে দেখিয়েছি এবং তার সহায়তায় সত্যটি আবিস্কারে সফল হয়েছি যে আসলে যতটা যত্নসহকারে সতর্কতার সাথেই শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো প্যান্টের আড়ালে লুকোনোর চেষ্টা করি না কেন তা বিপরীত লিঙ্গের দৃষ্টিতে ঠিকই ধরা পরে যায়। ছোটবেলা থেকেই প্যান্ট-শার্ট পড়ায় অভ্যস্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কখনোই ভেবে দেখার সুযোগ হয়নি, বিশেষ করে কেউ কখনো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় নি যে, প্যান্ট-শার্ট শরীরের আকর্ষণীয় অঙ্গগুলোকে শতভাগ ঢেকে রাখতে মোটেই সক্ষম নয়। এখন প্যান্ট-শার্ট গলে যদি স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো নারীদের সামনে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং তারা যদি বখাটে পুরুষদের মতো অনৈতিক কাজে আমন্ত্রণ জানায়, তবে বর্তমান সময়ে সমাজের খুব কম পুরুষের পক্ষেই আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে ইউসুফের (আঃ) মতো নারীদের আমন্ত্রণ উপেক্ষা করা সম্ভব হবে। Continue reading “লিবাসুত তাক্বওয়া : অবশেষে শার্ট ছেড়ে পাঞ্জাবী গায়ে জড়ালাম”