মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১০ (অধিকার)

সংক্ষিপ্ত বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন
১ জানুয়ারি – ৩১ ডিসেম্বর ২০১০

১১ জানুয়ারি ২০০৭ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০০৮ পর্যন্ত বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা বলবৎ ছিলো। জরুরি অবস্থা চলাকালীন সেনা সমর্থিত অনির্বাচিত তত্ত্ববধায়ক সরকারকে উচ্ছেদ করে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা বাংলাদশের জনগণের জন্যে সহজ কাজ ছিলো না। জরুরি অবস্থার পরবর্তীতে ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ এ অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট অংশগ্রহণ করে এবং এই নির্বাচনে মহাজোটের বিশাল বিজয় হয়। এরপর ৬ জানুয়ারি ২০০৯ এ জেনারেল হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা, প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর জাতীয় প্রতিষ্ঠানের অভাব এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ছিলো বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। মহাজোটের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে দেশে ন্যায়বিচার, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের অঙ্গীকার করে। কিন্তু কার্যত ২০১০ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক ঘটনা ঘটে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ছিলো উল্লেখযোগ্য। ২০১০ এ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কার্যকর ও ফলপ্রসূ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গঠনের ব্যর্থতা গণতন্ত্রের চর্চাকে ব্যাহত করেছে। বর্তমান বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, গণতান্ত্রিক পন্থায় সরকার নির্বাচিত হলেই গণতন্ত্র চর্চা অব্যহত থাকবে তা বলা যায় না, যদিনা নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগসহ অপরাপর রাষ্ট্রীয় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানসমূহ সাংবিধানিক, আইনী এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠিত নীতিসমূহের আলোকে দায়িত্ব পালন করে। Continue reading “মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১০ (অধিকার)”

মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১০ (এমআরটি)

সেন্টার ফর মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এমআরটি) এর গবেষণায় উঠে এসেছে ২০১০ সালের বাংলাদেশের মানবাধিকারের লংঘনের ভয়ংকর চিত্র:

একনজরে ১২ মাস

*   মোট খুন ৩,২৯১  প্রতিদিন গড়ে ৯ জনেরও বেশি
*    গুপ্ত হত্যা ২৯৪ (গত তিন মাসে)
*    ধর্ষণের ঘটনা  ৫১১টি
*    রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত ২৩৪, আহত ১৫,৮৮৬
*   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মৃত্যু ১৭০
*    সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৪৮১, আহত ১৫৫৬৯
*    সীমান্তে নিহত ১১৬ জন
*    সাংবাদিক নিহত ৪, নির্যাতনের শিকার ২০৬ জন
*    চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ২২৬২টি, নিহত ২৮০ জন
*    আত্মহত্যা ৩৫৯ জন (আট মাসে) Continue reading “মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১০ (এমআরটি)”