আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : সংবিধান প্রনয়ণ আন্দোলনে

সদ্য স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের নাক পর্যন্ত ডুবে ছিলো হাজারো সমস্যায়। এর মধ্যে দেশের জন্য একটি আদর্শ শাসনতন্ত্র প্রণয়ন ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করা হয়। যারা ভারতীয় উপমহাদেশে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রকৃত পক্ষে ইসলামী রাষ্ট্র সম্পর্কে তাদের সত্যিকারের ধারণা বা সদিচ্ছা ছিল কিনা তা একটি বিশাল প্রশ্ন হয়ে আছে। যারা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করেছেন, যারা ইসলামের নাম নিয়ে লাখো মুসলমানকে ভারত থেকে পাকিস্তানে হিযরত করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন, সাতচলি্লশে যাদের জন্য হাজার হাজার সাধারণ মুসলমান শিখ ও হিন্দুদের সম্মিলিত দাঙ্গায় শহীদ হয়েছেন, লক্ষ লক্ষ লোক পৌত্রিক ভিটেমাটি হারিয়ে পাকিস্তানে উদ্বাস্তু হয়েছেন, তারাই পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর মুখোশ খুলে স্বরূপে আবির্ভূত হন। Continue reading “আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : সংবিধান প্রনয়ণ আন্দোলনে”

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : শুভ পরিণয়

বারো বছরের কিশোরী মাহমুদা বেগম এক্কা দোক্কা খেলার ছলে পা দিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে ছোট্ট একটা গর্ত তৈরী করেন। গর্তটা থেকে পা উঠিয়ে এবার হাতটি রাখলেন। নরম কাদামাটির গর্তে হাতটি ঢুকাতেই শক্ত পাথরের মতো একটা টুকরোর সাথে হাতে ঠোক্কর লাগে। গর্ত থেকে হাতটি তুলতেই তার চোখ চানাবড়া হয়ে যায়। হাতের তালুতে উঠে আসে জ্বলজ্বলে উজ্জল এক হিরের টুকরো। কিছুতেই দৃষ্টি ফেরানো যায় না অমন হিরে থেকে।

মুহূর্তেই চারপাশে লোক জড়ো হয়ে যায়। সবাই অবাক, এতো সুন্দর হিরে পেল কোথায় মেয়েটা। মুরুব্বীরা সাবধান করে বললো, খুব সাবধানে রাখো হিরেটি বেটি, যত্ন করে রেখো, পাছে আবার কেউ ছিনিয়ে না নেয়। Continue reading “আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : শুভ পরিণয়”

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : রাজনৈতিক ময়দানে পদচারণা

যে মুসলিম জাতি দোর্দান্ত প্রতাপের সাথে রাজনীতির ঘোড়া দাবড়িয়ে বেরিয়েছে চতুর্দিকে, যাদের নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হয়রত মুহাম্মাদ (সাঃ) রাজনীতিকে রাঙিয়েছেন আদর্শিক রঙে, নিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন সত্যের সমরে ইসলামের সূর্য যখন পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়তে শুরু করে তখন তাঁরই অনুসারীরা “ইসলামে রাজনীতি হারাম” বলে ফতোয়া দিয়ে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে মসজিদের কোনে খিল এটে ইসলামকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।

মাওলানা মওদূদী (রহঃ) উপলব্দি করেন যে মুসলমানদের মাথা উচু করে চলতে হলে কুরআনকে গেলাফের কারাগার থেকে মুক্ত করে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে চলার সুযোগ দিতে হবে। কুরআন ঝাড়ফুঁক বা তাবিজ হিসেবে ভুত তাড়ানোর জন্য কিংবা রোগব্যাধি সাড়াতে পৃথিবীতে নাজিল করা হয় নি বরং কোরআনের মূল কাজ হলো সমাজের রন্ধে রন্ধে যে অসুখ দানা বেঁধেছে তার মূলোচ্ছেদ করা। আর এ জন্য কুরআনকে শেলফ থেকে মুক্ত করে সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য মওদূদী রাসূলের (সাঃ) অনুসরণে আদর্শিক রাজনীতির পুর্ণজাগরণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে উপলব্ধি করেন। Continue reading “আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : রাজনৈতিক ময়দানে পদচারণা”

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : লেখালেখিতে হাতেখড়ি

“শহীদের রক্তের চেয়ে জ্ঞানীর কলমের কালি উত্তম”। মওদূদী (রহঃ) তার জীবনে হাদীসের এ বাণীকে এতো গুরুত্ব দিতেন যে কলমকেই তার জিহাদের প্রধান হাতিয়ার বানিয়ে নেন। তিনি তার জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন জ্ঞানার্জনে এবং গ্রন্থ রচনায়। দিনের শেষে যখন সমগ্র পৃথিবী ঘুমের কোলে মাথা লুকায়, তখন তিনি বসে পড়তেন বইপত্র আর কাগজ-কলম নিয়ে। রাতের পর রাত তিনি পার করেছেন অধ্যয়ন করে, দ্বীনের খেদমতে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় ও সমসাময়িক সমস্যাবলী নিয়ে মৌলিক গ্রন্থ রচনায়। Continue reading “আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : লেখালেখিতে হাতেখড়ি”

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : কর্মমুখর জীবন

বৈচিত্রময় কর্মমুখর জীবনের অধিকারী সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহঃ)। তার কর্মজীবনের ব্যাপ্তির দিকে তাকালে হতবাক হয়ে যেতে হয়। মাঝে মাঝে মনে হয় মওদূদী (রহঃ) কোন ব্যক্তি নন, যেন একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নাম।

মওদূদী (রহঃ) তার কর্মজীবন শুরু করেন সাংবাদিকতা দিয়ে। বাবার ইন্তেকালের পরে জীবিকার তাগিদেই তাকে ১৯১৮ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয় সাংবাদিকতার মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং পেশায়। অবশ্য আগে থেকেই তিনি একটি শীর্ষস্থানীয় উর্দু পত্রিকায় সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতেন। Continue reading “আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : কর্মমুখর জীবন”

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : শিক্ষা জীবন

“জ্ঞান মুসলমানদের হারানো সম্পদ, যেখানেই তা পাবে কুড়িয়ে নেবে”-হাদীসের এ বাণীটি মওদূদী (রহঃ)-এর জীবনে প্রভাব ফেলেছিল কিনা তা জানা যায় না, তবে শিক্ষার প্রতি তার ছিল আজন্ম অনুরাগ।

মাদরাসায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণের পূর্বেই তার বাবা তাকে নিয়ে যান এক আদর্শ শিক্ষক ওস্তাদ মাওলানা আবদুস সালাম নিয়াযীর (মৃতু্য ১৯৫৪ ইসায়ী) কাছে।

কথিত আছে আরবী ভাষা ও ব্যাকরণ (নাহু ও সরফ), মা’কুলাত, মায়ানী ও বালাগাত বিষয়ে তার সমকক্ষ কোন পন্ডিত সে যুগে ভারত বর্ষে ছিলেন না। কুরআন, হাদীস ও আরবী ভাষায় তার জ্ঞান-গরিমা ছিল অদ্বিতীয়। অত্যন্ত স্বাধীন চেতা পন্ডিত ছিলেন তিনি এবং এ কারনেই কখনো কোন চাকুরী গ্রহণ করেন নি বরং আতর বানিয়ে ও তার ব্যবসা করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। অর্থের প্রতি নির্মোহ এই পন্ডিত জ্ঞান দানের বিনিময়ে কখনো কারো কাছ থেকে কোন অর্থ গ্রহণ করেন নি। Continue reading “আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : শিক্ষা জীবন”

আল জিহাদ ফিল ইসলাম : কিছু কথা

তখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি। দেশব্যাপী হরতাল পালিত হচ্ছে। একটা মফস্বলের স্কুল পড়ুয়া ছাত্র হয়েও হরতালের পক্ষে মিছিলে শামিল হলাম। ইসু্যটা এতোই গুরুত্বপর্ূণ ছিল যে সাধারন জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে মিছিলে অংশগ্রহণ করে, এমনকি কাঁচাবাজারও বন্ধ করে দিয়ে দোকানীরা মিছিলে যোগ দেয়। মিছিলের এক পর্যায়ে কিছু যুবক কয়েকটি রিক্সার হাওয়া ছেড়ে দেয়। কখন হাওয়া ছাড়া হয় তা মিছিলের ভীড়ে আর আমার দেখার সুযোগ হয় না।

বাসায় এসে [email protected]@!52721 তোপের মুখে পরি। তার কলিগ বাসায় নালিশ করে গেছেন যে আমি রিক্সার হাওয়া ছেড়েছি। অথচ রিক্সার হাওয়া ছাড়ার ঘটনাটি আমার চোখের আড়ালেই ঘটেছে। আমি কিছুতেই কাউকে বিশ্বাস করাতে পারি না যে ঘটনার সাথে আমার নূন্যতম সমর্্পক নেই। বার বার এই মিথ্যে অপবাদ শুনতে শুনতে এক সময় আমার মনেও সন্দেহ জাগে, আসলেই আমি হাওয়া ছেড়েছি কিনা। হয়তো ছেড়েছি, মিছিলের উত্তেজনায় হয়তো ভুলে গেছি। কিন্তু আমার সঙ্গী-সাথীদের কাছ থেকে আমার নিরপরাধ হওয়ার প্রমাণ পরে পাওয়া যায়, ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করার পর সব পরিস্কার হয়ে যায়। Continue reading “আল জিহাদ ফিল ইসলাম : কিছু কথা”

মওদূদী (রহ:) : ইসলামের আলোয় আলোকিত এক নেতা

“আল্লাহর দ্বীন সিংহ শার্দুলের ন্যয় বাহাদুর মানবের জন্য অবর্তীর্ণ, বাতাসের গতিকে পাল্টে দেয়ার হিম্মত রয়েছে যাদের বুকে, যারা অল্লাহর রঙকে প্রাধান্য দেয় ধরার সকল রঙের উপরে, ভালোবেসে অল্লাহর রঙে রাঙাতে চায় বসুন্ধরা। নদীর গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানোর জন্য মুসলমানকে সৃষ্টি করা হয় নি বরং জীবনের বহমান স্রোতধারার দিক সিরাতুম মুস্তাকিমের পানে ঘুরিয়ে দেয়ার হিম্মত রয়েছে যার, সেইতো মুসলমান”।—-সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহঃ)

অন্ধকার যুগের পরিসমাপ্তি টেনে যে মুসলিম জাতি পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তর সত্যের আলোয় আলোকিত করেছিল, গাঢ় অমানিষার বুক চিরে যারা ছিনিয়ে এনেছিল সুবেহ সাদেকের স্বর্গীয় আভা, এনেছিল সোনালী সূর্যোদয়, যারা অজ্ঞতা আর মূর্খতার কফিনে পেরেক ঠুকে জ্বালিয়েছিল জ্ঞানের আলো, তারাই একসময় আবার হারিয়ে যায় অন্ধকারে। যাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতির মর্যাদা দেয়া হয়েছিল তারাই পদে পদে লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, অত্যাচার, নীপিড়নের শিকার হয়ে ধুকে ধুকে কীটপতঙ্গের মতো প্রাণ হারাতে শুরু করে। মুসলমানদের অবস্থা এতো সঙ্গীন হয়ে পড়ে যে অনেকেই নিজেদেরকে মুসলিম পরিচয় দিতে লজ্জা পেতে শুরু করে, অনেকেই ধর্মান্তরিত হয়ে ফিরে যায় পৌত্তলিকতার দিকে। নিজেদের অজ্ঞতা আর অক্ষমতার ঝাল মেটাতে ইসলামকেই তারা তাদের টার্গেটে পরিনত করে দোষারোপ করা শুরু করে, তাদের কাছে মনে হয় দূনিয়ার তাবৎ সমস্যার মূল ইসলাম। ইসলামের নাম নিশানা পৃথিবীর ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারলেই পৃথিবী হয়ে উঠবে পূতঃপবিত্র, থাকবে না কোন লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, হতাশা। অথচ অতীতের দিকে একবারও ফিরে তাকানোর সাহস হয় না তাদের, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পৃথিবীতে আলোর মশাল জ্বালানোর হিম্মত, সে তো দূরের কথা। Continue reading “মওদূদী (রহ:) : ইসলামের আলোয় আলোকিত এক নেতা”

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহঃ) : ডাইরেক্ট একশন

কাদিয়ানীদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণার দাবীতে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় কনভেনশন ১৯৫৩ সালের ২৭ ফ্রেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা মওদূদী (রহঃ) কাদিয়ানী সমস্যাকে পৃথকভাবে বিবেচনা না করে বরং ইসলামী সংবিধান প্রণয়ন আন্দোলনের মধ্যেই শামিল করার জোর দাবী জানান। কিন্তু একের পর এক অনুরোধ, মিটিং, মিছিল প্রভৃতি করেও যখন কাদিয়ানীদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণার জন্য পাকিস্তান সরকারকে সম্মত করা অসম্ভব হয়ে দাড়ায় তখন সর্বদলীয় কনভেনশন সরকারের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন ঘোষণা করে বসে। মাওলানা মওদূদী (রহঃ) কিংবা জামায়াতে ইসলামী কোনভাবেই ডাইরেক্ট একশনের পক্ষে ছিল না বরং সর্বদলীয় কনভেনশন থেকেই জামায়াত কনভেনশনের সাথে তাদের সম্পর্কচ্ছেদ করে। এমনকি ৪ ও ৫ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে ডাইরেক্ট একশনের তীব্র নিন্দা করা হয় এবং এর ভয়াবহ পরিণতির কথা বিশ্লেষণ করে জনসাধারণকে ডাইরেক্ট একশন থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়। Continue reading “আলোকিত নেতা মওদূদী (রহঃ) : ডাইরেক্ট একশন”

আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : জন্ম ও শৈশব

যে কারো জীবনী পড়লে প্রথমেই দেখতে পাই, “তিনি একটি সম্বান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন” এমন বাণী জুড়ে দেয়ার রেওয়াজ। তাই সম্বান্ত মুসলিম পরিবার শব্দগুলো একটা হাস্যকর উপমায় পরিণত হয়েছে। তারপরও লিখতেই হচ্ছে সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহঃ) একটি অত্যন্ত সম্বান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯০৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ভারতের দক্ষিণাত্যের (বর্তমান মহারাষ্ট্র) আওরঙ্গাবাদে সাইয়েদ আহমদ হাসানের (১৮৫৫-১৯২০) ঐরসে এবং রোকেয়া বেগমের গর্ভে জন্মলাভ করেন। Continue reading “আলোকিত নেতা মওদূদী (রহ:) : জন্ম ও শৈশব”