কিছু মন্ত্রীকে টিভিতে দেখা গেলেই দ্রব্যমূল্য বাড়ে : যুবলীগ

বাজার সিন্ডিকেটের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রীর যোগসাজসে যে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায় তার স্পষ্ট ইংগিত দিল যুবলীগ। যুবলীগের দাবী, কিছু মন্ত্রীকে টিভি পর্দায় দেখা গেলেই দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যুবলীগ কার্যালয়ে আয়োজিত কেন্দ্রীয় কমিটির আলোচনা সভায় নেতারা বলেন, জনগণ বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের অনেক মন্ত্রীকে ভয় পায়। তাদের পতাকাবাহী গাড়ি দেখলেই জনগণের মনে ভয় জাগে। এছাড়া কিছু মন্ত্রীকে টিভিতে দেখা গেলেই দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে।উল্লেখ্য কিছুদিন আগে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রীর  বৈঠকের পরপরই ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যায়। এভাবে বিভিন্ন মন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি দিন দিন বিপর্যয়ের মাঝে ডুবে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মালয়েশিয়া থেকে সাড়ে চার লাখ অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিককে ফিরে আসতে হবে, মন্ত্রীর এমন দাবীর পর পরই মালয়েশিয়ায় ব্যাপক ধরপাকর শুরু হয় বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। ঠিক তেমনি অর্থমন্ত্রী যখন বলেন, তেত্রিশ লাখ বিনিয়োগকারীর বাজারে ধস নামানো যাবে না, তার পর পরই পুঁজিবাজার ভূপতিত হয়েছে। যুবলীগ সরাসরি কোন মন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করলেও এটা স্পষ্ট যে যুবলীগের অপকর্মে যেমন সরকার বিব্রত, ঠিক তেমনি সরকারের কিছু মন্ত্রীর অপকর্মে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনও বিব্রত। তবে জনগণের তো আর বিব্রত হওয়ার সুযোগ নেই, তারা হয় বিদ্রোহী। আর তাই তো ইতোমধ্যেই সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষ, যার প্রমাণ পৌর নির্বাচন।

ঐ আসে ছাত্রলীগ, পালাও বাঁধন পালাও

আজকের এ রাতে, হ্যা মাত্র এক যুগ আগে ২০০০ সালের প্রথম প্রহরে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে হাজারো ছাত্রের মাঝে, পত্রপত্রিকার ক্যামেরার সামনে ছাত্রলীগের গুন্ডারা মেতেছিল দ্রৌপদীর বস্ত্রাহরণে। ছাত্রলীগের চিহ্নিত নেতা রাসেলের নেতৃত্বে সেদিন শুধু বাঁধনেরই বস্ত্রহরণ করেনি, ওরা পুরো বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের ইজ্জতকেই লুটে নিয়েছিল। সেদিন ছাত্রলীগের নেতাদের এমন অপকর্মে অনেকেই সাফাই গেয়েছেন, “দুয়েকজনকে দিয়ে তো আর পুরো দলের বিচার করা যায় না”। হ্যা, তা হয়তো ঠিক কিন্তু যারা রাধুনী তারা জানেন একটি ভাত টিপেই বলা যায় পুরো পাতিলের ভাত তৈরী কি না। কিন্তু না, শুধু একটি নয়, সারা বাংলাদেশের যেখানেই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ইভটিজিং বিভিন্ন অভিযোগে যত অঘটন ঘটেছে সবক্ষেত্রেই ছাত্রলীগের নামটাই ঘুরে ফিরে বার বার এসেছে। আর এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগের অপকর্মের অভয়ারণ্য। জাহাঙ্গীরনগরে ধর্ষণে সেঞ্চুরি করে ছাত্রলীগ নেতা মানিক ক্যাম্পাসে মিষ্টি বিতরণ করে নারী নির্যাতনের যে নজীর স্থাপন করেছিল তা আরব্য রজনীর দেশের গল্পকেও হার মানায়। মানিকের মতো ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের অমর কীর্তিতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক ছাত্রীর ছাত্র জীবন শেষ হয়েছে, বিয়ে, সংসার ভেঙ্গেছে অসংখ্য নারীর।

Continue reading “ঐ আসে ছাত্রলীগ, পালাও বাঁধন পালাও”

লাশের রাজনীতিতে নতুন মুখ ফারুক, পালাও সুমন! পালাও!!

পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,
সে ছিল গাছের আড়েই।

কাজী নজরুল ইসলামের লিচু চোর ছড়ার মতোই শেষ পর্যন্ত ফারুক হোসেন প্রাণ দিল মগবাজার জামায়াত অফিসের কাছে গিয়েই। লাশের রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে ট্রাজেডির নায়ক হয়ে মায়ের বুক খালি করে চলে গেলেন ফারুক হোসেন। তার মৃত্যুতে হত্যামামলার আসামী হিসেবে জামায়াত নেতৃবৃন্দের রিমান্ড চলছে এখন।

হরতালের পূর্ব রাত। সারাদেশে টানটান উত্তেজনা। কি হয় কি হয়, কি জানি কি হয়। সবার মনেই আশংকা ছিল প্রতিহিংসার রাজনীতিতে অভ্যস্ত আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের এ হরতালকে কিছুতেই সহজভাবে মেনে নেবে না। আমি নিজেও হরতালের আগের রাতে অর্থাৎ ২৬ জুন ২০১০ তারিখ সন্ধ্যায় ফেসবুকে স্টাটাস দিয়েছিলাম, “হরতালকে ধ্বংসাত্মক প্রমাণে আওয়ামী লীগ রাতের আধারে অগ্নিসংযোগ ও বোমাবাজী করতে পারে। বিগত আমলে বিআরটিসি বাসে গানপাউডার ঢেলে গণহত্যার যে নজীর তারা রেখে গেছে তা আবারো করতে পারে বিরোধীদের ফাঁসাতে। তাই হুশিয়ার”। আশংকা যে একেবারেই অমূলক ছিল না, হরতালের আগের সন্ধ্যায় বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ, যুবলীগের কর্মীরা ঠিকই অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আতংকিত করে তোলে। এর আগেই হরতাল যে কোন মূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল ছাত্রলীগ। সবার আশংকাকে সত্যে পরিণত করতে আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ দেশব্যাপী নারকীয় তান্ডব চালিয়ে যে বর্বরতার নজীর স্থাপন করেছে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল। Continue reading “লাশের রাজনীতিতে নতুন মুখ ফারুক, পালাও সুমন! পালাও!!”

র‌্যাবের (RAB) পোশাকে ছাত্রলীগের তান্ডব

১৩৭০ দিন পর অনুষ্ঠিত হলো দেশ ব্যাপী সর্বাত্মক সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। স্বত:স্ফূর্ত হরতালে পুলিশী ও আওয়ামী লীগের এ্যাকশনে বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমশের মবিন চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপির সাংসদ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ রাজধানীতে বিএনপি জামায়াতের দুই শতাধিক নেতা-কর্মীসহ দেশব্যাপী সহস্রাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন, গুরুতর আহত হন সাংসদ এ্যানি ও বরিশালে এমপি সরোয়ারসহ   ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী। হরতাল নিয়ে জনমনে প্রথমে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও আওয়ামী লীগ হরতালের বিকল্প সকল গণতান্ত্রিক পথগুলো আগেই বন্ধ করে দেয়ায় হরতাল ভিন্ন কোন গতি ছিল না দেশবাসীর।  তাই মন্দের ভালো হিসেবে আওয়ামী অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে স্বতস্ফূর্তভাবে জনগণ সাড়া দেয়, এমনকি  জাতীয় সংসদের স্পীকার আবদুল হামিদ এডভোকেটও হরতাল পালন করেন। একদলীয় বাকশালের প্রবর্তক আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের ভাষা বোঝেনা, তবে গণতন্ত্রের সবচেয়ে খারাপ গালি ‘হরতাল’ ভালো বোঝে। তাই আওয়ামী লীগের অপশাসনের বিরুদ্ধে তাদের পরিচিত ভাষায়ই জনতা জবাব দিয়েছে। Continue reading “র‌্যাবের (RAB) পোশাকে ছাত্রলীগের তান্ডব”