যুদ্ধাপরাধের বিচার : জাতিকে বিভক্তির মাধ্যমে হিংসাত্মক যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার করা হলো ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা ও ঢাকসুর সাবেক জিএস, ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আজমকে। তাকে গ্রেফতার করা হবে, এটি বছর খানেক আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দ যেমন জানতেন, জানতেন রাজনীতি সচেতন মহল, ঠিক তেমনি ভাবে অধ্যাপক গোলাম আযমও তার গ্রেফতারের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন, এবং বলা যায় এ কারনে নিশ্চিন্তও ছিলেন তিনি। গ্রেফতার যখন হতেই হবে, তখন শুধু শুধু চিন্তা করে সময় নষ্ট করার মানে হয় না। তাইতো তিনি কিছুদিন আগে একুশে টিভির নাছোরবান্দা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, “জুলুম করলে জুলুম সহ্য করতে হবে“। তিনি যেমন জানতেন প্রহসনের বিচারের নামে তার উপর জুলুম করা হবে, ঠিক তেমনি তিনি এটিও জানতেন যে আল্লাহই সর্বক্ষমতাবান, তাঁর কাছেই সবাইকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তাই তিনি ছিলেন নির্ভিক, তাইতো তিনি দৃপ্তকন্ঠে ঘোষণা করেন, “যদি অন্যায়ভাবে মৃত্যু দেয়া হয়, তাহলে শহীদ হওয়ার গৌরব পাওয়া যায়। সে হিসাবে, ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসাবে, শাহাদাতের কামনা করি” । তবে আদালতে যে ফাঁদে ফেলে তাকে গ্রেফতার করা হবে এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চমহল ছাড়া আর কারোই জানা ছিলনা বলেই মনে হয়। কেননা আদালত অধ্যাপক গোলাম আযমকে ১১ তারিখ হাজিরা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়, অন্যথায় গ্রেফতারী পরোয়ানার কথা জানানো হয়। নির্দিষ্ট তারিখে সকালেই আদালতে হাজিরা দিতে এসে সরকারের প্রতারণার ফাঁদে আটক হন বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত নব্বই বছর বয়সী মজলুম জননেতা অধ্যাপক গোলাম আযম। Continue reading “যুদ্ধাপরাধের বিচার : জাতিকে বিভক্তির মাধ্যমে হিংসাত্মক যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা”

সম্মিলিত ওলামা পরিষদ রাজাকার : শেখ হাসিনা

শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়টি চূড়ান্ত করার পরও ২৬ ডিসেম্বর কেন এবং কার স্বার্থে হরতাল আহ্বান করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ প্রশ্ন তোলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘হানাদারদের দোসর ও স্বাধীনতা বিরোধীদের ডাকা হরতালে বিরোধীদলীয় নেতা সমর্থন দিয়েছেন। অথচ তিনি নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী দাবি করেন।’

উল্লেখ্য সম্মিলিত ওলামা মাসায়েখ পরিষদ শিক্ষানীতির প্রতিবাদে ২৬ ডিসেম্বর সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। একই সঙ্গে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলেরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা মুহিউদ্দিন খান বলেন, যে শিক্ষানীতি পাস করা হচ্ছে তা ধর্মহীন। ধর্মহীন শিক্ষা আল্লাহর কাছে কোনো শিক্ষা নয়। একতরফাভাবে এ শিক্ষা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ শিক্ষানীতি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা কত?

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলো যারা
আমরা তোমাদের ভুলবো না..

না, শহীদদের প্রতি কৃত আমাদের এ ওয়াদা আমরা রক্ষা করতে পারিনি, তাদেরকে স্মরণে রাখতে পারি নি, এমনকি তাদের নামগুলো পর্যন্ত আমরা সংরক্ষণ করতে পারি নি, শুধু তাদের নামকে ব্যবহার করে আখের গোছাতে পেরেছি।

কেউ কি সত্যি করে বলতে পারেন, একাত্তরে কতজন দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করে শহীদ হয়েছিলেন? “ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা”, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, গবেষণাপত্র আর ইতিহাস গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। কিন্তু তা সুস্পষ্ট কোন জরিপের ভিত্তিতে নয় বরং রাশিয়ার একটি পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী বলা হয়ে থাকে, স্বাধীনতার পরে শেখ মুজিবুর রহমানও ত্রিশ লক্ষ শহীদের দাবী করেছিলেন। Continue reading “মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা কত?”

ইতিহাসের ঋণ শোধা যায় না রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে

মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে আটত্রিশ বছর আগে। গঙ্গার জল গড়িয়েছে অনেক, মিশেছে সাগর মোহনায়, দীর্ঘ পথচলায় সাথী হয়েছে রাশি রাশি পলিমাটি, জেগে উঠেছে উর্বরা স্বর্ণদ্বীপ। পিছন পানে ফিরে তাকানোর সময় কোথা? এখন সময় শুধু চাষাবাদের, এখন সময় শুধু সোনানী ফলফসলের। যে অতীতকে শুদ্ধ করা যেত কয়েক পুরুষ আগে, সে ব্যর্থতার দায় সেই প্রজন্মের। তাদের ব্যর্থতায় বেড়ে ওঠা নতুন উর্বরা ফসলী জমি চাষাবাদের বদলে রক্তে রঞ্জিত করার মাঝে সফলতা কোথায়? এভাবে ইতিহাসের ঋণ শোধা যায় না, এভাবে ব্যর্থতার দায় এড়ানো যায় না। Continue reading “ইতিহাসের ঋণ শোধা যায় না রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে”